আজকালের প্রতিবেদন- এমন এক দিন গেছে, বন্‌ধ ডাকলেই ব্যারাকপুরের শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে যেত। বন্ধ হত দোকানপাট, স্কুল, কলেজ— সবই। সেই চেহারার আমূল পরিবর্তন হয় মমতা ব্যানার্জি ক্ষমতায় আসার পর। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, দাবিদাওয়া থাকতেই পারে তা বলে কর্মনাশা বন্‌ধ করা চলবে না। যথারীতি জুট মিল–সহ অন্যান্য কলকারখানায় শ্রমিকেরা কাজে আসেন। ব্যাঙ্ক, স্কুল, কলেজ, অফিস, বাজার— সবই খোলা ছিল। বিটি রোড, বারাসত রোড, ঘোষপাড়া রোড দিয়ে যান–চলাচল ছিল স্বাভাবিক। সকালের দিকে ইছাপুর স্টেশনে কংগ্রেস কর্মী–সমর্থকেরা কিছুক্ষণের জন্য রেল অবরোধ করলেও তা হটিয়ে দেয় পুলিস।
এদিকে, বন্‌ধের দিন হাওড়ার জনজীবন কার্যত স্বাভাবিক থাকলেও দাশনগরের শানপুর মোড় ও চ্যাটার্জিপাড়ায় দুটি বাস ভাঙচুর করেন বন্‌ধ সমর্থনকারীরা। শানপুর মোড়ে হাওড়া–ডিহিভুরশুট রুটের একটি বাস ও চ্যাটার্জিপাড়ায় ধর্মতলাগামী একটি সরকারি বাস ভাঙচুর হয়। এরই সঙ্গে শানপুর মোড়ে বন্‌ধ সমর্থনকারীরা দফায় দফায় রাস্তা অবরোধ করেন। পুলিস অবরোধ তুলতে গেলে অবরোধকারীদের সঙ্গে পুলিসের ধস্তাধস্তি হয়। সেখান থেকে ৬ জনকে আটক করে পুলিস। হাওড়া স্টেশনের ছবিও ছিল স্বাভাবিক। হাওড়া শিল্পাঞ্চলের ছবিটা ছিল অন্যান্য দিনের মতোই। পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুর, সোনারপুর, জয়নগর, বিষ্ণুপুর, মহেশতলা, ভাঙড়, সুন্দরবনের ক্যানিং, বাসন্তী, গোসাবা–সহ শিল্পাঞ্চল বজবজেও বন্‌ধের কোনও প্রভাব পড়েনি। তবে এদিন বন্‌ধ সমর্থনকারীদের বিক্ষোভে লক্ষ্মীকান্তপুর, বারুইপুর, ডায়মন্ড হারবার ও বজবজ শাখায় ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হয়। ভোর ৫–২০ মিনিটে লক্ষ্মীকান্তপুর শাখার মথুরাপুর স্টেশনের কাছে ওভারহেড তারে কলাপাতা ফেলে আপ–ডাউন লাইনে রেল–চলাচল বন্ধ করে দেন বন্‌ধ সমর্থকেরা। ফের দক্ষিণ বারাসত স্টেশনের কাছে আপ লাইন ওভারহেড তারে কলাপাতা ফেলে দেওয়া হয়। বেলা ১১টা পর্যন্ত কার্যত এই শাখায় ট্রেন–চলাচল ব্যাহত হয়। চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ ও নিত্যযাত্রীদের। সুভাষগ্রাম ও বজবজ শাখার আক্রা স্টেশনেও সকালের দিকে রেল অবরোধ করেন কংগ্রেস সমর্থকেরা। পূর্ব রেলের জনসংযোগ আধিকারিক রবি মহাপাত্র জানান, এদিন ৭টি ডাউন ও ২টি আপ ট্রেন বাতিল করতে হয় শিয়ালদা সাউথ ও নর্থ ডিভিশনে।
অন্যদিকে, দোকান বাজার, যান–চলাচল স্বাভাবিক ছিল হুগলি জেলায়। স্কুল, কলেজ, সরকারি অফিস, জেলার ফেরিঘাটগুলিতে বন্‌ধের কোনও প্রভাব পড়েনি। এদিন সকালে কোন্নগরে রেল অবরোধ করেন বন্‌ধ সমর্থকেরা। আপ–ডাউন দুই লাইনেই ট্রেন–চলাচল কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে। ডানকুনি ওভারব্রিজের নিচে রেললাইনে বসে পড়ে অবরোধ করা হয়। শ্রীরামপুর–সহ বৈদ্যবাটি ১১ নং রেলগেটে অবরোধ করা হয়। এদিন বৈদ্যবাটি সুরেন্দ্রনাথ রায় বালিকা বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। 

তথ্যসূত্র:‌ উদয় বসু, প্রিয়দর্শী বন্দ্যোপাধ্যায়, গৌতম চক্রবর্তী, মিল্টন সেন‌‌‌‌

ডানলপ মোড়, সোমবার। ছবি: ভবতোষ চক্রবর্তী

জনপ্রিয়

Back To Top