আজকালের প্রতিবেদন: নিউ টাউন থেকে অপহৃত ও পরে উদ্ধার হওয়া টংব্রান লুখোই সিং মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীর ভাই নন। বিধাননগর কমিশনারেটকে জানাল মণিপুর সরকার। শুক্রবার অপহৃতের পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছিল, টংব্রান মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীর মাসতুতো ভাই। 
অপহৃত ও অভিযুক্তরা পূর্বপরিচিত। ব্যবসায়িক যোগাযোগ আছে। পাওনা টাকা আদায় করতেই খেলনা পিস্তল ব্যবহার করে অপহরণ করা হয়েছিল টংব্রান ও তাঁর সঙ্গীকে। শুক্রবার রাতে পার্ক সার্কাস এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে ডিনারও করে অপহৃত ও অভিযুক্তরা। সেখান থেকে বেরোনোর পর পুলিশ পাকড়াও করে ৫ অভিযুক্তকে। উদ্ধার হন অপহৃতরা। নিউ টাউন অ্যাকশন এরিয়া ১–‌এ একটি বহুতলের চারতলার ফ্ল্যাটে গত ৬ মাস ধরে সপরিবার ভাড়ায় থাকেন টংব্রান লুখোই সিং। তাঁর স্ত্রী শুক্রবার নিউ টাউন থানায় অভিযোগ করেন। সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ সিবিআই অফিসার পরিচয় দিয়ে ৫ জন তাঁদের ফ্ল্যাটে হানা দেয়। ভেতরে ঢুকে পরিবারের সকলের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় তারা। এর পর আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে টংব্রান ও তাঁর সহকারী মইরাংথেন শান্তা সিং–‌কে অপহরণ করে ওই ৫ জন গাড়িতে তুলে চম্পট দেয়। বিকেলে ১৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে ফোন আসে বাড়িতে। ‌পরিবারের তরফে পুলিশকে জানানো হয়, অপহরণকারীদের মধ্যে দু’‌জন মণিপুরি ও একজন পাঞ্জাবি। 
অভিযোগ পেয়েই এলাকার সিসি টিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অপহরণকারীদের গাড়ির নম্বর জেনে যান গোয়েন্দারা। বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয় তল্লাশি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাতে পার্ক সার্কাস এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় দুই অপহৃতকে। ধরা পড়ে ৫ অপহরণকারী। ধৃতেরা হল পার্ক স্ট্রিট এলাকার বাসিন্দা বিনোদ রাও, মহম্মদ রিয়াজ আলি ও ইদ্রিশ আলি। রিয়াজ ও ইদ্রিশ সম্পর্কে ভাই। এ ছাড়া গ্রেপ্তার করা হয় বালিগঞ্জের বাসিন্দা নিকি খুমাল্লাবাম সিং ও তিলজলার খইরুল রহমানকে। বাজেয়াপ্ত হয় অপহরণে ব্যবহৃত গাড়ি, আদায় করা টাকা, ৩টি নকল পিস্তল–সহ নানা সামগ্রী। অপহরণকারীরা যেহেতু পরিচিত, তাই নিউ টাউনে ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে বেল বাজানোর সময় দরজার আই হোল হাত দিয়ে চেপে রেখেছিল তারা। অপহৃত দু’‌জনের সঙ্গে ওই ৫ জনকে কাঁধে হাত রেখে চারতলা থেকে নিচে নামতে দেখেন প্রতিবেশীরা। অপহরণ করে দু’‌জনকে রাখা হয়েছিল পার্ক স্ট্রিটের হোটেলে।
শনিবার বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের তরফে এক প্রেস বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, টংব্রান লুখোই সিংয়ের মা শুক্রবার নিউ টাউন থানায় দাবি করেছিলেন, তিনি মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। কিন্তু শনিবার সেখানকার মুখ্যমন্ত্রীর একান্ত সচিব চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, ওই নামে মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন্দ্র সিংয়ের কোনও ভাই বা আত্মীয় নেই। এদিকে পরিবারের তরফে পুলিশকে জানানো হয়েছে, একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা চালান টংব্রান লুখোই সিং। সংস্থাটি মণিপুরের। কমিশনারেট সূত্রে খবর, ধৃতেরা দাবি করেছে, টংব্রানের কাছ থেকে টাকা পেত তারা। পাওনা টাকা আদায় করতেই অপহরণ করা হয়েছিল। অপহৃত ও ধৃতদের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ আছে। তবে দাবির সত্যতা নিয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা হচ্ছে। শনিবার ধৃতদের আদালতে পেশ করে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে এনে জেরা চলছে।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top