নিরুপম সাহা,বনগাঁ: গর্ভবতী মহিলার ডিম্বাশয়ের জটিল অস্ত্রোপচার করার পরেও সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় অবশেষে সুস্থ সন্তানের জন্ম দিলেন ওই মহিলা। বনগাঁ মহকুমা সরকারি হাসপাতালের এই ঘটনায় খুশি মহিলা এবং তঁার পরিবার। মঙ্গলবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মা এবং সন্তানকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা থানার কুলঝুটি গ্রামের গৃহবধূ রুপালি ঢালি গত ২৩ সেপ্টেম্বর পেটে ব্যথার সমস্যা নিয়ে বনগঁার জীবনরতন ধর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগের চিকিৎসক মহিতোষ মণ্ডল বধূকে পরীক্ষা করে বুঝতে পারেন, তিনি ২ মাসের অন্তঃ‌সত্ত্বা। আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করে চিকিৎসক আরও জানতে পারেন, ওই মহিলার জরায়ুর ভেতরে এবং বাইরে মোট ২টি ভ্রুণ বড় হচ্ছে। তার সঙ্গে মহিলার বঁা দিকের ডিম্বাশয়ে একটি টিউমারও রয়েছে। সেটি আকারে বড় হয়ে যাওয়ায় ডিম্বাশয়ের অবস্থান ঘুরে গেছে। এর ফলে রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে ডিম্বাশয়টি পচে গেছে। এমন অস্বাভাবিক রিপোর্ট দেখে চিকিৎসক বুঝতে পারেন, জরায়ুর বাইরের ভ্রুণটি যে কোনও মুহূর্তে ফেটে ওই মহিলা বিপজ্জনক অবস্থায় চলে যেতে পারেন।
পরিস্থিতি বিবেচনা করে ওইদিন রাতেই জরায়ুর ভেতরে থাকা ভ্রূণটিকে সুরক্ষিত রেখে টিউমার সহ বঁা–দিকের বিপজ্জনক ডিম্বাশয়টিকে কেটে বাদ দেন। দুদিন পরে হাসপাতাল থেকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয় ওই মহিলাকে। আর এই গোটা প্রক্রিয়াটি সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে হয়। এরপর থেকে চিকিৎসক মহিতোষ মণ্ডলের পরামর্শে এতদিন চিকিৎসা চলছিল গর্ভবতী ওই মহিলা রুপালি ঢালির। অবশেষে ৬ মে বনগঁা হাসপাতালে ফের ভর্তি হওয়ার পর ওইদিন রাতেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ওই মহিলা একটি সুস্থ, স্বাভাবিক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। এবারেও তঁার চিকিৎসা করেন চিকিৎসক মহিতোষ মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘‌রুপালি ঢালির যে জটিল শারীরিক পরিস্থিতি ছিল, সেখান থেকে তঁাকে বঁাচিয়ে, তঁার গর্ভের সন্তানকে সুস্থ অবস্থায় ভূমিষ্ট করানোটাই আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জ ছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় অবশেষে তা সম্ভব হয়েছে।’‌‌ নিজেদের স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থায় খুশি রুপালি ঢালি এবং তঁার পরিবারের সদস্যরা।

সন্তানকে কোলে নিয়ে রুপালী ঢালি। ছবি: প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top