সঞ্জয় বিশ্বাস ও অলক সরকার‌, দার্জিলিং ও শিলিগুড়ি: পাহাড়ে ফের জনবিক্ষোভের মুখে পড়লেন দার্জিলিঙের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্ত। সেই বিক্ষোভ থেকে ছাড় পাননি গুরুংপন্থী কালিম্পঙের বিধায়ক সরিতা রাইও। তাঁদের গাড়ি ঘিরে কালো পতাকা দেখানো হয়। তোলা হয় গো ‌‌ব্যাক স্লোগান। গোটা ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পাহাড়ে। সাংসদ অবশ্য এটাকে জনবিক্ষোভ না বলে তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তোলেন। আর সাংসদ এই অভিযোগ তুলতেই সমতলের বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি–‌র যুব মোর্চা প্রতিবাদ বিক্ষোভের নামে তাণ্ডব চালাতে থাকে। শিলিগুড়ি হিলকার্ট রোডে বিক্ষোভের কথা বলে পুলিশের গাড়ি আটকে কার্যত ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি করে। সমতলেও উত্তেজনা বাড়তে থাকে। তবে প্রশাসনের কঠোর ভূমিকায় সমস্ত আটকে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
জানা গেছে, দার্জিলিঙের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তের একটি অনুষ্ঠান ছিল কালিম্পঙের সিনজি প্রাইমারি স্কুলে। সেখানেই যাওয়ার সময় সিনজির মন্দিরখোলা চারপুলের কাছে ১০০ জনের কাছাকাছি জনতা সাংসদের গাড়ি ঘিরে ধরেন বলে অভিযোগ। রাস্তা আটকে সাংসদকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। কিছু মানুষ আবার কালো পতাকা দেখানো শুরু করেন। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপস্থিত জনতা গো ‌‌ব্যাক স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠেন। পরিস্থিতি এমন হয় যে, সাংসদকে অনুষ্ঠানে যাওয়া বাতিল করে ফিরে আসতে হয়। ফিরে আসতে হয় গুরুংপন্থী বিধায়ক সরিতা রাই–‌সহ গোটা টিমকেই। স্থানীয় মানুষ চিৎকার করে বলতে থাকেন, ২০১৭ সালে পাহাড়ের ঝামেলায় অসহায় মানুষের পাশে তাঁরা থাকেননি কেন?‌ গোর্খাদের বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নিলেও সে সব পূরণ করা হচ্ছে না কেন। কেন এই প্রতিশ্রুতিভঙ্গ?‌ এতে মুহূর্তে পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে ওঠে। 
বিজেপি সাংসদ অবশ্য অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাকে পরিকল্পনামাফিক হেনস্থা করা হয়েছে। ৮০–‌‌১০০ জন দুষ্কৃতীর অনেকেই মত্ত অবস্থায় ছিল। হাতে অস্ত্রশস্ত্র ছিল। আমাদের দলীয় কর্মীদের ওপর চড়াও হলে অনেকে জখমও হন।’‌ এরপরই তিনি পুলিশকে একহাত নিয়ে জানান, ‘‌আমার গোটা সফরসূচি পুলিশকে জানানো ছিল। তারপরেও এমন হলে সেটা পুলিশের ব্যর্থতা।’‌ কিন্তু পাহাড়ের তৃণমূলের নেতা রাজেন মুখিয়া থেকে বিনয়পন্থী মোর্চার নির্মল ছেত্রি প্রায় সকলেরই বক্তব্য এটা বিজেপি–‌র নাটক। জনবিক্ষোভকে আড়াল করতে অন্যের ওপরে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।’‌ এদিকে, সাংসদের অভিযোগ ছড়াতেই সমতলের শিলিগুড়িতে বিজেপি–‌র যুবমোর্চা বিক্ষোভ কর্মসূচি হাতে নেয়। শিলিগুড়ির জয়মণি ভবন থেকে একটি ধিক্কার মিছিলের ডাক দেওয়া হয়। মিছিলটি জয়মণি ভবন থেকে শুরু হয়ে হিলকার্ট রোড, সেবক রোড পরিক্রমা করে আবারও জয়মণি ভবনের সামনে আসে। এই সময় কিছু অনৈতিক কাজ করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয় বলে জানা গেছে। তাতে ক্ষুব্ধ যুব মোর্চার কর্মীরা পুলিশের দিকে তেড়ে যান। ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। চলে তাণ্ডব। পড়ে বাধ্য হয়ে পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে। উল্লেখ্য, সেপ্টেম্বর মাসেও একইভাবে রাজু বিস্ত পাহাড়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন। 

জনপ্রিয়

Back To Top