‌অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায়, মহম্মদবাজার: ৭ দিনের মধ্যে বীরভূমের মহম্মদবাজার ব্লকে দেউচা–পাচামি–দেওয়ানগঞ্জ–হরিণসিঙা কয়লা খনি প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হয়ে যাবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির এই ঘোষণায় জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন আনন্দের ঢেউ। ঝাড়খণ্ড লাগোয়া এই প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ এখন আশায় বুক বঁাধছেন। দুই–এক দিনের মধ্যেই হয়তো তঁাদের এই অঞ্চলে খনি প্রকল্প গড়ে তোলার কর্মতৎপরতা শুরু হয়ে যাবে।
বৃহস্পতিবার দিঘায় বাণিজ্য সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে রাজ্য  দেউচা–পাচামি–দেওয়ানগঞ্জ–হরিণসিঙা কোল ব্লকে কয়লা উত্তোলনের চূড়ান্ত ছাড়পত্র পেয়ে গেছে। তাই রাজ্য দ্রুত এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু করে দিতে চায়। এটি হবে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম কয়লা খনি প্রকল্প। এখানে মাটির নিচে ২.১ বিলিয়ন (২১০২ মিলিয়ন) টন কয়লা মজুত রয়েছে, যা উত্তোলন করা হলে আগামী ১০০ বছর রাজ্যে কয়লার আর কোনও অভাব থাকবে না। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, এই বিস্তীর্ণ প্রকল্প এলাকার মধ্যে যে সব অংশে উচ্ছেদ ও পুনর্বাসনের বিষয় রয়েছে, সেই অংশগুলি বাদ দিয়ে আপাতত যে অংশের প্রায় পুরোটাই সরকারি খাসজমি, অর্থাৎ উচ্ছেদের প্রশ্ন নেই, সেই অংশেই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু করে দেওয়া হবে। ২৪ মাসের মধ্যেই কয়লা উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে কাজ করতে হবে।
জানা গেছে, এই কয়লা খনি প্রকল্প এলাকার মধ্যে দেওয়ানগঞ্জ–হরিণসিঙা অঞ্চলে সরকারি খাসজমি সব থেকে বেশি হওয়ায় উচ্ছেদের সমস্যা কম। এই অঞ্চলে বিস্তীর্ণ সরকারি জমির নিচেই প্রায় ৪০ মিলিয়ন টন কয়লা মজুত রয়েছে। তাই মুখ্যমন্ত্রী দেওয়ানগঞ্জ–হরিণসিঙা অঞ্চলের এই সমস্যামুক্ত অংশেই পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম কয়লা খনি প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু করে দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন। এই বিশাল কয়লা খনি প্রকল্পটি রামপুরহাট বিধানসভা এলাকার মধ্যে পড়ে। স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী আশিস ব্যানার্জি জানান, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা মতোই অত্যন্ত দ্রুত এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে যাবে। মুখ্যমন্ত্রী এই প্রকল্পের দ্রুত রূপায়ণ চান। কেন না, এই প্রকল্প রূপায়িত হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। রাজ্যের বেকার যুবক–যুবতীদের কাছে কর্মসংস্থানের এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে। এর ফলে এই জেলা তথা রাজ্যের অর্থনীতিও চাঙ্গা হবে।
দেওয়ানগঞ্জ ও হরিণসিঙা মৌজা দুটি হিংলো গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত। তৃণমূল পরিচালিত এই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পিয়ালি ব্যানার্জি জানালেন, মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে এই খনি প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করে দেওয়ার ঘোষণা শোনার পর এই এলাকায় আনন্দের জোয়ার বইতে শুরু করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে গত দু’‌দিনে প্রচুর মানুষ পঞ্চায়েত অফিসে এসে আনন্দ প্রকাশ করে গেছেন। এলাকার মানুষ অধীর আগ্রহে প্রকল্পের কাজ শুরুর প্রহর গুণছেন। পঞ্চায়েত প্রধান জানালেন, শুক্রবার জেলা ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের আধিকারিকদের একটি দল এই এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন। মহম্মদবাজার ব্লক তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি কালীপ্রসাদ ব্যানার্জি এদিন দেওয়ানগঞ্জে দঁাড়িয়ে জানালেন, এই প্রকল্প রূপায়ণে মুখ্যমন্ত্রীর আন্তরিকতায় এই এলাকার মানুষ অভিভূত। তঁারা দু’‌হাত তুলে মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন। এই বিশাল কয়লা খনি প্রকল্প এলাকার মধ্যে পড়ছে ৩৭টি আদিবাসী গ্রাম। স্থানীয় আদিবাসী সংগঠনের নেতারা জানান, সঠিক পুনর্বাসন সাপেক্ষে এই প্রকল্পকে তঁারা স্বাগত জানাচ্ছেন।‌

জনপ্রিয়

Back To Top