অম্লানজ্যোতি ঘোষ, আলিপুরদুয়ার: ‘‌অনেক বড় বড় বিপর্যয় দেখেছি। ২৩ মে যা হয়েছে তাকেও আমরা সামলে নেব।’‌ আলিপুরদুয়ারে ভোটের ফলাফলের পর এমন প্রতিক্রিয়াই দিলেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি মোহন শর্মা। শুক্রবার তিনি বলেন, ‘‌ফলাফলের জন্য দলের কর্মী, সমর্থক কাউকে দায়ী করছি না। মনে রাখতে হবে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচন, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল মোট যে ভোট পেয়েছিল, তার থেকেও ২ লক্ষের বেশি ভোট পেয়েছে।’‌ জেলা সভাপতির ব্যাখ্যা, ‘‌কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট নিজেদের ভোট ধরে রাখতে পারেনি। বিজেপি–র মোট ভোটের বড় অংশ বাম–কংগ্রেসের। আমরা প্রত্যেকটি বুথ ধরে ফলাফল বিশ্লেষণ করছি। আমাদের ৩টি দলীয় কার্যালয়ে বিজেপি হামলা করেছে। তবুও আমরা দলের প্রতিটি স্তরের কর্মীদের শান্ত–সংযত থাকার বার্তা দিচ্ছি। কলকাতা যাব। দলের পর্যবেক্ষক অরূপ বিশ্বাসের কাছে ফলাফল তুলে ধরব। একজন কর্মীও যেন হতাশ না হয়ে পড়েন। রাজ্য থেকে আমাদের যেমন নির্দেশ দেওয়া হবে ঠিক সেভাবেই পরবর্তী পরিকল্পনা নেওয়া হবে।’‌
এদিন তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার জেলা কার্যালয়ে পুরনো–নতুন তৃণমূল কর্মীদের নিয়ে আলোচনা হয়। গোটা দিন ধরে ফলাফল বিশ্লেষণ চলে। সামনেই আলিপুরদুয়ার পুরসভার নির্বাচন। লোকসভার ফলাফল ধরলে অন্তত ১৮টি ওয়ার্ডে এগিয়ে বিজেপি। বাম–কংগ্রেসের ভোট পেয়ে কোনও ওয়ার্ডে ১০০, কোথাও ২৫০, ৫০০, সর্বোচ্চ ১০০০ ভোটে এগিয়ে বিজেপি। তবে লোকসভা ভোটের সমীকরণ কাজ করবে না পুরসভা নির্বাচনে। এদিকে, আচমকাই আলিপুরদুয়ার পুরসভার শেষ পুরবোর্ডের চেয়ারম্যান শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলর আশিস দত্ত, ফেসবুকে লেখেন, ‘‌আমি অবসর নিচ্ছি রাজনৈতিক জীবন থেকে।’‌‌ জেলা তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা তথা আইনজীবী জহর মজুমদার জেলার তৃণমূল নেতাদের পদত্যাগ দাবি করেন। মোহন শর্মা বলেন, ‘‌জহর মজুমদার বয়স্ক মানুষ। তাঁর বক্তব্য অরূপ বিশ্বাস, মুখ্যমন্ত্রীকে জানাতে পারেন।’‌ ‌

জনপ্রিয়

Back To Top