যজ্ঞেশ্বর জানা, নন্দীগ্রাম: মিড ডে মিলের উচ্ছিষ্ট দিয়ে তৈরি হবে জৈব গ্যাস। উৎপন্ন হবে জৈব সারও। যা দিয়ে স্কুলের বাগানে ফলানো হবে সবজি। আর ওই সবজি দিয়ে মিড ডে মিল রান্না হবে জৈব গ্যাসের চুল্লিতে। বায়োগ্যাস প্লান্টের মাধ্যমে পুরোপুরি রি–সাইক্লিং পদ্ধতিতে এবার থেকে মিড ডে মিল রান্না হবে নন্দীগ্রাম আশদতলিয়া বিনোদ বিদ্যাপীঠে। আর রান্না করা সেই খাবার তুলে দেওয়া হবে পড়ুয়াদের পাতে। 
পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নন্দীগ্রাম ১ ব্লকের এই স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ১৮০০। প্রতিদিন এত ছাত্রছাত্রীর মিড ডে মিল রান্নার জন্য প্রয়োজন হয় প্রচুর শাক–সবজি। যার অব্যবহৃত খোসা এবং ছেলে–মেয়েদের ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট জড়ো হচ্ছিল স্কুলে। বর্জ্য সংগ্রহ এবং ডাম্পিং গ্রাউন্ডের ব্যবস্থা না থাকায় রোজ বাইরে ফেলে আসা সম্ভব হচ্ছিল না স্কুলের পক্ষে। বর্জ্য দূষণে দূষিত হচ্ছিল স্কুলের পরিবেশ। আর এই পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে স্কুল কর্তৃপক্ষ চিন্তাভাবনা শুরু করেছিল বায়োগ্যাস প্লান্টের। সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচিতে এজন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা স্কুলকে দিয়েছে আইওসি–র হলদিয়া রিফাইনারী সংস্থা। 
প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা খরচে শনিবার স্কুলের এই বায়োগ্যাস প্লান্টের উদ্বোধন করেন সংস্থার এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শ্রীবৃজ বেহারী। স্কুলের রান্নাঘরের পাশেই ১০০ কেজির বায়োগ্যাস প্লান্ট বসানো হয়েছে। সেখানেই প্রতিদিন পচনশীল বর্জ্য ফেলা হবে। তার থেকেই উৎপাদিত গ্যাস নলবাহিত হয়ে সরাসরি পৌঁছে যাবে রান্নার ওভেনে। এই গ্যাস দিয়ে টানা ১০ ঘণ্টা রান্না করা যাবে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক আনন্দময় দে বলেন, ‘‌মিড ডে মিলের জঞ্জাল নিয়ে খুব বিপাকে পড়েছিলাম আমরা। মুশকিল আসান করবে এই বায়োগ্যাস প্লান্ট। জ্বালানির সাশ্রয় হবে। জৈব বর্জ্য রি–সাইক্লিং করে গ্যাস ছাড়াও উৎপন্ন হবে জৈব সার। সেই সার ব্যবহার করে স্কুলের বাগানে এবার সবজি ফলানো হবে।’‌ সব মিলিয়ে এই বায়োগ্যাস প্লান্ট এবার থেকে নির্মল পরিবেশ, জ্বালানির সাশ্রয় এবং স্কুলকে স্বনির্ভর করা–সহ বহুমুখী ভূমিকা পালন করবে বলে দাবি স্কুল এবং হলদিয়া রিফাইনারী সংস্থার।

 বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট। ছবি: প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top