‌স্বদেশ ভট্টাচার্য, হিঙ্গলগঞ্জ: ‘‌বুলবুল’‌–‌র দাপটে হিঙ্গলগঞ্জ, সন্দেশখালি, হাসনাবাদের বহু গ্রাম বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে। সব থেকে খারাপ অবস্থা হিঙ্গলগঞ্জের পরিস্থিতি। কবে স্বাভাবিক হবে এ নিয়ে সংশয় রয়েছে খোদ প্রশাসনের কর্তাদের মধ্যেই। হিঙ্গলগঞ্জে বিদ্যুৎ না থাকার ফলে পানীয় জল সরবরাহ বন্ধ। পাম্প চালিয়ে জল সরবরাহ চালু করা হয়েছে। তার ওপর সরকারি জল সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেককেই পুকুরের জল ফুটিয়ে খেতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকার ফলে গোটা ব্লক জুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা কার্যত স্তব্ধ। মোবাইল পরিষেবার একই অবস্থা। 
বিদ্যুৎ না থাকায় জেনারেটর চালিয়ে সুযোগসন্ধানী কিছু লোক মোবাইল চার্জের কারবার খুলে বসেছে হিঙ্গলগঞ্জের গ্রামগুলিতে। ৫ টাকা থেকে ২৫ টাকা দিয়ে সেই সব জায়গায় মোবাইল চার্জ দিতে হচ্ছে। হিঙ্গলগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সহ–সভাপতি সুদীপ মণ্ডল বলেন, ‘‌সব এলাকায় রাস্তার ওপর থেকে গাছ সরানো যায়নি। বিদ্যুতের খুঁটি যে কত উপড়েছে তার ইয়ত্তা নেই। বিদ্যুৎ ছাড়া পানীয় জলের পাম্প চালানো সম্ভব হচ্ছে না।’‌ সুদীপবাবু বলেন, ‘‌বিডিও–কে সঙ্গে নিয়ে আমরা নিজেরাই কোথাও কোথাও রাস্তা থেকে গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করেছি। মানুষ যাতে জল পায় বিকল্প হিসেবে ৭টি বড় জেনারেটর এনে কয়েকটা পাম্প সচল করা হয়েছে। এছাড়া জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের ভ্রাম্যমাণ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট এনে জলের পাউচ তৈরি করে বিভিন্ন পঞ্চায়েতের গ্রামে পাঠিয়ে মানুষকে রেহাই দেওয়া হচ্ছে।’‌
হিঙ্গলগঞ্জে মানুষ লাইন দিচ্ছেন মোবাইল চার্জ দিতে। সামশেরনগরের বাসিন্দা নিতাই রায় বলেন, ‘‌এলাকায় জেনারেটর এনে অনেকে অস্থায়ীভাবে দোকান বাজারে আলো জ্বালাচ্ছে। সেখানেই টাকা দিয়ে মোবাইল চার্জের ব্যবসা শুরু হয়েছে। ৫, ১০, ২০ টাকা কিংবা তারও বেশি পয়সা দিয়ে মোবাইলে চার্জ দিতে হচ্ছে। যোগেশগঞ্জের এরকম এক কারবারি বললেন, ‘‌কী করব, আমার জেনারেটর আছে। সেটা চালাতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে মোবাইল চার্জ দিতে আসছেন অনেকে। তাদের কাছে পয়সা নিয়ে চার্জ দিয়ে দিচ্ছি মোবাইলে। ফুল চার্জ দিতে ২৫ টাকা নিচ্ছি। কেউ আবার ১০ টাকা দিয়ে চার্জ করে নিয়ে হাসনাবাদ, বসিরহাটে থেকে চার্জ দিয়ে আনছেন। সে কারণে যাঁরা মোবাইল ব্যবহার করেন তাঁদের সঙ্গে থাকছে চার্জারও।

জনপ্রিয়

Back To Top