গৌতম চক্রবর্তী, সুন্দরবন, ৩ জুন- কেন্দ্রের ওপর ভরসা নেই। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন বিভিন্ন দপ্তরকে। সেই টাকাতেই কাজ শুরু হয়েছে। ঘুরে দাঁড়াতে হবে আপনাদের। আমফানের পর সুন্দরবনের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে এসে মানুষকে এ কথাই বললেন রাজ্যের বনমন্ত্রী রাজীব ব্যানার্জি। বুধবার সকালে তিনি গদখালি ঘাট থেকে লঞ্চে সুন্দরবনের ক্ষতিগ্রস্ত জঙ্গল এলাকা পরিদর্শনে বের হন। বিদ্যাধরী নদী ধরে রাঙাবেলিয়া গ্রামের দিকে নদীর দুই ধারে আমফান ঝড়ের ক্ষতের চিহ্ন দগদগে । আচমকাই তিনি থেমে যান সজনেখালি জঙ্গলের ধারে। বনকর্মীরা জঙ্গলের ফেন্সিং মেরামতের কাজ করছিলেন। দেখতে পেয়ে মন্ত্রী লঞ্চ থামিয়ে নেমে জঙ্গলের ধারে চলে যান। ক্ষতিগ্রস্ত ফেন্সিংয়ের কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন ও তদারকি করেন। 
 জঙ্গলের ম্যানগ্রোভ অরণ্যের কাদায় ভরা শ্বাসমূলের ওপর লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে বনমন্ত্রীকে এই তদারকি করতে দেখা যায়। বুধবার সকালেই কলকাতা থেকে সুন্দরবনে আসেন তিনি। সঙ্গে বনদপ্তরের আধিকারিকরা। রাজীব বলেন, ‘‌আমফান ঝড়ের তাণ্ডবে সুন্দরবনের ঘরবাড়ি, ফসলেরই শুধু ক্ষতি হয়নি। জঙ্গলেরও প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। মানুষ ব্যাপক সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। তাই তাঁদের পাশে দাঁড়াতেই এখানে এসেছি।’‌ দুর্গতদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি তাঁদের হাতে ত্রাণ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এদিন জঙ্গলের ধারে ছিঁড়ে যাওয়া নাইলনের জাল লাগানোর কাজের তদারকি করে বনমন্ত্রী জানান, জঙ্গলে বাঘ রয়েছে। বনকর্মীরা জীবন বাজি রেখে এই দুঃসাহসিক কাজ করছেন। বাঘ যে–‌কোনও সময় চলে আসতে পারে লোকালয়ে। তাই বনদপ্তর দ্রুত ফেন্সিং মেরামতির কাজ চালাচ্ছে। 
তিনি এদিন জটিরাম ঘাটে প্রথম ত্রাণ বিলি করেন। পরে সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। দুলকিতেও তিনি ত্রাণ দেন। পীরখালি জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে জাল লাগানোর কাজ দেখেন। বনমন্ত্রী বলেন, ‘‌আমফানের তাণ্ডব আঁচ করে আগে থেকেই আমরা প্রস্তুত ছিলাম। কিছুটা হলেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেছে। আমফানে ১০৫ বর্গকিমি টাইগার রিজার্ভ এবং ২৭ বর্গ কিমি ম্যানগ্রোভ অরণ্যের ফেন্সিং নষ্ট হয়ে গেছে। প্রায় দেড় হাজার বর্গ কিমি জঙ্গল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’‌ 

ফেন্সিংয়ের কাজ তদারকি করছেন বনমন্ত্রী রাজীব ব্যানার্জি। ছবি:‌ প্রতিবেদক
 

জনপ্রিয়

Back To Top