‌আজকালের প্রতিবেদন: ‘‌রাজ্যপাল যা করে বেড়াচ্ছেন তা অসাংবিধানিক। সম্মানীয় পদটির অপব্যবহার করছেন তিনি।’‌ রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের ভূমিকার ফের কড়া সমালোচনা করলেন তৃণমূলের মহাসচিব এবং শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি। বুধবার সেনেট বৈঠক স্থগিত থাকলেও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে হাজির হন রাজ্যপাল। সেখানে কার্যত হুমকির সুরে তিনি বলেন, আইন তাঁর হাতে যা ক্ষমতা দিয়েছে চাইলে তিনি অনেক ব্যবস্থা নিতে পারেন। 
রাজ্যপালের এ ধরনের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন পার্থবাবু। বলেন, ‘‌উনি সাংবিধানিক প্রধান। কিন্তু এমনভাবে কথা বলছেন যেন উনিই প্রশাসনিক প্রধান। কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে কার্যকর করার ক্ষমতা যেন ওঁর আছে। প্রশাসনিক প্রধান হওয়ার ইচ্ছা থাকলে সরাসরি রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ভোটে জিতে আসতে পারেন। দিনের পর দিন উনি যা করছেন তাতে রাজ্যপালের মতো সম্মানীয় পদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। যা শোভনীয় নয়। উনি ওঁর পদটিকে অসম্মানিত করার সঙ্গে সঙ্গে অপব্যবহারও করছেন। ওঁর কার্যকলাপ অসাংবিধানিক। ওঁকে অনুরোধ করছি, পদের মর্যাদা বজায় রাখুন। যেখানে সেনেট বৈঠক হচ্ছে না সেখানে তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার কী দরকার ছিল?‌ এর থেকেই ওঁর উদ্দেশ্য বোঝা যাচ্ছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। ওঁকে পর্যটক বলে ঠিকই বলা হয়েছিল। উনি কখনও বটানিক্যাল গার্ডেন যাচ্ছেন, কখনও প্রাতর্ভ্রমণ করতে রবীন্দ্র সরোবর যাচ্ছেন, কখনও জেলায়, কখনও বিশ্ববিদ্যালয়ে। আবার বিধানসভাতেও যাবেন ‌নাকি স্থাপত্য দেখতে। স্থাপত্য দেখতে হলে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে যান। উনি কি হুজুগে চলছেন?‌ যে ধরনের কথা বলছেন তার মধ্যে রাজনৈতিক বক্তব্যই বেশি। রাজ্যের জন্য কোনও গঠনমূলক বক্তব্য নেই।’‌ ‌বুধবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেট বৈঠক অনিবার্য কারণে স্থগিত রাখা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও তিনি এদিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে আসেন। দ্বারভাঙা ভবন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ঘুরে দেখেন। ওই সময় ক্যাম্পাসে উপাচার্য সোনালি চক্রবর্তী ব্যানার্জি, সহ–‌উপাচার্য আশিস চ্যাটার্জি এবং রেজিস্ট্রার দেবাশিস দাস, লাইব্রেরিয়ান সৌমিত্র সরকার–‌সহ কোনও আধিকারিক ছিলেন না। কেন তাঁরা ছিলেন না, তাঁর ব্যাখ্যা চাইবেন বলে রাজ্যপাল জানান। তিনি বলেন, ‘‌আইন আমার হাতে যে ক্ষমতা দিয়েছে, চাইলে উপাচার্য, সহ উপাচার্য–‌সহ অন্য আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারি।’‌ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপাচার্যের ঘরের চাবি থাকে কেয়ারটেকারের কাছে। সুতরাং উপাচার্য নিজে তাঁর ঘর বন্ধ রেখেছেন ব্যাপারটি সেরকম নয়। যা হচ্ছে তা দপ্তরের নির্দেশ মেনেই। 
‌রাজ্যপাল এদিন জানান, তিনি রাজ্যের যে কোনও জায়গায় যেতে পারেন। আজ, বৃহস্পতিবার সকালে তিনি বিধানসভা ঘুরতে যাবেন। জানা গেছে, বিধানসভা ঘুরে দেখতে চেয়ে রাজ্যপাল অধ্যক্ষ বিমান ব্যানার্জির কাছে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। অধ্যক্ষ তাঁকে সৌজন্যবশত আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মধ্যাহ্নভোজেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। মার্শাল তঁাকে স্বাগত জানাবেন। এদিন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁকে ফুলের স্তবক দেওয়া হয়। কর্মীদের একাংশ তাঁদের কিছু দাবিদাওয়া রাজ্যপালকে জানান।‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top