বুদ্ধদেব দাস, মেদিনীপুর, ২৮ মে- মুম্বই–ফেরত আরও এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মুম্বই–ফেরত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ৪ পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হল। দাসপুরের রাজনগর গ্রামের কমল সেনাপতি (৪৩) মুম্বইয়ে সোনার কাজ করতেন। লকডাউনে আটকে পড়েন। দাসপুরের কয়েক হাজার মানুষ সোনার কাজ করার জন্য মুম্বইয়ে থাকেন। লকডাউনে ট্রেন–চলাচল শুরু হতেই অনেকে শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেনে ফেরেন। বাকিরা কেউ কয়েকশো কিলোমিটার হেঁটে, বাকি রাস্তা ট্রাকে বা মালবাহী লরিতে চেপে আসেন। এর আগে মুম্বই থেকে হেঁটে ফিরতে গিয়ে মৃত্যু হয় দাসপুরের চকপ্রসাদ গ্রামের এক যুবকের। এর পর পিংলার দুই যুবকের মৃত্যু হয় মুম্বই থেকে ফেরার সময়।
ট্রেনে ফেরার টিকিট জোগাড় করতে না পেরে দাসপুরের ৩৫ জন শ্রমিক একটি বাস ভাড়া করে বাড়ি ফেরার উদ্যোগ নেন। ২৬ মে তাঁরা রওনা দেন। শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন কমল। তাঁর সঙ্গীরা তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেন। তিনি জানান, সেরকম কিছু নয়। ওষুধ নিয়েছেন। বাড়ি ফেরার আগেই ঠিক হয়ে যাবে। তা অবশ্য হয়নি। দূরপাল্লার বাসের ঝাঁকুনিতে আরও কাহিল হয়ে পড়েন। বাস ওডিশা সীমান্ত পেরোনোর পর চিচিড়া চেকপোস্টে বাংলা সীমান্তে আসে। সেখানে থাকা শিবিরের চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, তাঁর মৃত্যু হয়েছে। বাসচালক সেই বাস নিয়ে সোজা আসেন ঘাটাল সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে। এই বাসে ডেবরা ও পাঁশকুড়ার কয়েকজন পরিযায়ী শ্রমিক ছিলেন। তাঁদেরও নামতে দেওয়া হয়নি। মৃতদেহ নামানোর পর লালারসের নমুনা সংগ্রহ করার পর ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। বাসের বাকি যাত্রীদের ঘাটালের অরবিন্দ স্টেডিয়ামে কোয়ারেন্টিন সেন্টারে রাখা হয়েছে।

জনপ্রিয়

Back To Top