মিল্টন সেন,হুগলি: মনোহরা নিয়ে সরকারি জিআই স্বীকৃতির দাবিদার জনাই। এমনই দাবি চণ্ডীতলা থানার অন্তর্গত জনাইয়ের বাসিন্দাদের।
প্রায় দেড়শো বছর আগে জনাইয়ের ললিত ময়রার হাত ধরে এই মিষ্টির আবিষ্কার হয়। খুব অল্প দিনের মধ্যেই জেলার বিভিন্ন জায়গায়, গ্রামেগঞ্জে এবং জেলার বাইরেও পরিচিতি পায় ‘‌মনোহরা’‌। জনাই রোডে আজও ললিত ময়রার দোকানের বিখ্যাত মনোহরা কিনতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করেন। বর্তমানে মনোহরা শুধু ললিত ময়রার দোকানে নয়, বিক্রি হয় জনাইয়ের প্রায় সমস্ত মিষ্টির দোকানেই। ললিত ময়রার পরবর্তী তিন পুরুষও মনোহরা বিক্রি করে চলেছেন। আজও চাহিদা অব্যাহত। দিন–দিন চাহিদা বেড়েই চলেছে।
স্থানীয় মিষ্টি বিক্রেতা গোবিন্দ সরকার বলেন, আগে মনোহরা তৈরি করতে নারকেল ব্যবহার করা হত। বর্তমানে নারকেল ব্যবহার করা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হালকা চিনি দিয়ে সন্দেশ তৈরি করে তাতে কাজু বাদাম, পেস্তার পেস্ট মিশিয়ে সামান্য ছোট এলাচ দিয়ে তৈরি করা হয় মনোহরা। এই মিষ্টির বৈশিষ্ট্য, নরম মিশ্রণের ওপরে থাকে কড়া চিনির কোটিং। অর্থাৎ শক্ত পুরু চিনির কোটিং ভেঙে তবেই ভেতরের কোমল ছানার মিশ্রণের স্বাদ পাওয়া যাবে। গোবিন্দবাবু বলেন, এখনও কলকাতা তো বটেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও মানুষ জনাইয়ে আসেন মনোহরা কিনতে। প্রথম থেকেই মনোহরা মিষ্টির নাম জনাইয়ের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। তাই রসগোল্লার মতো মনোহরার জিআইয়ের দাবিদার একমাত্র জনাই।‌

জনপ্রিয়

Back To Top