অমিতকুমার ঘোষ, কৃষ্ণনগর: সোমবার ভারত বন্‌ধের দিন রাজ্যের সব সরকারি অফিসে কর্মীদের হাজিরা নিশ্চিত করতে হবে। রবিবার কৃষ্ণনগরে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের নদিয়া জেলা সম্মেলনে একথা বলেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জি।  
সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘‌সোমবার বন্‌ধ ডাকা হলেও সরকারি কর্মীরা যেন সব অফিস খোলা রাখেন। সব অফিসে ৯৯ শতাংশ হাজিরা চাই। বন্‌ধের ইস্যুগুলিতে আমাদেরও সমর্থন আছে। কিন্তু আমরা কর্মনাশা বন্‌ধ চাই না।’‌  কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের কড়া সমালোচনা  তৃণমূলের মহাসচিব বলেন, ‘বেড়েই চলেছে পেট্রোল–ডিজেলের দাম। ‌ডলারের তুলনায় টাকার দাম পৌঁছেছে সর্বকালীন রেকর্ডে। মানুষের আজ দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে। তাই আমরা ইস্যুগুলো সমর্থন করব। তবে বন্‌ধ না করে প্রতিবাদ মিছিল করব।’‌ 
এদিন তাঁর ভাষণে পার্থ চ্যাটার্জি বলেন, সরকারি কর্মচারী সংগঠনে কোনও রকম গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বরদাস্ত করা হবে না। সকলকেই এক ছাতার তলায় আসতে হবে। মন্ত্রী বা জেলার নেতা কেউই যেন গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে প্রশ্রয় না দেন। কৃষ্ণনগর রবীন্দ্রভবনের সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘‌১৭ টি সংগঠনকে এক জায়গায় আনা হয়েছে অনেক কষ্ট করে। সংগঠনে নানারকম মত থাকতেই পারে । কিন্তু সকলকেই একটা ছাতার তলায় আসতে হবে। সংগঠনের রাজ্য আহ্বায়ক দিব্যেন্দু রায়, সৌম্য বিশ্বাস ও তপন গড়াই একসঙ্গে বসে যে কমিটি গঠন করে দেবেন সেই কমিটিই সকলকেই মানতে হবে।’‌ 
পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘‌অভিযোগ করা হয় সরকারি কর্মচারীদের জন্যে রাজ্য সরকার কিছুই করেনি। কথাটা ঠিক নয়। আমাদের মনে রাখতে হবে, এই সরকার আসার পর মাথায় দু লক্ষ কোটি টাকার দেনা থাকা সত্ত্বেও প্রতি মাসের এক তারিখ বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।’‌ এদিন তিনি আরও বলেন, ‘‌এই সরকার চাইল্ড কেয়ার লিভের ব্যবস্থা করেছে, যথাসম্ভব ডি এ দেবার ব্যবস্থা করেছে। ফলে কর্মচারীরা যেন দাবিদাওয়া তোলার পাশাপাশি নিজেদের কাজটাও ঠিকমতো করেন। অনেকসময় পেনশনের ফাইল পড়ে থাকে, এমনকি মেডিক্যাল বিলও পড়ে থাকে। এইসব কাজ যেন কর্মচারীরা ফেলে না রাখেন।’‌ তিনি বলেন, ‘‌সরকার সব সময়ই সরকারি কর্মীদের প্রতি সহানুভূতিশীল। তঁাদের দাবিদাওয়াকেও গুরুত্ব দেয়। পাশাপাশি সরকারি কর্মীদেরও কাজ করতে হবে। তা হলে সরকারেরও লাভ হবে। এখনও অনেক মানুষের মনে সরকারি কর্মীদের সম্পর্কে একটা নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। সেই ধারণা যে সব সময়ই সত্য, তা নয়। তবে এই ধারণা তৈরি হল কেন? কিছু অপ্রীতিকর ব্যাপার তো ছিলই।’‌
 প্রসঙ্গত, এদিন কৃষ্ণনগর উওমেনস কলেজের ঘন ঘন অচলাবস্থার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করায় পার্থ চ্যাটাজি৴ বলেন, ‘বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। শিক্ষা দপ্তরকে বলেছি স্থায়ী একটা সমাধান সূত্র বের করতে। তবে কলেজের অধ্যক্ষা এবং অধ্যাপকরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমস্যার আশু সমাধান করতে পারেন।’‌  এদিন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের জেলা সম্মেলনে হাজির ছিলেন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস, তৃণমূলের জেলা সভাপতি গৌরীশঙ্কর দত্ত–সহ অন্যান্যরা। এছাড়াও এদিন ছিলেন বিধায়ক পুণ্ডরীকাক্ষ সাহা, কল্লোল খান, শঙ্কর সিং, সত্যজিৎ বিশ্বাস, নীলিমা নাগ, হাসানুজ্জমান সেখ, অরিন্দম ভট্টাচার্য প্রমুখ। নদিয়া জেলা পরিষদের বিদায়ী সভাধিপতি বাণীকুমার রায়, সহকারি সভাধিপতি শ্রীমতি সারথী বিশ্বাসও উপস্থিত ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের তিন রাজ্য আহ্বায়কের মধ্যে দুইজন দিব্যেন্দু রায় এবং সৌম্য বিশ্বাসও ছিলেন। কিন্তু তৃতীয় আহ্বায়ক তপন গড়াই উপস্থিত ছিলেন না।
এবিষয়ে পার্থ চ্যাটার্জিকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ‌এবিষয়ে তঁার কিছু জানা নেই। তবে তিনি বিষয়টি নিয়ে তপন গড়াইকে জিজ্ঞাসা করবেন। এই সম্মেলনের পরে পার্থবাবু নদিয়া জেলা পরিষদের সভাকক্ষে দলের নবনির্বাচিত ৪৫ জন জেলা পরিষদের সদস্যের সঙ্গে কথা বলেন। উল্লেখ্য, পার্থ চ্যাটার্জি দলের তরফে নদিয়া জেলার পর্যবেক্ষক।

জনপ্রিয়

Back To Top