তারিক হাসান- এ যেন অকাল বর্ষা!‌ ঘূর্ণিঝড় ‘‌আমফান’‌–এর অঝোরধারায় বর্ষার মাসগুলিকে হারিয়ে দিল সদ্য শেষ হওয়া মে মাস। অন্তত গত এক মাসে কলকাতায় বৃষ্টি–চিত্র তেমনটাই বলছে। সদ্য সমাপ্ত মে মাসে কলকাতায় বৃষ্টি হয়েছে ৩৮৩.‌৬ মিলিমিটার!‌ আর ১৯৮১ থেকে ২০১০— এই সময়ে বর্ষার জুন, জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর এই চার মাসে কলকাতায় বৃষ্টি হয়েছে গড়ে ৩৩৯.‌৮ মিলিমিটার।
জুন থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি এই সাড়ে চার মাস পশ্চিমবঙ্গে বর্ষাকাল। এর মধ্যে জুন থেকে সেপ্টেম্বরেই বৃষ্টি হয় বেশি। এর মধ্যে গড়ে সব থেকে বেশি বৃষ্টি হয় জুলাই মাসে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য বলছে, ১৯৮১ থেকে ২০১০ এই ৩০ বছরে কলকাতায় জুলাই মাসে গড়ে বৃষ্টি হয়েছে ৩৯৬.‌০ মিলিমিটার। জুনে ৩০০.‌‌৬, আগস্টে ৩৪৪.‌৫ এবং সেপ্টেম্বরে ৩১৮.‌১, অক্টোবরে ১৮০.‌৫ মিলিমিটার। আর এই সময়ে মে মাসে গড়ে বৃষ্টি হয়েছে ১৩৩.‌১ মিলিমিটার।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য বলছে, মে মাসে গড় ‘‌বৃষ্টি মুখর’‌ দিনের সংখ্যা ৭। এবারেও তাই হয়েছে। তবে ছিটেফোঁটা বা হালকা বৃষ্টি হয়েছে আরও ৭ দিন। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সহ–অধিকর্তা সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘‌কোনও দিনে আড়াই মিলিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টি হলে‌ তাকে ‘‌রেইনি ডে’‌ বলা হয়ে থাকে। তার কম বৃষ্টি হলে তাকে এই তালিকায় ধরা হয় না।’‌
সে দিক থেকে দেখতে গেলে এই মে মাসের দিনগুলোয় গড়ে বৃষ্টি হয়েছে অনেক বেশি। কারণ ১৯৮১ থেকে ২০১০ সালের তথ্য অনুযায়ী, জুনে গড়ে ১২.‌৮, জুলাইয়ে ১৭.‌৭, আগস্টে ১৬.‌৯ এবং সেপ্টেম্বরে ১৩.‌৯ দিন বৃষ্টি হয়ে থাকে। সেই তুলনায় মে মাসে এরকম বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ৭ দিনে।
এবার মে মাসে হঠাৎ এত বেশি বৃষ্টি কেন?‌ সঞ্জীববাবু জানিয়েছেন, ‘‌প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা কোনও বড় ঘূর্ণিঝড় হলে তার প্রভাবে বেশি বৃষ্টি হয়ে থাকে। এবার যেমন ২০ মে ‘‌আমফান’‌ যেদিন আছড়ে পড়েছিল সেদিনই বৃষ্টি হয়েছে ২৪৪.‌২ মিলিমিটার। বাকিটা অন্য কয়েকটা দিনে কালবৈশাখী ঝড়বৃষ্টির প্রভাবে।’‌ সাম্প্রতিক কালে মে মাসে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে ২০০৯ সালে। সেবার ঘূর্ণিঝড় ‘‌আয়লা’‌ আছড়ে পড়েছিল। সে বছর মে মাসে বৃষ্টি হয়েছিল ২২৮.‌৫ মিলিমিটার। ‘‌আমফান’‌–এর তাণ্ডবে বৃষ্টি, তাকেও ছাড়িয়ে গেল।

যাদবপুরে পতন আর একটি কৃষ্ণচূড়া গাছের। ছবি:‌ বিজয় সেনগুপ্ত‌‌‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top