যজ্ঞেশ্বর জানা, মহিষাদল, ৫ জুন- পুরী ও মাহেশের পরই ব্যাপকতায় ও বৈচিত্রে অনন্যতা দাবি করে মহিষাদলের রথ। পুরীর পরই মাহেশের রথযাত্রা বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এবার ঐতিহ্যবাহী মহিষাদলের রথযাত্রা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিল মহিষাদল পঞ্চায়েত সমিতি। করোনার জেরে প্রশাসনের নির্দেশেই এই সিদ্ধান্ত।
২৪৩ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম লোকারণ্য হবে না মহিষাদলের রথযাত্রায়। এবার রথে চেপে মাসির বাড়িতে যাওয়া হবে না রাজবংশের আরাধ্য দেবতা গোপাল জিউ এবং জগন্নাথদেবের। প্রতিবছরই লক্ষ লক্ষ মানুষের জমায়েত হয় মহিষাদলের রথের মেলায়। ছোলাবাড়ি ও রথতলার মেলা প্রাঙ্গণে ভিড় উপচে পড়ে ভক্তদের। মেলা চলে প্রায় পনেরো দিন। এবার সরকারি নির্দেশে সে সবই বন্ধ। তবে সীমিত সংখ্যক লোক নিয়ে পালিত হবে যাবতীয় আচার–অনুষ্ঠান। ২৩ জুন রথ। তার আগের দিন পালিত হবে ‘নেত উৎসব’‌। রাজবংশের আরাধ্য শালগ্রাম শিলা ‘শ্রীধর জিউ’কে রথে আনা হবে। কলস ও চক্র লাগানো হবে রথের চূড়ায়। সাজানো হবে রথ। কিন্তু টানা হবে না রথের রশি, গড়াবে না চাকা। ভাইরাসের সৌজন্যে বদলে যাওয়া সামাজিক প্রেক্ষাপটে মহিষাদলের রথতলাতেই দাঁড়িয়ে এবার উৎসব কাটবে সেই রথের। 
শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলনে মেলা কমিটি এবং প্রশাসনের তরফে রথযাত্রা না হওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। মহিষাদল পঞ্চায়েত সমিতির সহ–‌সভাপতি তথা মহিষাদল রথমেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তিলক চক্রবর্তী বলেন, ‘‌করোনা পরিস্থিতিতে মহিষাদল রথমেলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আচার–অনুষ্ঠান পালিত হবে। রথযাত্রার দিন সকাল থেকে নিয়ম মেনে পুজো ও ভোগের আয়োজন করা হবে। করোনার জন্য এবার রথ রাস্তায় বেরোবে না।’‌ তিনি আরও জানান, রথতলায় রাখা হবে সজ্জিত রথ। পালকিতে করে গোপাল জিউ ও জগন্নাথদেবকে নিয়ে আসা হবে রথে। ওইদিনই নিয়ম মেনে গুণ্ডিচাবাড়ির মাসিবাড়িতে রাখা হবে বিগ্রহকে। আগে সাতদিন গুণ্ডিচাবাড়িতে উৎসব চলত। এবার তাও বন্ধ রাখা হবে। মহিষাদল রাজ পরিবারের সদস্য হরপ্রসাদ গর্গ বলেন, ‘‌এই প্রথম রথের রশিতে টান পড়বে না। করোনা পরিস্থিতিতে লক্ষ লক্ষ লোকের সমাগম হলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে। তাই সমাজ, জনগণ এবং ভক্তদের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত।’‌ 

মহিষাদলের রথ। ছবি:‌ প্রতিবেদক‌

জনপ্রিয়

Back To Top