দিব্যেন্দু ভৌমিক ও অলক সরকার, কোচবিহার ‌ও শিলিগুড়ি, ৩০ মে- মুখ্যমন্ত্রীর আশঙ্কাই সত্যি হল।
পরিযায়ী শ্রমিকদের ট্রেন বাংলায় আসার পর থেকেই ছড়িয়ে পড়ছে করোনার সংক্রমণ। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেই করোনা আক্রান্ত বাড়ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, এইসব ট্রেন আসার ফলে সংক্রমণ বাড়বে। জেলায় জেলায় সেটাই দেখা যাচ্ছে। আক্রান্তরা অধিকাংশই সদ্য ভিনরাজ্য থেকে ফিরেছেন। এমনকী, করোনানুক্ত জেলাতেও সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে। 
লকডাউনের দীর্ঘ সময়ে করোনা থেকে বহুদূরে ছিল কোচবিহার। জেলার দিনহাটা ছিল আরও নিরাপদ। কিন্তু ট্রেনে ঝাঁকে ঝাঁকে পরিযায়ী শ্রমিক ঢুকতেই একধাক্কায় কোচবিহার জেলায় করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে ৩২ জন। যার মধ্যে ৩১ জনই দিনহাটার। আর এতেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে দিনহাটা–‌সহ গোটা জেলায়। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে দিনহাটার বিধায়ক ও পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান উদয়ন গুহ বললেন, ‘‌কেন্দ্রের অপরিকল্পিত লকডাউনের খেসারত দিতে হচ্ছে বাংলাকে। ট্রেনে যেভাবে গাদাগাদি করে আমাদের শ্রমিকদের পাঠানো হচ্ছে, তাতেই এমন সংক্রমণ। মাশুল দিতে হচ্ছে দিনহাটাকেও।’‌ 
মালদা ও উত্তর দিনাজপুরেও গত কয়েকদিন বাড়ছে সংক্রমণ। আক্রান্তদের অধিকাংশই ভিনরাজ্য থেকে আসা। আতঙ্ক ছড়িয়েছে পাহাড়েও। ভিনরাজ্যে আক্রান্ত হওয়া কালিম্পঙের মহিলার মৃত্যুর পর দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলা প্রশাসন পরিস্থিতি অনেকটাই সামলে নিয়েছিল। কিন্তু পরিযায়ী শ্রমিক ও পড়ুয়ারা ফিরতেই শুক্রবার পাহাড়ে একসঙ্গে ৪ জনের দেহে করোনা পাওয়া গেছে। পাহাড়ের মানুষের আশঙ্কা, স্পেশ্যাল ট্রেনে অব্যবস্থার জন্যই এই পরিণতি। এমন আশঙ্কা আগেই করেছিলেন জিটিএ চেয়ারম্যান অনীত থাপা। শুরুতেই কালিম্পঙে এক করোনা আক্রান্তের খোঁজ মেলে। এক মহিলা মেয়ের চিকিৎসার জন্য বাইরে গিয়েছিলেন। পাহাড়ে ফিরেই অসুস্থ হন। পরে করোনায় মৃত্যু হয়। এরপরই জিটিএ ও জেলা প্রশাসন কোমর বেঁধে নেমে পরিস্থিতি সামলায়। কিন্তু ভিনরাজ্যে থেকে লোকজন ফিরতেই পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হতে শুরু করেছে। সোনাদা ও কার্শিয়াঙে ৪ জনের করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে।
অন্যদিকে, কোচবিহারে ৩২ জনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। জেলাশাসক পবন কাদিয়ান জানিয়েছেন, ‘‌ভিন রাজ্য থেকে আসা মানুষদের রিপোর্টে সংক্রমণ বাড়ছে। জেলায় ২৫টি কন্টেনমেন্ট জোন করা হচ্ছে।’‌ এদিন মুর্শিদাবাদে ৫ জন করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আক্রান্তরা মুম্বই ফেরত করোনা আক্রান্ত পরিবারের সদস্য। দিন দশেক আগে মুম্বই থেকে বাড়ি ফেরেন। তিনজনই বহরমপুর করোনা হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তঁাদের পরিবারের ৬ সদস্যের মধ্যে তিনজন মহিলার করোনা পজিটিভ আসে। তঁাদেরও এদিন বহরমপুর করোনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে, পূর্ব মেদিনীপুরে ভিনরাজ্য থেকে আসা ৪ পরিযায়ী শ্রমিক নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। শুক্রবার তঁাদের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। শনিবার ৪ জনকেই ভর্তি করা হয়েছে পাঁশকুড়ার বড় মা করোনা হাসপাতালে। এদিন সেখান থেকে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ফিরেছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দশজন করোনা আক্রান্ত।

 

হাওড়া স্টেশন থেকে বাড়ির পথে পরিযায়ী শ্রমিকরা। ছবি: পিটিআই

জনপ্রিয়

Back To Top