গৌতম মণ্ডল, গঙ্গাসাগর: রাজ্য প্রশাসনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় এবার নির্বিঘ্নে শেষ হল গঙ্গাসাগর মেলা। প্রায় ৫৫ লক্ষ পুণ্যার্থী স্নান সেরে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরে গেছেন। কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি। কারও মৃত্যুও হয়নি। বৃহস্পতিবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মেলার সমাপ্তি ঘোষণা করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন। দুর্ঘটনাহীন মেলার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি জেলা প্রশাসন ও পুলিশ আধিকারিকদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবারই রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অবস্থান মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘‌যারা বাংলার বদনাম করে তারা এসে গঙ্গাসাগর দেখে যাক। ৫৫ লক্ষের মতো পুণ্যার্থী এবার স্নান করেছেন। একটাও দুর্ঘটনা ঘটেনি। পুণ্যার্থীরা ধীরে ধীরে ফিরছেন।’‌ তিনি জানিয়েছিলেন, ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে সব ধর্মের মানুষ এই সাগরে এসেছিলেন। এটা ভারততীর্থ। ৪৬ জনকে চিকিৎসার জন্য ওয়াটার অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। সবই হয়েছে বিনা পয়সায়। গঙ্গাসাগরের জন্য কেন্দ্র এক পয়সাও দেয়নি।
এই মেলার সাফল্যকে আগামী দিনে বড় মেলা পরিচালনার জন্য মডেল করা হতে পারে বলে মনে করছেন জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। প্রতিবছরের মতো এবার ভিড় সামাল দেওয়া প্রশাসনের কাছে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছিল। জেলা প্রশাসন দক্ষতার সঙ্গে সেই ভিড়ও সামাল দিয়েছে। কীভাবে সম্ভব হল এই কঠিন কাজ?‌ জানা গেছে, কারণ গত কয়েক বছর ধরে হাওড়া থেকে কাকদ্বীপ পর্যন্ত জাতীয় সড়কের পাশে একাধিক বাফার জোন তৈরি করা হয়। ফলে পুণ্যার্থীরা একসঙ্গে জড়ো হতে পারেন না। যানজট হয় না। এ বছর পুণ্যার্থীদের প্রতিটি বাসে ও ভেসেলে গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের জন্য জিপিএস ট্র‌্যাকার লাগানো ছিল। ফলে বাসের অবস্থান বোঝা গিয়েছে। মেলার জন্য অতিরিক্ত ৩৭০০ বাস, ৩২টি ভেসেল ও ৫টি বার্জ চালানো হয়। লট নম্বর আট, কচুবেড়িয়া–সহ সাগরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলিতে ভিড়ের শেষ মুহূর্তের ছবি চলে আসছিল মেলার মেগা কন্ট্রোল রুমে। এই কন্ট্রোল রুমে সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ আসছিল। এবার মেলার জন্য গঙ্গাসাগর সহায়তা নামের একটি অ্যাপ চালু করা হয়েছিল। সেই অ্যাপের মাধ্যমে মেলার যান–চলাচল, ভেসেলের টাইম, নদীতে জোয়ারভাটার সময় জানা যাচ্ছিল।
এবারের মেলায় পুণ্যার্থীদের স্বাস্থ্যের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগীদের দ্রুত কলকাতায় নিয়ে আসার জন্য ছিল ২টি এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স, ৪টি ওয়াটার অ্যাম্বুল্যান্স, ৮৫টি অ্যাম্বুল্যান্স। গড়ে তোলা হয়েছিল অস্থায়ী হাসপাতাল। এবার ২ জন মুমূর্ষু রোগীকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে কলকাতায় আনা হয়। ৩৪ জন রোগীকে ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স করে কাকদ্বীপ ও ডায়মন্ড হারবার হাসপাতালে আনা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার বৈভব তেওয়ারির নেতৃত্বে ১০ হাজার পুলিশ কর্মী কাজ করেছেন। মেলায় ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী সুব্রত মুখার্জি, শোভনদেব চ্যাটার্জি, অরূপ বিশ্বাস, সুজিত বসু, গিয়াসুদ্দিন মোল্লা–‌সহ সাংসদ ও বিধায়করা। কাকদ্বীপের লট নম্বর আটে ছিলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, মন্টুরাম পাখিরা। জেলাশাসক পি উলগানাথন সমস্ত আধিকারিকদের নিয়ে একাধিক সমন্বয় বৈঠক করেন। মেলা শুরুর ঠিক প্রাক মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ঘুরে যান গঙ্গাসাগর থেকে। সেই সময় বৈঠক করে আধিকারিকদের বেশ কিছু নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ মেনে কাজ করে মিলেছে সাফল্য।‌‌

এবারের সাগরমেলা। ছবি: অভিজিৎ মণ্ডল

জনপ্রিয়

Back To Top