আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ যে ভবনে বসে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘বন্দেমাতরম’ লিখেছিলেন, সেই বাড়ির বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। চুঁচুড়ার জোড়াঘাটে ওই ভবনের কাছেই সাহাগঞ্জে বন্ধ ডানলপ কারখানার মাঠে সোমবার বিকেলে রাজনৈতিক জনসভা করেন মোদি। জনসভায় দাঁড়িয়ে মোদি বলেন, এরাজ্যের তৃণমূল সরকার বাংলার মাটির সঙ্গে জড়িত মনীষীদের স্মৃতিরক্ষার্থে কোনও কাজ করেনি। সেই প্রসঙ্গেই বন্দেমাতরম ভবনের কথা তোলেন তিনি। তিনি শুনেছেন, বন্দেমাতরম ভবন, যেখানে বঙ্কিমচন্দ্র পাঁচ বছর ছিলেন, সেই ভবন খুব খারাপ অবস্থায় আছে। স্বাধীনতার লড়াইতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছিল এই বন্দেমাতরম। স্বাধীনতার আন্দোলনে নতুন শক্তি জুগিয়েছিল। মাতৃভূমিকে সুজলা, সুফলা করতে প্রত্যেক দেশবাসীকে প্রেরণা জুগিয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এ ক্ষেত্রেও মোদীর লক্ষ্য তৃণমূল পরিচালিত সরকার। তবে মোদির এই বক্তব্য নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, বন্দেমাতরম ভবন এক সময়ে সত্যি সত্যিই অনাদরে পড়েছিল। তবে বর্তমান সরকার ভবনটির সংস্কার করে নতুন করে সাজিয়েছে। এ প্রসঙ্গে চুঁচুড়ার তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার বলেন, স্থানীয় হুগলি–চুঁচুড়া পুরসভা ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণ করে। ‘হুগলি-চুঁচুড়া আর্ট ফোরাম’কে ভবনের একটি ঘর ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছে। এখানে তারা নিয়মিত সংস্কৃতি চর্চা করে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একুশের বিধানসভা ভোটে জিততে বাঙালির মন পেতে বদ্ধপরিকর বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। আর সেই জন্যই বাঙালি মনীষীদের বন্দনায় মেতে উঠেছে নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, জেপি নাড্ডারা। স্বামী বিবেকানন্দর জন্মজয়ন্তীতে নানা কর্মসূচি নিতে দেখা গিয়েছে বিজেপিকে। উল্লেখ্য, ২৫ফেব্রুয়ারি জে পি নাড্ডার নৈহাটি কর্মসূচিতে ঢুকতে চলেছে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ভিটেও। শুধু বঙ্কিমই নন নৈহাটিতে জন্মানো এমন একঝাঁক বাঙালি মনীষীকে শ্রদ্ধা জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার।

জনপ্রিয়

Back To Top