স্বদেশ ভট্টাচার্য, বাদুড়িয়া, ১৬ এপ্রিল- ভোট যে এসে গেছে তা মালুম হবে বাদুড়িয়ার রাস্তায় বাঁশের মাচা দেখে। দেওয়াল লিখন, পোস্টার–ব্যানার, সবই আছে। কিন্তু পাড়ায় পাড়ায় চোখে পড়বে না নির্বাচনী কার্যালয়। তার জায়গায় বাঁশের মাচা। এই মাচা কালচার বাদুড়িয়ার ভোট উৎসবের একটা নিজস্ব পরিচিতি রয়েছে। রাস্তার ধারে বাঁশের চটার তৈরি মাচাই বলে দেবে জনতা কার দিকে ঢলছে। ভোটের আগে বাদুড়িয়ার রাস্তার ধারে মোড়ে মোড়ে তৈরি হয়েছে অস্থায়ী মাচা। মাচার উপস্থিতি বলবে না শাসক দলের সন্ত্রাস। বরং রাজনৈতিক সহনশীলতাকেই তুলে ধরে বাদুড়িয়ার ‘‌মাচা সংস্কৃতি’‌। এখন থেকে সেখানে তর্ক–‌বিতর্ক, অঙ্কের হিসেব নিকেশ, প্রার্থীদের দোষ গুণের চুলচেরা বিশ্লষণে গরম মাচাগুলি‌।  রাস্তার পাশে খুঁটির ওপর বাঁশের চটা ফেলে তৈরি মাচা। তার ওপর মাদুর অথবা পলিথিনের বস্তা পাতা। কোনও মাচার মাথায় নারকেল পাতা অথবা পলিথিনের ছাউনি। অনায়াসে জনা ১৫ মানুষ সেখানে বসতে পারেন। সকাল থেকেই চলে জটলা। বিকেলের রোদ পড়লে গুলতানি জমে ওঠে। চলে রাত পর্যন্ত। সঙ্গে দফায় দফায় চা সিঙাড়া, চপ মুড়ির দেদার ব্যবস্থা। বেশি রাতে প্রার্থী বা এলাকার নেতারা না আসা পর্যন্ত আলোচনার আসার ভাঙে না। যদিও ভিড় তখন অনেকটাই পাতলা। ‘‌গুরুত্বপূর্ণ’‌ কর্মীরা সেই পরের সারাদিনের তথ্য পর্যালোচনা করে পরবর্তী ভোট নকশা তৈরি করেন।  উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার এই মাচা সংস্কৃতি আজকের নয়। তারাগুনিয়া, রঘুনাথপুর, আরশুল্লা, শ্রীকাটি, রামচন্দ্রপুর, আটুরিয়া–সহ গ্রামের রাস্তা মাচার পর মাচা। আটুরিয়ার আমারুল বৈদ্য বলে, মূলত ক্লাব গুলোয়  রাজনীতির রঙ যাতে না লাগে সেই জন্য এই মাচা। আর নির্বাচনী কার্যালয় করা হলে ঘেরা জায়াগা করতে হয়। সেখানে খোলা মেলা ব্যাপারটা থাকে না। আমাদের এই খুল্লমখুল্লা রাজনৈতিক আলোচনা অনেক সুবিধা। রাজনৈতিক বিদ্বেষ তেমন দানা বাঁধে না। এও জানা গেল, এই মাচা চালাতে গেলে দম লাগে প্রার্থী বা দলের। কেননা, দিনে ২–‌৩ হাজার টাকা খরচ আছে। এই খরচ টানতে না পারলে মাচা ভোটের আগে মাঝপথে তুলে ফেলতে হয়। সেক্ষেত্রে ভোটের ফলও কার্যত গ্রামের মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়ে যায়। বাগুড়িয়ার রাস্তায় সব দলের মাচাই চোখে পড়বে। শাসক দলের মাচাও যেমন আছে তেমনি কংগ্রেস, বিজেপি, বামেদের মাচাও রয়েছে বহাল তবিয়তে। 

পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে মাচায় বসে চলছে জোর আলোচনা। বাদুড়িয়ার আটুরিয়া গ্রামে। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top