তুফান মণ্ডল, আরামবাগ, ২৮ মে- হঠাৎ দশ মিনিটের কালবৈশাখী একবারে লন্ডভন্ড হয়ে গেল আরামবাগ মহকুমা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত আরামবাগ শহর। বিভিন্ন এলাকায় গাছ ভেঙে পড়েছে বাড়ির ওপর। উপড়ে পড়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। উড়ে গেছে চালকলের চিমনি। মাটির বাড়ির দেওয়াল ধসে পড়েছে, উড়ে গেছে টিনের চাল। এমনই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি আরামবাগ মহকুমা জুড়ে। গাছ চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে আরামবাগের হরাদিত্যের বাসিন্দা লালমোহন রায় গুপ্তের (৪০)। এছাড়াও আরও দু’‌জন একইসঙ্গে জখম হয়েছেন। আরামবাগের দৌলতপুর এলাকার ময়না দাসের বাড়ির ওপর ভেঙে পড়েছে বিশালাকায় গাছ। তিনিও গুরুতর জখম হয়ে আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি। আহত হয়েছেন আরামবাগের ভালিয়া গ্রামের স্বপন মাঝি। 
বুধবার সন্ধেয় হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। তারপর আছড়ে পড়ে কালবৈশাখী। সেই ঝড়ে বেসামাল অবস্থা আরামবাগবাসীর। একের পর এক বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়তে থাকে। বিকট শব্দে ভেঙে পড়ে গাছ। ফলে সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে আরামবাগ মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকা। এর ফলে পানীয় জল সরবরাহে সমস্যা দেখা দেয়। বন্ধ হয়ে যায় মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা। যদিও ঝড় থামার পর থেকেই উদ্ধারকারী দল নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন আরামবাগ পুরপ্রশাসক স্বপন নন্দী ও পুরসভার বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিক ও কর্মীরা। পুলিশ, দমকল কর্মী, প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর, বিদ্যুৎ দপ্তর সকলে একযোগে উদ্ধারকার্য শুরু করে। সারারাত উদ্ধারকার্য চলে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আরামবাগ শহরে ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ পরিষেবা সচল হয়। 

বাড়ির ওপর ভেঙে পড়েছে গাছ। ছবি: প্রতিবেদক‌

জনপ্রিয়

Back To Top