উদয় বসু্: গাঁজার নেশায় আসক্ত ছিল দেবাঞ্জন দাস–খুনে ধৃত মূল অভিযুক্ত প্রিন্স সিং। পাশাপাশি বাইক রেস, স্টান্টও করত। প্রেমিকার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর নেশায় ডুবে যায়। নিরুপায় বাবা–মা তাকে নেশামুক্তি কেন্দ্রে পাঠান। সাড়ে তিন মাস চিকিৎসার পর বাড়ি ফেরে। ঠিক এই সময় দেবাঞ্জনের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয় ওই তরুণীর। বন্ধু বিশাল মারুর কাছ থেকে এই সম্পর্কের নিয়মিত ‘‌আপডেট’‌ পেতে থাকে প্রিন্স। নেশামুক্তি কেন্দ্র থেকে সম্প্রতি ছাড়া পায় সে। দেড় মাস ধরে দেবাঞ্জনকে খুনের ছক কষেছিল প্রিন্স। এক বন্ধুর কাছ থেকে জোগাড় করে আগ্নেয়াস্ত্র। প্রিন্সকে দফায় দফায় জেরা করে এ সব চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। প্রিন্স আরও জানায়, খুনের কয়েকদিন আগে তার সঙ্গে দেখা করে ওই তরুণী। উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হলে ওই তরুণীর স্মার্টফোনটি আছাড় মেরে ভেঙে ফেলে সে। ৩০ সেপ্টেম্বর দু’‌জনে ফের দেখা করে। অনুশোচনায় প্রিন্স তার প্রাক্তন প্রেমিকাকে লক্ষাধিক টাকা দামের আইফোন, ৪০ হাজার টাকার পুজোর জামাকাপড় কিনে দেয়। এর পর নবমীর রাতে বিরাটি বান্ধবনগরে প্রিন্সের প্রাক্তন প্রেমিকাকে পৌঁছে দিতে যান দেবাঞ্জন। গাড়ি থেকে নেমে দেবাঞ্জনের দিকে তাকিয়ে হাত নাড়ে ওই তরুণী। তা দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে প্রিন্স। বিশালের স্কুটার নিয়ে তাড়া করে দেবাঞ্জনের গাড়িকে। গাড়িতে পালানোর  চেষ্টা করেন দেবাঞ্জন। বিরাটি স্কুল রোডের কাছে দেবাঞ্জনের গাড়ি আটকায় প্রিন্স। শুরু হয় বচসা। গুলি করা হয় দেবাঞ্জনকে। এই অবস্থায় কিছুটা গাড়ি চালান দেবাঞ্জন। ফের গুলি করা হলে লুটিয়ে পড়েন তিনি। এদিকে, টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর দেবাঞ্জনের প্রেমিকা এবং প্রিন্সের দুই বন্ধু সন্দীপ দাস ও অভিজিৎ মণ্ডলকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। খোঁজ মেলেনি সেই আগ্নেয়াস্ত্রের।

জনপ্রিয়

Back To Top