আজকালের প্রতিবেদন- গা–জোয়ারি করে বন্‌ধ করতে গিয়ে ট্রেন এবং বাস আটকাতে গেছিলেন ধর্মঘটের সমর্থকরা। বিরক্ত–ক্ষুব্ধ যাত্রীরা পাল্টা বিক্ষোভ দেখিয়ে তুলে দিলেন সেই অবরোধ।
সোমবারের ভারত বন্‌ধে রাজ্যের অন্তত দু’টি জায়গায় এই ঘটনা ঘটেছে। যা সাম্প্রতিককালে নজিরবিহীন। ওই ঘটনা বন্‌ধ সমর্থকদের কাছে এক নিশ্চিত এবং অমোঘ সঙ্কেতও বটে। 
প্রথম ঘটনাটি ঘটে এদিন সকালে যাদবপুর স্টেশনে। সকাল ৮টা নাগাদ আপ এবং ডাউন ট্রেন আটকে পড়ে অবরোধে।  আটক যাত্রীরা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। বাধ্য হয়ে মিনিটকুড়ি পরে সরে যান ধর্মঘটীরা। ফের শুরু হয় ট্রেন পরিষেবা। 
প্রায় একই সময়ে পূর্ব মেদিনীপুরের মেচেদায় অবরোধে আটকে পড়েন বাসযাত্রীরা। অবরোধকারীদের সঙ্গে তাঁদের কথা কাটাকাটি হয়। ক্রমে তা গড়ায় বচসায়। ক্ষুব্ধ যাত্রীরা বাস থেকে পথে নেমে সটান অবরোধ তুলে দেন। 
এদিন শিয়ালদা–দক্ষিণ শাখার যাদবপুর স্টেশনে ধর্মঘটের সমর্থনে যখন লাইনে নেমে রেল অবরোধ করেন ধর্মঘটীরা, তখন ট্রেনে ছিল উপচে–পড়া ভিড়। তিল ধারণের জায়গা নেই। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই অফিসযাত্রী। ভিড়ে–ঠাসা লোকাল ট্রেনের জানালা এবং  দরজা থেকে মুখ বাড়িয়েই যাত্রীরা আবেদন করেন বন্‌ধ সমর্থকদের অবরোধ তুলে নিতে। কারণ, তাঁদের অফিস এবং কর্মস্থলে যেতে দেরি হয়ে যাচ্ছে। বাকিদেরও অন্য দরকার রয়েছে। বন্‌ধ সমর্থকরা অবশ্য প্রথমে দাবি করেন, যাত্রীরা জানেন, কেন অবরোধ। তাঁরা বন্‌ধ–অবরোধকে সমর্থনও করছেন। যাত্রীরা পাল্টা জানান, পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ভুক্তভোগী তাঁরাও। কিন্তু ট্রেন আটকে সেই সমস্যার সমাধান হবে না। ট্রেন থেকেই মুখ বাড়িয়ে তাঁরা ধর্মঘটীদের সেকথা বলতে থাকেন। 
প্রথমে পাত্তা না–দিলেও ক্রমশ যাত্রীদের ক্ষোভ বাড়তে থাকে। অবশেষে তাঁদের চাপের মুখে পিছু হটেন ধর্মঘটীরা। তাঁরা ঝাণ্ডা গুটিয়ে লাইন থেকে উঠে পড়েন। চালু হয়ে যায় ট্রেন চলাচল। অবরোধ উঠবে না ভেবে যাঁরা ট্রেন থেকে নেমে লাইন ধরে গন্তব্যের দিকে হাঁটতে শুরু করেছিলেন, তাঁরা তখন ছুটতে শুরু করেন ট্রেন ধরার জন্য। প্রসঙ্গত, শিয়ালদা–দক্ষিণ শাখারই বাঘাযতীন স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে এদিন সকালে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে রেলপুলিস এসে সেই তালা ভেঙে দেয়।
যাদবপুরে যেমন জনতার চাপে ট্রেন অবরোধ তুলে নিতে হয় বন্‌ধ সমর্থকদের, তেমনই মেচেদায় এসইউসিআই সমর্থকদের পাততাড়ি গুটোতে হয় বাসযাত্রীদের ক্ষোভের মুখে। সকাল ৬টা নাগাদ জেলা সদর তমলুকের মানিকতলায় মিছিল এবং অবরোধ শুরু করে এসইউসিআই। সাড়ে ৭টা নাগাদ অবরোধ শুরু হয় মেচেদা উড়ালপুলের নিচে। অবরোধের জেরে দীর্ঘক্ষণ বহু যানবাহন আটকে থাকে। দুর্ভোগের শিকার বাসযাত্রীরা প্রথমে ধর্মঘটীদের অনুরোধ করেন অবরোধ তুলে নিতে। তাতে ফল না–হওয়ায় পথে নেমে ধর্মঘটীদের মুখোমুখি দাঁড়ান তাঁরা। বচসা শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে পুলিস। ততক্ষণে অবরোধকারীরা বুঝেছেন পরিস্থিতি বেগতিক। মানে মানে সরে পড়েন তাঁরা। 
প্রসঙ্গত, এদিন রাস্তায় বাস–ট্রাক নামানোর জন্য অনেক জায়গায় চালকদের হাতে গোলাপফুল দিয়ে অভিনন্দন জানায় তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি। ধর্মঘটে অংশ না–নিয়ে যানচলাচল সচল রাখার জন্য হলদিয়ার সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ড থেকে মিছিল বের করে তৃণমূলের শ্রমিক সংঠন। সেই মিছিল থেকে বাস ও ট্রাকচালকদের হাতে তুলে দেওয়া হয় গোলাপ।‌‌ 
আর অবরোধকারীদের পথে কাঁটা বিছিয়ে দেয় আমজনতা।

 

নেতাজি ইনডোরে মুখ্যমন্ত্রী । ছবি: কুমার রায় 

জনপ্রিয়

Back To Top