আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ মমতা ব্যানার্জি নিজেকে সংবিধানের ঊর্ধ্বে ভাবেন। কিন্তু ২ তারিখেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সার্টিফিকেট পেয়ে যাবেন তিনি। এদিন আসানসোলের সভা থেকে এমনই কটাক্ষ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর অভিযোগ, মমতা ব্যানার্জি চোখে অহঙ্কারের পর্দা পরে রয়েছেন। যার ফলে তিনি সবাইকেই ছোট করে দেখেন বলেও অভিযোগ মোদির। সেই কারণেই কেন্দ্রীয় সরকার করোনা নিয়ে বৈঠক ডাকলেও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শেষ দু’‌টি বৈঠকে যোগ দেননি বলে অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর। তাঁর দাবি, বাংলার মানুষের ভাল চান না মুখ্যমন্ত্রী। বাংলার মানুষের উন্নয়নও মমতা ব্যানার্জি চান না বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী৷
রাজ্যে পঞ্চম দফা নির্বাচনের দিন ফের একবার বাংলায় প্রচারে এসেছেন নরেন্দ্র মোদি। এদিন প্রথমে আসানসোলে সভা করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সভা থেকেই তিনি বলেন, ‘‌ছাপ্পা ভোটকে গুন্ডাগিরি, মস্তানি করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে দিদি আরও মরিয়া হয়ে উঠেছেন। বাংলা থেকে দিল্লি পর্যন্ত মোদির বিরুদ্ধে দিদি জোট করছেন, নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করছেন।  আপনি যত খুশি ষড়যন্ত্র করুন, চেষ্টা করুন বাংলার মানুষই সবকিছু ব্যর্থ করে দেবেন। বাংলার মানুষই আপনার বিরুদ্ধে জোট করেছেন। বাংলার মানুষ আপনাকে এমন সার্টিফিকেট দিতে চলেছে যে আপনি সারাজীবন বাড়িতে তা টাঙিয়ে রাখতে পারবেন। সার্টিফিকেটে লেখা থাকবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। ওটা নিয়েই ঘুরবেন।’‌ 
মমতা ব্যানার্জি কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং সেনাকে রাজনীতির জন্য আক্রমণ করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‌কেন্দ্রীয় বাহিনী শুধু নয়, দিদি সেনাকেও বদনাম করছেন। রাজনীতির জন্য মিথ্যে অভিযোগ আনছেন। উনি নিজেকে সংবিধানের ঊর্ধ্বে মনে করেন। দিদির চোখে অহঙ্কারের পর্দা। দিদির রাজনীতি শুধু বিরোধ আর প্রতিরোধে সীমাবদ্ধ নেই। দিদির রাজনীতি প্রতিশোধের ভয়ঙ্কর সীমা পার করে গিয়েছে। গত দশ বছরে বিজেপি–র অসংখ্য কর্মী খুন হয়েছেন রাজ্যে। দিদির জন্য কত মা নিজের সন্তানকে হারিয়েছেন, কত বোন আজও তাঁদের ভাইদের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন।’‌ প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, এক সময় যে আসানসোলে সারা দেশ থেকে মানুষ চাকরির জন্য আসতেন, তৃণমূলের আমলে আজ সেখানেই মাফিয়ারাজ, কয়লা পাচার, বালি পাচারের মতো কারবার চলছে। প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলেই মাফিয়ারাজ থেকে মুক্তি পাবে আসানসোল। নরেন্দ্র মোদি অভিযোগ করেন, বাংলার উন্নয়নের পথ আটকে দেওয়ালের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছেন মমতা ব্যানার্জি। তাঁর দাবি, আয়ুষ্মান ভারত সহ একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প রাজ্যে চালু করতে দেননি মমতা ব্যানার্জি। আবার তিন তালাক বিরোধী বিল, নাগরিকত্ব সংশোধন আইন, নতুন কৃষি আইন পাশ করানোর সময় তার বিরোধিতা করেছেন মমতা।  মোদির কটাক্ষ, ‘‌আপনার উদ্দেশ্য নিয়েও বাংলার মানুষের সন্দেহ রয়েছে। দশ বছর ধরে দিদির সরকার শুধু বিভাজনের রাজনীতি করেছে। এবার সংঘাত নয়, সহযোগিতা হবে। বিরোধিতা নয়, বিকাশ হবে। ভয় নয়, পেটে ভাত হবে, শিল্প হবে, উন্নয়ন হবে, শিক্ষা হবে।’‌ 


 

Back To Top