আজকালের প্রতিবেদন: আমফানের জেরে রাজ্যে তছনছ রেলের পরিকাঠামো। রেললাইন বা স্টেশনের পাশাপাশি কলকাতায় দক্ষিণ–পূর্ব ও পূর্ব রেলের সদর দপ্তরও ক্ষতিগ্রস্ত এই প্রলয়তুফানে। ১ জুন থেকে আরও ট্রেন চলবে। কলকাতাও ফের উত্তরবঙ্গ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সঙ্গে রেলপথে যুক্ত হচ্ছে। এদিনই টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইন্টারনেট পরিষেবার অভাবে বিঘ্নিত হয় অনলাইনে টিকিট বিক্রিও। হাওড়া–নিউ দিল্লি কোভিড–১৯ এসি স্পেশাল ট্রেনটির সময় বিকেল ৫টা ৫–এর পরিবর্তে পিছিয়ে করা হয় রাত ৯টা।
১ জুন থেকে আরও ১০০ জোড়া ট্রেন চালাবে ভারতীয় রেল। এর মধ্যে রয়েছে রাজ্যের অনেকগুলি ট্রেন। কিন্তু এদিন বেলা ৩টে পর্যন্ত ১০০ জোড়া ট্রেনের সন্ধানই মেলেনি আইআরসিটিসি–র ওয়েবপোর্টালে। আইআরসিটিসি সূত্রে খবর, তাঁরা আঞ্চলিক রেল থেকে কোনও লিঙ্ক পাননি। পূর্ব বা দক্ষিণ–পূর্ব রেল সূত্রে খবর, ইন্টারনেট পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ায় রেলের স্বাভাবিক কাজকর্ম বিঘ্নিত হচ্ছে। আইআরসিটিসি–র গ্রুপ জেনারেল ম্যানেজার দেবাশিস চন্দ জানান, আমফান তাঁদের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। আমফানের কারণেই লকডাউনের সময় তাঁদের বেস কিচেন থেকে প্রতিদিন অসহায় মানুষদের হাতে খাবার তুলে দিতে পারলেও এদিন তাঁরা পারছেন না। তবে আসানসোলের দিকে পরিস্থিতি কিছুটা ভাল থাকায় শ্রমিক স্পেশ্যালে খাবার দিতে অসুবিধে হচ্ছে না। 
আমফানে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে পূর্ব রেলের শিয়ালদা দক্ষিণ শাখায়। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক নিখিল চক্রবর্তী জানান, স্টেশনের শেড উড়ে গিয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। কাকদ্বীপ, নামখানা— এই সব জায়গায় ক্ষতি সবচেয়ে বেশি। দক্ষিণ–পূর্ব রেলের শালিমার, টিকিয়াপাড়া, হলদিয়া প্রভৃতি জায়গায় আমফানের দাপট ছিল বেশি। দক্ষিণ–পূর্ব রেলের সিপিআরও সঞ্জয় ঘোষ জানিয়েছেন, তাঁদের বহু জায়গায় স্টেশন এবং ওভারহেডের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এমনকী, দক্ষিণ–পূর্ব রেলের সদর দপ্তর গার্ডেনরিচও ক্ষতিগ্রস্ত আমফানে।

জনপ্রিয়

Back To Top