মিল্টন সেন, হুগলি, ৫ জুন- ছেদ পড়ল প্রাচীন প্রথায়। করোনা আবহে উবে গেল শ্রীরামপুর মাহেশে জগন্নাথের স্নানযাত্রা উৎসবের জাঁকজমক। ৬২৩ বছরের রথযাত্রার ইতিহাসে এই প্রথম এমন ঘটনা ঘটল শুক্রবার। হাজার হাজার ভক্তের উপস্থিতিতে ২৮ ঘড়া গঙ্গাজল আর দু’মন দুধ দিয়ে প্রায় ১৫ মিনিট ধরে এবার আর চলল না জগন্নাথের স্নানযাত্রা। তার পরিবর্তে পুলিশি পাহারায় স্নানযাত্রা অনুষ্ঠান হল গর্ভগৃহের পাশের ছোট ভোগঘরে। যেটা হওয়ার কথা মন্দির–সংলগ্ন স্নানপিঁড়ির মাঠের নাটমন্দিরে। আর স্নানে ব্যবহার করা হল ১৫ ঘড়া গঙ্গাজল আর দেড় মন দুধ। স্বাভাবিকভাবেই পুণ্যার্থীদের কোনও ঢল দেখা গেল না মাহেশে।
যদিও মন্দির কমিটি আগে থেকেই ঘোষণা করে, স্নানযাত্রা উৎসব এ বছর মাঠে হবে না। মন্দিরের প্রধান সেবাইত সৌমেন অধিকারী জানিয়েছেন, নিয়ম করেই স্নানযাত্রা হয়েছে। শুধুমাত্র কয়েকজন সেবাইতের উপস্থিতিতে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রার বিগ্রহ গর্ভগৃহের পিছনে ভোগঘরে নিয়ে গিয়ে দুধ, গঙ্গজল দিয়ে স্নান করানো হয়েছে। পুণ্যার্থীদের প্রবেশ সেখানে নিষিদ্ধ ছিল। মন্দিরের গেটে ছিল পুলিশের কড়া পাহারা। এদিকে, এ বছর মাহেশের রথের চাকা না ঘুরলেও বা উৎসব না হলেও রথের দিন বৈদিক মতে সব রীতি পালন করার হবে। এ বছর জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রার বিগ্রহ রথে চেপে মাসির বাড়ি যাবে না। সে ক্ষেত্রে শুধু নারায়ণ শীলা নিয়ে মাসির বাড়ি যাবেন সেবাইতরা। নৈহাটির সিংহবাড়িতেও আড়ম্বরহীনভাবে অনুষ্ঠিত হল জগন্নাথের স্নানযাত্রা, জানালেন প্রাণপুরুষ রঞ্জিত পাল। অন্যদিকে, কোনও জাঁকজমক না রেখে নিজের হাতেই জগন্নাথকে এদিন স্নান করালেন বিশ্ব সেবাশ্রম সঙ্ঘের মুখ্যসচিব ঠাকুর সমীর ব্রহ্মচারী।

আড়ম্বরহীন জগন্নাথের স্নানযাত্রা। মাহেশে। ছবি:‌ সৌগত রায়‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top