চন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ও দীপেন গুপ্ত, পূর্বস্থলী ও পুরুলিয়া: নিহত দুই জওয়ানের একজনের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী ১ নং ব্লকের উত্তর শ্রীরামপুরে। নাম সুরজিৎ সরকার (‌২৮)‌। অন্য জন বিশ্বরূপ মাহাতো (‌২৫)। বাড়ি পুরুলিয়ার‌ আড়ষা থানার খুকড়ামুড়া গ্রামে। বুধবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে ছত্তিশগড়ের নাতাইনপুর জেলার দাউদাই থানা এলাকার কাদেনার ক্যাম্পে। 
এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর জানার পর এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া। সুরজিতের বাড়িতে প্রচুর মানুষজনের ভিড়। বছর পাঁচেক আগে হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান সুরজিৎ আইটিবিপি–র কনেস্টবল পদে যোগ দেন। সামনের বৈশাখ মাসে বিয়ে ঠিক হয়েছিল সুরজিতের। তাঁত বস্ত্র বোনার কাজ করা সুরজিতের বাবা পীযূষ সরকার বলছিলেন, ‘দুপুরে ভাত খাওয়ার সময় ফোন আসে। ওর সহকর্মীরা দুঃসংবাদ জানায়। খানকার নাদনঘাট থানা থেকেও ফোন করেছিল।’ সংশ্লিষ্ট পূর্বস্থলী ১নং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দিলীপ মল্লিক বললেন, ‘ওঁদের পরিবারকে সমবেদনা জানানোর কোনও ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। ওঁদের সবরকম ভাবে সহযোগিতা করব।’ 
পুরুলিয়ার বিশ্বরূপ মাহাতোর ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছে ছিল দেশের জন্য কাজ করার। বিএ পড়ার সময়েই যোগ দিয়েছিলেন আইটিবিপি ফোর্সে। ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বাবা ভীমচন্দ্র মাহাতো বলেন, ‘‌কালীপুজোর সময় এসেছিল। ৩ নভেম্বর বাড়ি থেকে গিয়েছিল। এভাবে মৃত্যু খবর আসবে তা কখনও ভাবিনি।’‌ তিন ভাইয়ের ছোট ছিলেন বিশ্বরূপ। বড় দাদা আশিস বাড়িতে থাকেন। মেজো ভাই পুলিশে চাকরি করেন। বাঁকুড়ার খাতড়ায় থাকেন। দাদা আশিস বলেন, ‘‌ছোটবেলা থেকেই বিশ্বরূপের ইচ্ছে ছিল সেনাবাহিনীতে চাকরি করবে। বছর চার আগে পুরুলিয়ার জেকে কলেজে বিএ প্রথম বর্ষে পড়ার সময় যোগ দিয়েছিল আইটিবিপি–তে। প্রথমে রাজস্থান তারপর ছত্তিশগড়ে। দিন দুই আগে বাড়িতে ভিডিও কল করেছিল। সকলের খোঁজ নিল। শীত কেমন পড়েছে জানতে চাইল, বাড়ির সব বিষয়ে খবর নিয়েছিল। এভাবে ভাইয়ের মৃত্যু খবর আসবে তা কখনও ভাবিনি।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top