পবিত্র মোহান্ত, বালুরঘাট: শাশুড়ির ওপর রাগ করে স্বামীর কাছে যাওয়ার জন্য এক বছরের ছেলেকে নিয়ে দিল্লি রওনা দিয়েছিলেন কুশমণ্ডির উমা বর্মন। কিন্তু মাঝপথে চলন্ত ট্রেন থেকে উমার এক বছরের সন্তানকে ছুঁড়ে ফেলে দেয় এক মানসিক ভারসাম্যহীন যাত্রী। এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর পৌঁছতেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে কুশমণ্ডির আমিনপুর গ্রামে। এখনও উমা ও তাঁর স্বামী রঞ্জিতের পরিবারের কেউ–‌ই যোগাযোগ করতে পারেননি উমার সঙ্গে। এমনকী রঞ্জিতও বিষয়টি জানেন না বলে উমার বাপের বাড়ির সূত্রে জানা গেছে। নৃশংস এই হত্যার কথা ভেবে শিউরে উঠছে গোটা আমিনপুর। এই গ্রামের অনেকেই কাজের জন্য দিল্লি–‌সহ ভিনরাজ্যে রয়েছেন। অনেকেই পরিবারের লোকদেরও নিয়ে যান। উমার কাকা ঝন্টু বর্মন জানান, প্রায় ৫ বছর আগে এই গ্রামেরই বাসিন্দা রঞ্জিতের সঙ্গে উমার বিয়ে হয়। তাঁদের সন্তান ঋককে নিয়ে উমা দিল্লিতে স্বামীর কাছেই থাকতেন। রঞ্জিত সেখানে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। ১৫ দিন আগে উমা একাই দিল্লি থেকে আমিনপুরে ফিরেছিলেন। কিন্তু এখানে শাশুড়ির সঙ্গে বচসার জেরে মঙ্গলবার দিল্লি  রওনা দিয়েছিলেন। মালদা থেকে মঙ্গলবার সন্ধেয় ফরাক্কা এক্সপ্রেসে ওঠেন। উত্তরপ্রদেশের গোঁসাইগঞ্জ ও কাটেহরি স্টেশনের মাঝে এক ব্যক্তি এসে তাঁর দেড় বছরের সন্তানকে আদর করার জন্য  চেয়ে নেয়। শিশুকে নিয়ে দরজার ধারে যায়। কিছু বোঝার আগেই চলন্ত ট্রেন থেকে ওই শিশুকে বাইরে ছুঁড়ে ফেলে বলে অভিযোগ। উমার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে অভিযুক্তকে ধরে ফেলে। শুরু হয় গণধোলাই। পরে গোঁসাইগঞ্জ স্টেশন এলে সেখানে ওই যুবককে নামিয়ে রেল পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। 
গোঁসাইগঞ্জ রেল পুলিশের আধিকারিক মনোজ পান্ডে জানান, ‘‌বিহারের সীতামারি জেলার নেবরি সিরসিরিয়া থানা এলাকার রুমনি সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দা মানসিক ভারসাম্যহীন ওই যুবকের নাম কমলেশ। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যেহেতু ঘটনা উত্তরপ্রদেশের আকবরপুর থানা এলাকায়, সেই কারণে উমাকে সেখানে পাঠানো হয়েছে।’‌ যদিও বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ওই সন্তানের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। রেল পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনার পরেই তাঁরা ওই রুটে তল্লাশি চালিয়েছেন। কিন্তু ওই সন্তানের কোনও খোঁজ মেলেনি। এলাকার হাসপাতালগুলিতেও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমেই প্রথম পরিবারের লোকেরা বিষয়টি জানতে পারেন। উমার বাবা মন্টু বর্মন জানান, মেয়ের কাছে কোনও মোবাইল না থাকায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। এমনকী এই দুর্ঘটনার খবরও তাঁরা জানতেন না। খানিকটা অসহায় অবস্থাতেই রয়েছেন উমা বর্মনের বাড়ির লোকজন।

ছেলে কোলে নিয়ে মা উমা বর্মন। ফাইল ছবি

জনপ্রিয়

Back To Top