‌আজকালের প্রতিবেদন, কলকাতা ও তমলুক: মিড–‌ডে মিলের ছ’‌দিনের মেনু বেঁধে দিল রাজ্য সরকার। সপ্তাহের কোনদিন কী খাবার দিতে হবে তা নিয়ে ফের নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সপ্তাহে দু’‌দিন মাছ বা ডিম দিতে বলা হয়েছে। ডাল, সবজি, সয়াবিনের সঙ্গে মেনুতে থাকছে আলুপোস্তও। এই মেনু অনুযায়ী যেন স্কুলগুলিতে মিড–‌ডে মিল দেওয়া হয় তা দেখার জন্য পুরসভার চেয়ারম্যান, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং বিডিওদের বলা হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক ইতিমধ্যেই এই নির্দেশিকা জারি করেছেন। 
স্কুল শিক্ষা দপ্তর সূত্রে খবর, সোমবার থেকে রাজ্যের প্রতিটি স্কুলে মিড–‌ডে মিলে পড়ুয়ারা কী খাচ্ছেন সরেজমিনে তা দেখতে পরিদর্শন শুরু হচ্ছে। থাকবেন মিড–‌ডে মিল দেখার জন্য যে এডুকেশন সুপারভাইজার নিয়োগ করা হয়েছে তাঁরা, এসআই, শিক্ষাবন্ধু এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা। যে যার নিজের এলাকার স্কুল ঘুরে দেখবেন। এবং সেইদিনই দপ্তরে অনলাইনে রিপোর্ট পাঠাবেন। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে পরিদর্শন। রিপোর্টে মিড–‌ডে মিল নিয়ে গাফিলতি ধরা পড়লে স্কুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
মিড–‌ডে মিল নিয়ে জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সোমবার দিন পড়ুয়াদের দিতে হবে ভাত, ডাল, আলু দিয়ে যে কোনও সবজির তরকারি, চাটনি। মঙ্গলবার ভাত, ডাল, ডিম অথবা মাছ ও চাটনি। বুধবার পাতে ভাতের সঙ্গে থাকবে ডাল ও যে কোনও সবজির তরকারি। বৃহস্পতিবার ভাতের সঙ্গে সবজি আর মাছ অথবা ডিম। ভাত, ডাল ও আলু‌পোস্ত  দিতে হবে শুক্রবার। আর শনিবার দিতে হবে ভাত, ডাল ও সয়াবিন–‌আলুর তরকারি। প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সমস্ত স্তরের মানুষ। বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ ইতিমধ্যে জেলা স্কুল শিক্ষা দপ্তর, শিক্ষা সমিতি, মহকুমাশাসক, বিডিও, অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের মারফত পৌঁছেছে জেলার স্কুলগুলোতে। 
গত বুধবার দিঘার প্রশাসনিক বৈঠকে মিড–ডে মিল নিয়ে কোনও অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রতিনিয়ত সরকারি আধিকারিক ও স্থানীয় পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সদস্যদের স্কুলে গিয়ে মিড–ডে মিলে নজরদারি করতে হবে।
 সম্প্রতি চুঁচুড়ার একটি স্কুলে মিড–ডে মিলে নুন–ভাত দেওয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি। মিড–‌ডে মিল নিয়ে কোনও অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। যাঁরা এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি। একই সঙ্গে কেন্দ্রের মিড–‌ডে মিলের টাকা না দেওয়া নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। এখন প্রাথমিক স্তরে পড়ুয়া–পিছু  দুপুরের খাবারের জন্য বরাদ্দ ৪ টাকা ৪৮ পয়সা। আর উচ্চপ্রাথমিকে ৬ টাকা ৭১ পয়সা। দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রের কাছে মিড–‌ডে মিলের বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছে রাজ্য। নিয়ম অনুযায়ী মিড–‌ডে মিল প্রকল্পে মোট বরাদ্দের ৬০ শতাংশ দেয় কেন্দ্র। বাকিটা রাজ্য। কেন্দ্রের টাকা আসা খুবই অনিয়মিত। কার্যত পুরো খরচটাই বহন করতে হয় রাজ্যকে। সম্প্রতি আবার কেন্দ্রের তরফে নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়েছে রাজ্য চাইলে মিড–‌ডে মিল প্রকল্পে তাদের বরাদ্দ বাড়াতে পারে। মিড–‌ডে মিল নিয়ে এই নির্দেশিকা জারির পর মাথাপিছু বরাদ্দ না বাড়িয়ে এত কম টাকায় কীভাবে এই খাবার দেওয়া সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন। ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top