অমিতাভ সিরাজ, সঞ্জয় বিশ্বাস, দার্জিলিং: বন্‌ধ–রাজনীতি দূর হটো!‌
হ্যঁা, শুনতে অবাক লাগলেও এরকমই চাইছে পাহাড়। আজ এখানে শিল্প সম্মেলনের প্রথম দিনে তা ঘোষণাও করে দিল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। 
দার্জিলিং ও কালিম্পং— এই দুই শৈলশহরকে ‘‌স্ট্রাইক ফ্রি’‌ অর্থাৎ ‘‌বন্‌ধ‌মুক্ত’‌ করা হচ্ছে। মোর্চা সুপ্রিমো ও জিটিএ চেয়ারম্যান বিনয় তামাং বললেন, ‘‌দার্জিলিং ও কালিম্পংকে বন্‌ধমুক্ত বলে ঘোষণা করছি আমরা। পাহাড়ে দ্রুত উন্নয়ন চাই। বন্‌ধ করে অনেক পিছিয়ে গেছে দার্জিলিং। আর এ সব হোক, চাই না। এখন উন্নয়নের কথা ভাবতে হবে। কাজ দিতে হবে এখানকার নবীন প্রজন্মকে।’‌ 
বিনয় যখন এ কথা বলছেন, তার একটু আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি দু’‌‌দিনের ‘‌হিল বিজনেস সামিট’‌–‌এর উদ্বোধন করে মঞ্চে বসেছেন। রয়েছেন রাজ্যের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী থেকে পাহাড়ের রাজনৈতিক দলের নেতারা, বাণিজ্য সংগঠনের প্রতিনিধি, প্রশাসনের শীর্ষ অফিসারেরাও। রয়েছেন শিল্পোদ্যোগীদের মধ্যে হর্ষ নেওটিয়া, সত্যম রায়চৌধুরী, ময়াঙ্ক জালান, রুদ্র চ্যাটার্জি, সঞ্জয় বুধিয়া থেকে সিআইআইয়ের অধিকর্তা চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি, দার্জিলিং চেম্বার অফ কমার্সের পক্ষে কমল আগরওয়াল প্রমুখ। এছাড়াও হোটেল, পরিবহণ ও চা–বাগান অ্যাসোসিয়েশনের শীর্ষকর্তারা। মোর্চা নেতার ঘোষণায় তুমুল হাততালিও পড়ল। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি পাহাড়ের ছেলেমেয়েদের দক্ষতার প্রশিক্ষণে সরকারি উদ্যোগের কথাও জানান। মমতা বলেন, ‘‌আমরা এজন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি। উন্নয়ন পরিকাঠামো ও শিল্প–দক্ষতায় খরচ হবে।’‌
বিনয় তামাং শিল্প সম্মেলন বাস্তবায়িত হওয়ার পেছনে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘দার্জিলিংকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এরকম সম্মেলনের দরকার ছিল। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহণ, পর্যটনে উন্নয়ন চাই। কৃষিজাত শিল্পের সম্ভাবনা খুবই বেশি। হোম টুরিজম দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। আশা করছি এইসব ক্ষেত্রে বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন শিল্পোদ্যোগীরা।’‌
পাহাড়ে শিল্পায়নে তাঁরা যে কতটা আগ্রহী তা এদিন শিল্পপতি হর্ষ নেওটিয়া তাঁর সংক্ষিপ্ত ভাষণে বুঝিয়ে দিলেন। তাঁর কথায়, ‘‌দার্জিলিং আমাদের সবার কাছেই প্রিয় জায়গা। তবে হিংসা বন্ধ করা গেলে অনেক উন্নতি হবে।’‌ সেই সঙ্গে জানালেনও হর্ষ, তাঁরা ইতিমধ্যে ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছেন পাহাড়ে ঘুম ও কার্শিয়াঙে শিল্প প্রকল্পে। তাঁর মতোই শিল্পোদ্যোগী রুদ্র চ্যাটার্জিও বলেন, ‘‌শান্তির পরিবেশ ছাড়া কোনও উন্নয়নই সম্ভব নয়। স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় গুরুত্ব রয়েছে এখানে। চা–শিল্পেও।’‌ কেভেন্টার্স গ্রুপ–‌এর কর্ণধার ময়ঙ্ক জালান বলেন, ‘‌বাংলায় সব জেলায় ফুড প্রসেসিং ইউনিট র‌য়েছে আমাদের। শুধু দার্জিলিঙে নেই। অথচ বিরাট সম্ভাবনা এই শিল্পক্ষেত্রে। আমরা সেই উদ্যোগ নেব। কিন্তু পাহাড়ের মানুষকে বলব, শান্তি স্থাপন করুন, উন্নয়ন হবেই।’‌ তাঁর কথার রেশ ধরেই সিআইআইয়ের অধিকর্তা চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি বলেছেন, ‘‌গত কয়েক মাস ধরে মুখ্যমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে পাহাড়, আমরা আশাবাদী। এখানকার মানু্ষের দক্ষতাকে কাজে লাগাতে হবে।’‌ তাঁর কথায়, ‘‌নতুন স্টার্টআপ এগিয়ে আসুক। উৎকর্ষ কেন্দ্র গড়ে তুলে পাহাড়ের যুবক–‌যুবতীদের দক্ষতাকে কাজে লাগাতে হবে। জিটিএ–‌র সঙ্গে আমরা এই কাজটি করতে পারি।’

জনপ্রিয়

Back To Top