আজকালের প্রতিবেদন- ঝাড়খণ্ড থেকে জল ছাড়ার আগে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে কথা বলে নিতে হবে।  বন্যা নিয়ন্ত্রণে দরকার সম্মিলিত মত বা ‘‌ইউনিফায়েড কন্ট্রোল’‌। রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোমবার এভাবেই কেন্দ্রীয় জলসম্পদ, নদী উন্নয়ন ও গঙ্গা পুনরুজ্জীবন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী অর্জুনরাম মেঘওয়ালের সামনে সরব হলেন রাজ্যের সেচমন্ত্রী রাজীব ব্যানার্জি। খোলাখুলি তিনি বলেন, ‘‌সব রাজ্যের জল এই রাজ্য দিয়ে যাচ্ছে। ঝাড়খণ্ডের তেনুঘাট জলাধার থেকে জল ছাড়ার আগে যদি রাজ্যের সঙ্গে কথা না বলা হয়, তবে বন্যা কিছুতেই আটকানো যাবে না।’‌ পরিস্থিতি বোঝাতে এদিন রাজীব ব্যানার্জির সঙ্গে সরব হন রাজ্যের জলসম্পদ মন্ত্রী ‌ড.‌ সৌমেন মহাপাত্রও। দাবি মেনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নির্দেশ দেন, ১৫ দিনের মধ্যে এ ব্যাপারে যেন বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের প্রতিনিধিরা থাকবেন। এ ছাড়া থাকবেন কেন্দ্রীয় জলসম্পদ দপ্তর ও ডিভিসি–র প্রতিনিধিরা।
রাজ্যগুলির মধ্যে যে জলসম্পদ আছে, সেগুলি নিয়ে যে সমস্যা রয়েছে, সেই সমস্যা সমাধানের জন্যই কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সোমবার একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। পূর্বাঞ্চলে এই ধরনের বৈঠক প্রথম। যেখানে যোগ দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, বিহার, ছত্তিশগড় এবং ওডিশা। ছিলেন ওডিশার খাদ্য সরবরাহ দপ্তরের মন্ত্রী সূর্যনারায়ণ পাত্র ও ছত্তিশগড়ের জলসম্পদ দপ্তরের মন্ত্রী ব্রিজমোহন আগরওয়াল। এ ছাড়া রাজ্যগুলির সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের চেয়ারম্যানও উপস্থিত ছিলেন। 
ব্যারেজের পলি তোলার কাজ যে ডিভিসি ঠিকমতো করতে পারছে না, তা তিনি বৈঠকে তুলে ধরেন। বরাদ্দ টাকাও যে ডিভিসি খরচ করতে পারেনি, এদিনের সভায় সেই বিষয়টিও উঠে আসে।
ফ্লাড ম্যানেজমেন্ট এবং ‌কমন বর্ডার ম্যানেজমেন্টের জন্য কেন্দ্রের নির্দেশে রাজ্য যে কাজ করেছে, সে ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত ৩২৫ কোটি টাকা কেন্দ্রের কাছ থেকে রাজ্য পাবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজ্যের সেচমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করবেন তিনি। পাশাপাশি রাজ্যের সেচমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে কাজ মোটেই এগোচ্ছে না। সেই সঙ্গে তিস্তা চুক্তি যে রাজ্যের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে করা যাবে না, সেটিও বলেন তিনি।
এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, একটিমাত্র ট্রাইবুনাল‌ তৈরি করে তার মাধ্যমেই যাতে জলসম্পদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা যায়, সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।‌

রাজীব ব্যানার্জি ও অর্জুন রাম মেঘওয়াল। তাজ বেঙ্গল হোটেলে, সোমবার। ছবি: বিজয় সেনগুপ্ত

জনপ্রিয়

Back To Top