বিজয়প্রকাশ দাস,পূর্ব বর্ধমান: মুর্শিদাবাদে সেতুর রেলিং ভেঙে যাত্রীবোঝাই বাস বিলে পড়ে যাওয়ার ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে কৃষক সেতুতে বসানো হচ্ছে রিং ফোর্সড সিমেন্ট কংক্রিট। এছাড়াও এই ব্রিজের জয়েন্টের হাম্প সরিয়ে বসানো হবে শক্তিশালী এক্সপ্যানশন জয়েন্ট। প্রায় ৪৮ বছরের পুরনো কৃষক সেতুর উন্নয়ন ও সংস্কারের জন্য রাজ্য সরকারের কাছ থেকে অনুমোদন মিলেছে মোট প্রায় ৩ কোটি টাকা। ইতিমধ্যেই হাতে এসেছে ৮০ লক্ষ টাকা। তাই জোর কদমে কাজ শুরু করে দিয়েছে জেলা পূর্ত দপ্তর।
এছাড়াও বছর তিনেক আগে জেলার গর্ব এই সেতুর সার্ভে ও পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে সেতুর ভেতরের অংশ মজবুত আছে বলে জানা গিয়েছিল। তা সত্ত্বেও মাঝেরহাটের ঘটনার পর এখন এই সেতুটির হাল কেমন আছে, তা জানতে রাজ্যের পূর্ত দপ্তরের কাছে সেতুটি পরিদর্শন করার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জেলার সমস্ত সেতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একটি কমিটি গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
জেলা পূর্ত দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় নদ–নদী, খাল–বিলের ওপর প্রায় ৩৫ সেতু রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছে এই দপ্তর। এর মধ্যে দুটি সেতু নতুন। একটি ভাতারের খড়ি নদীর ওপর বর্ধমান–কাটোয়া রোডের ওপর নির্মিত নরজা ব্রিজ ও বর্ধমান–কাটোয়া রোডের ওপর দুর্মুট ব্রিজ। বাকি বেশির ভাগ সেতুই পুরনো। তার মধ্যে পূর্ব বর্ধমানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেতু দামোদর নদের ওপর বর্ধমান–আরামবাগ রোডের ওপর তৈরি ‘কৃষক সেতু’। ১৯৭০ সালে এই সেতুটি তৈরি হয়েছিল। অতীতে সেতুটি সংস্কারের জন্য বেশ কয়েকবার জোড়ালো দাবি ওঠার পর পূর্ত দপ্তরের পক্ষ থেকে সেতুর পরীক্ষা–নিরীক্ষা করা হয়েছে। তাতে বেশ কয়েকবার সেতুর উপরিভাগের সংস্কার করা হলেও ভেতরের অংশে কোনও কাজ হয়নি। এই দপ্তরের ইঞ্জনিয়াররা প্রাথমিকভাবে মনে করেন, এর ওপর থেকে গাড়ি চলাচল করলে সেতুর যে কম্পন হয়, তা স্বাভাবিক ভাবেই হচ্ছে।
গত জানুয়ারি মাসে মুর্শিদাবাদে একটি সেতুর রেলিং ভেঙে যাত্রীবোঝাই বাস বিলে পড়ে গিয়েছিল। তাতে মানুষের প্রাণহানি ও জখমের ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনা থেকেই শিক্ষা নিয়ে এই কৃষক সেতুতে রিং ফোর্সড সিমেন্ট কংক্রিট (আরসিসি) বসানোর জন্য ৮০ লক্ষ টাকা অনুমোদন করেছে রাজ্য সরকার। সেই টাকা হাতে আসার পরই তার কাজ শুরু করে দিয়েছে জেলা পূর্ত দপ্তর। পাশাপাশি ২০১৫ সালে সেতু পরীক্ষা–নিরীক্ষার পর সেতুর ভেতরের অংশ মজবুত আছে এবং উপরিভাগের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছিল। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রায় মাস তিনেক আগে এই সেতু সংস্কারের জন্য প্রায় ২ কোটি ৯ লক্ষ টাকা অনুমোদন দেয় রাজ্য সরকার। এই কাজের প্রক্রিয়াও শুরু করে দিয়েছে পূর্ত দপ্তর। তা সত্ত্বেও মাঝেরহাটের ঘটনার পর এই পুরোনো সেতুটি পরিদর্শনের জন্য রাজ্যের পূর্ত বিভাগের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

জনপ্রিয়

Back To Top