যজ্ঞেশ্বর জানা, ময়না: ঐতিহ্য আর পরম্পরা মেনে শুরু হল ময়নার প্রাচীন রাস উৎসব। এবার ৪৫৯ বছরের। মঙ্গলবার সন্ধেয় উৎসবের সূচনা করেন তমলুকের সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারী। হিন্দু–মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ হাতে হাত মিলিয়ে এই পুজোর আয়োজন করে থাকে। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসেন কঁাসাই নদীর পশ্চিম তীরবর্তী ময়নাগড়ের রাস দেখতে। মঙ্গলকাব্যের কাহিনিতে উল্লেখ রয়েছে, রাজা লাউ সেনের রাজত্বের মধ্যে ছিল ময়নাগড়। সেই থেকেই এখানে গড়ে উঠেছিল ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির মেলবন্ধন। যা অটুট আজও।
রাসকে ঘিরে ধর্মীয় সমন্বয়ের ছবি ফুটে ওঠে ময়নায়। সারা গ্রামে সাজো সাজো রব। উৎসবের কাজ কত দূর এগোল দু’বেলা খোঁজ নিয়ে যান উৎসব কমিটির সম্পাদক শেখ জামাল ইসলাম আর ময়নাগড় রাজ পরিবারের সদস্য সিদ্ধার্থ বাহুবলীন্দ্ররা। একটি রাজনৈতিক শক্তি যখন দেশের হিন্দু–মুসলিমকে ভাগ করতে ব্যস্ত, তখন শুধুই সম্প্রীতির কথা বলে, মানববন্ধন গড়ার শক্তি দেয় ময়না। মঙ্গলবার রাসপূর্ণিমার সন্ধেয় বাহুবলীন্দ্র পরিবারের কুলদেবতা শ্যামসুন্দর জিউর রাসযাত্রার সূচনা হয়। শ্যামসুন্দর জিউকে মন্দির থেকে গড়ের পরিখার জলাশয়ে নৌকোয় চাপিয়ে বাজনা, আতসবাজি–সহ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে রাসমঞ্চে নিয়ে আসা হয়। সেই সঙ্গে রাসমেলারও উদ্বোধন হয়। রাসযাত্রার সূচনা হওয়ার পরে সবার জন্য রাসমঞ্চের প্রবেশ দ্বার খুলে দেওয়া হয়। ময়নাগড়ের রাস মেলার মূল আকর্ষণ,সবংয়ের মাদুর ও চিনি দিয়ে তৈরি বিশালাকার বাতাসা ও বিখ্যাত মিষ্টি কদমা। এবারের মেলাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে এসে পৌঁছে গেছেন বিক্রেতারা। সেজে উঠেছে মেলা চত্বর। এ ছাড়াও মেলা প্রাঙ্গণে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সম্প্রীতি সভার আয়োজন করা হয়েছে। ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত এই রাসমেলা চলবে।
ময়না রাজ পরিবারের সদস্য সিদ্ধার্থ বাহুবলিন্দ্র বলেন, ‘‌ধর্মের সমস্ত বিভেদ মুছে গেছে এখানে। রাধাকৃষ্ণের রাসমেলার আনন্দ সবার।’‌ মঙ্গলবার মেলা সূচনার সময় উপস্থিত ছিলেন ময়নার বিধায়ক সংগ্রাম দোলই, জেলাশাসক পার্থ ঘোষ–সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। ময়নাগড়ের রাসমেলা ছাড়াও পটাশপুরের পঁচেটগড়ের রাসেও ভক্তি রসের প্রাচুর্যে মানব মিলন উৎসবে মেতে উঠেন সর্ব শ্রেণির মানুষ। রাজবাড়ির পাশের মাঠেই মঙ্গলবার থেকেই উৎসবের সূচনা হয়েছে। হলদিয়ার সুতাহাটার হোড়খালি অঞ্চলের বাহারডাব গ্রামের নরসিংহ জিউর মন্দিরেও শুরু হয়েছে শতাব্দী প্রাচীন রাস উৎসব। তিনদিন ধরে চলবে এই রাসউৎসব।

জনপ্রিয়

Back To Top