আজকালের প্রতিবেদন- সরকারের প্রতিশ্রুতি মতোই সোমবারের বন্‌ধে সচল রইল বাংলা। স্বাভাবিক ছিল ট্রেন, বাস, গাড়ি চলাচল। সরকারি এবং বেসরকারি অফিসে হাজিরা ছিল রোজকার মতো। স্কুল–কলেজ, দোকান–বাজারও ছিল খোলা। নবান্নে হাজিরা ছিল ৯৮ শতাংশ। মহাকরণে ৯৫ শতাংশ এবং রাজ্যের অন্যত্র ৯৭ শতাংশ।
প্রত্যাশিতভাবেই রাজ্যে বন্‌ধ ব্যর্থ হওয়ায় সন্তুষ্ট মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এদিন নজরুল মঞ্চে তৃণমূল আয়োজিত ‘‌ডিজিটাল কনক্লেভ’‌–এ এক অডিও বার্তায় মমতা বলেন, ‘‌কংগ্রেস কারও সঙ্গে আলোচনা না করেই বন্‌ধ ডেকেছে। বাংলায় বন্‌ধের কোনও প্রভাব পড়েনি। এখানে আরও একটা বন্‌ধ ডাকা হয়েছে। আমরা কারও বন্‌ধ সমর্থন করিনি।’‌ নবান্নে মখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌ইস্যুটা সমর্থন করি। কিন্তু বন্‌ধকে নয়। পেট্রোল–ডিজেলের দাম রোজ বাড়ছে। কোথায় শেষ কেউ জানে না। কোনও কোনও রাজ্য কমাচ্ছে ঠিকই। কিন্তু রাজ্য থেকে ১ টাকা– ২ টাকা কমালে কোনও লাভ হবে না। সারা দেশ জুড়ে অর্থনৈতিক বিপর্যয় চলছে। জিএসটি, নোটবন্দি, ডলারের মূল্যবৃদ্ধির ফলে একটা অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা চলছে। গ্যাস–পেট্রোল–ডিজেলের দাম বাড়ছে আর টাকার দাম কমছে।’ 
মমতা জানান, ওই সব প্রশ্নে সব বিরোধী রাজনৈতিক দলের ধর্নায় তাঁরা যোগ দিয়েছেন। কিন্তু তাঁর কথায়, ‘একটা বন্‌ধ হলে অন্তত ৮০ লক্ষ শ্রমদিবস নষ্ট হয়। আমরা এটা একদমই চাই না। বাংলা নতুন করে ঘুরে দঁাড়ানোর চেষ্টা করছে। গত ৭ বছর ধরে সেই চেষ্টাই করছি। হয়েছেও বেশ কিছুটা। বাংলা এখন অনেক বিষয়েই এক নম্বরে। তাই আমরা অবরোধ, বন্‌ধ, ধর্মঘটের বিরোধী। সে যারাই করুক না কেন। হঠাৎ করে কোনও কিছু ঘটলে স্থানীয়ভাবে কেউ অবরোধ করলে কিছু মনে করি না। কিন্তু বন্‌ধ কোনও সমস্যার সমাধান হতে পারে না। শুক্রবার রাতে কংগ্রেসের তরফে আহমেদ প্যাটেল আমাকে ফোন করেছিলেন। তঁাকে বলেছি, বন্‌ধ সমর্থন করতে পারব না। কিন্তু ইস্যুটা সমর্থন করি। ওইদিন আমাদের বিক্ষোভ মিছিল হবে। সেইমতো মিছিল হয়েওছে।’‌  বস্তুত, মমতা বলেন, ‘বনধ হচ্ছে শেষ অস্ত্র। ফলে প্রথমে অন্যভাবে আন্দোলন এবং প্রতিবাদ করা উচিত।’
পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে (এদিনও দাম বেড়েছে পেট্রোল–ডিজেলের, ৫ এর পাতায়)  দিল্লির ধর্নায় তৃণমূলের তরফে সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়কে পাঠানো হয়েছিল। যাতে বিরোধী ঐক্য বজায় থাকে। সেটি জানিয়েছেন মমতা নিজেই। 
এদিন বন্‌ধকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ঘটেছে। বেশ কিছু জায়গায় জোর করে বন্‌ধের সমর্থনে পথ অবরোধ করা হয়েছে। রেলের ওভারহেড তারে কলাপাতা ফেলে ট্রেন বন্ধ করা হয় বেশ কয়েকটি জায়গায়। বাস ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। কয়েকটি জায়গায় অবরোধ তুলতে গেলে পুলিসের সঙ্গে বন্‌ধ সমর্থকদের বচসা হয়। পরিস্থিতি সামলাতে হাওড়ার দাসনগর শানপুর মোড়, চ্যাটার্জিপাড়ায় ‌র‌্যাফ নামাতে হয়। 
কলকাতায় হাজরা থেকে ধর্মতলামুখী কংগ্রেসের মিছিল থিয়েটার রোডে আটকায় পুলিস। বন্‌ধ মোকাবিলায় সর্বত্রই কঠোর ছিল প্রশাসন। কলকাতায় অবরোধ, জোর করে গাড়ি আটকানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মোট ৯৯ জনকে। এর মধ্যে কংগ্রেসের ৮৭ জন এবং এসইউসিআই–এর ১২ জন। তবে এ নিয়ে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
কলকাতা তো বটেই, রাজ্যের সব জেলাতেই জনজীবন ছিল স্বাভাবিক। দুর্গাপুর বা ব্যারাকপুরের মতো শিল্পাঞ্চলেও কলকারখানায় হাজিরা ছিল অন্যান্যদিনের মতোই। রাজ্য সরকারের তরফে অতিরিক্ত বাসের ব্যবস্থা করা ছিল। ফলে যাত্রীরাও স্বচ্ছন্দে যাতায়াত করতে পেরেছেন। সময়মতো পৌঁছতে পেরেছেন কর্মস্থলে।
বন্‌ধ সমর্থন করে কংগ্রেস ও বামেরা বিভিন্ন জেলাশহরে মিছিল করে। কোথাও কোথাও অবরোধও করার চেষ্টা হয়। তবে পুলিস গিয়ে অবরোধ তুলে দেয়। দুর্গাপুরে বন্‌ধ সমর্থকরা স্টেশনে ঢুকতে গেলে তাদের হটিয়ে দেয় পুলিস। 

 

সোমবার সকাল ৯টা। বিধাননগর রোড স্টেশনে অফিসযাত্রীরা । ছবি: কুমার রায়

জনপ্রিয়

Back To Top