‌প্রিয়দর্শী বন্দ্যোপাধ্যায়, বাগনান: রবিবারের সকাল। বাগনান স্টেশনে রেললাইনের ওপর দিয়ে ট্রেনের দিকে দৌড়ে যাচ্ছেন ৭৫ বছরের এক বৃদ্ধা। প্ল্যাটফর্ম থেকে তখন ছাড়তে চলেছে ডাউন পাঁশকুড়া–হাওড়া লোকাল। এভাবে বৃদ্ধাকে দৌড়তে দেখে সন্দেহ হয় প্ল্যাটফর্মে থাকা সংবাদপত্র বিক্রেতা বিক্রমাদিত্য ঘোষের। দেরি না করে তিনি দৌড়ে গিয়ে শেষ মুহূর্তে রেললাইন থেকে ওই বৃদ্ধাকে সরিয়ে দেন। নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পান বৃদ্ধা। 
ওই বৃদ্ধা বাগনানের বাক্সী গ্রামের বাসিন্দা। নাম আঙুরবালা মাহাতো। থাকেন ছেলে, বৌমা ও নাতির সঙ্গে। ছেলে আনন্দ কলকাতায় কাজ করেন। অভিযোগ, ছেলে–বউমার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি আত্মঘাতী হতে গিয়েছিলেন । এর আগেও দুবার একই চেষ্টা করেছেন তিনি। এদিন সকালে বৌমা লক্ষ্মী মাহাতোর সঙ্গে তাঁর তুমুল অশান্তি হয়। এরপর এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে ভাড়ার ১৩ টাকা নিয়ে বাগনান স্টেশনে পৌঁছন আঙুরবালা মাহাতো। এরপর হঠাৎই স্টেশনের কাছে রেললাইন ধরে দৌড়াতে থাকেন ট্রেন লক্ষ্য করে। সেইসময় হাওড়া থেকে কাগজ নিয়ে বাগনান স্টেশনে সবে নেমেছেন বছর বাইশের সংবাদপত্র বিক্রেতা বিক্রমাদিত্য ঘোষ। বৃদ্ধাকে ছুটতে দেখে তিনিও  পেছন পেছন দৌড়োতে থাকেন। ডাউন প্ল্যাটফর্ম থেকে পাঁশকুড়া লোকাল ছাড়ার কয়েক মুহূর্ত আগে বৃদ্ধাকে লাইন থেকে টেনে সরিয়ে নেন তিনি। এরপর বৃদ্ধাকে বাগনান থানায় নিয়ে গিয়ে বসানো হয়।  প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়। ছেলে আনন্দ মাহাতোকে থানায় ডেকে পাঠানো হয়। তাঁকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করেন পুলিস আধিকারিকরা। শেষে বৃদ্ধাকে ছেলের হাতে তুলে দেওয়া হয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কুলগাছিয়ার জয়নগরের বাসিন্দা বিক্রমাদিত্য যেভাবে ওই বৃদ্ধার প্রাণ বাঁচিয়েছেন তাতে উচ্ছ্বসিত সকলেই। বিক্রমাদিত্যের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন রেল পুলিসের কর্তারাও।‌                  ছবি: সুপ্রতিম মজুমদার

জনপ্রিয়

Back To Top