বুদ্ধদেব দাস,মেদিনীপুর: সপ্তম দফার নির্বাচন শেষে হতেই বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে যে সব বুথেফেরত সমীক্ষা দেখানো হয়েছে, প্রথমেই তা নস্যাৎ করে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবারই তিনি টুইট করে জানিয়ে দিয়েছিলেন, ওইসব গালগল্পে তিনি বিশ্বাস করেন না। ওই সমীক্ষাগুলির সমালোচনা করেছেন তৃণমূল নেতা মানস ভুঁইয়াও। তিনিও পরিষ্কার বলেছেন, বিজেপি কিছু সংবাদ মাধ্যমের সহযোগিতায় লোকসভা নির্বাচনের যে সম্ভাব্য ফলাফলের খবর সম্প্রচার করেছে, তা পুরোপুরি অসত্য। এই ধরনের খবরের মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করে দেওয়া হচ্ছে। এভাবে তারা এই রাজ্যে তৃণমূল নেতা–কর্মীদের মানসিকভাবে দুর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। উল্লেখ্য, সমীক্ষাগুলিতে তৃণমূলের ফল ভাল হবে না বলে দেখানো হয়েছে। এমনকী, মেদিনীপুর কেন্দ্রে মানস ভুঁইয়া হেরে যাবেন বলেও দেখানো হয়েছে। এর আগে ২০১১ ও ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সমীক্ষায়ও তিনি হারছেন বলে দেখানো হয়েছিল। মানস ভুঁইয়া স্পষ্ট জানিয়েছেন, গোটা রাজ্যেই তৃণমূলের ফল ভাল হবে। মেদিনীপুর কেন্দ্রেও নিজের জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত তিনি।
ভোটপর্ব মিটতেই মেদিনীপুর ও ঘাটাল এই দুই লোকসভা আসন নিয়ে চুল চেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়ে গিয়েছে তৃণমূলে। ওই দুই কেন্দ্রে নিজেদের জয়ের বিষয়ে একপ্রকার নিশ্চিত তারা। একজিট পোলের রিপোর্টকে কোনও রকম গুরুত্ব দিচ্ছে না তারা। অপরদিকে দলের কর্মীরা আশা না করলেও বিজেপি–র প্রার্থীরা নিজেরাই দাবি করেছেন, তঁারাই জিতছেন। ফল কী হবে, তা জানা যাবে ২৩ মে। তবে তার আগেই বিভিন্ন দলের অভ্যন্তরে তৈরি হয়ে গিয়েছে নানা হিসেব–নিকেষ।
মেদিনীপুর কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৮৪.১৩ শতাংশ। এই কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে মেদিনীপুর, খড়্গপুর, খড়্গপুর গ্রামীণ, কেশিয়াড়ি, নারায়ণগড়, দঁাতন ও এগরা বিধানসভা। এই ৭টি বিধানসভার মধ্যে তৃণমূল দাবি করেছে এগরায় তৃণমূল প্রার্থী ৫০ হাজার ভোটে লিড পাবে। নারায়ণগড়ে ৩০ হাজার ভোটে লিড পাবে। দঁাতনে ৩৫ হাজার ভোটে লিড পাবে।

খড়্গপুর গ্রামীণে ৩০ হাজার ভোটে লিড পাবে। কেশিয়াড়িতে ২৫ হাজার ভোটে লিড পাবে। খড়্গপুর সদরে ১০ হাজার ভোটে লিড পাবে। মেদিনীপুর বিধানসভায় ১৫ হাজার ভোটে লিড পাবে। 
এগরার ৭৫ শতাংশ বুথে কোনও পোলিং এজেন্টই বসাতে পারেনি বিজেপি। কোনও সংগঠনই নেই। বিজেপি করার লোকজন সেখানে নেই। দঁাতনেও একই অবস্থা। এখানে ৬৫ শতাংশ বুথে পোলিং এজেন্ট বসাতে পারেনি বিজেপি। নারায়ণগড়, খড়্গপুর গ্রামীণের ৬০ শতাংশ বুথে পোলিং এজেন্ট বসানোর কর্মী পায়নি বিজেপি। কেশিয়াড়িতে পঞ্চায়েত ভোটের নিরিখে বিজেপি এগিয়ে থাকলেও এবারের লোকসভা ভোটের আগেই তা অনেকটা পূরণ করে ফেলেছে তৃণমূল। খড়্গপুর সদর নিজেদের পক্ষেই ভোট করাতে পেরেছে তৃণমূল। মেদিনীপুর বিধাসভায় শহর বাদ দিলে পঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূলের পক্ষে ভাল ভোট হয়েছে বলে দাবি করেছেন তৃণমূল নেতারা।
ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৮২ শতাংশ। এই লোকসভার মধ্যে পড়ে কেশপুর, ঘাটাল, দাসপুর, সবং, পিংলা, ডেবরা, পঁাশকুড়া (পশ্চিম)। এগুলির মধ্যে কেশপুরে ১০ শতাংশ বুথেও পোলিং এজেন্ট বসাতে পারেনি বিজেপি। এখানে মোট ভোট ২,৫০,৫৬৫টি। ভোট পড়েছে ২,১৩,৪৫৪টি। কোনও কোনও বুথে ৯৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। গতবারে এই কেশপুর দেবকে দেড় লক্ষ ভোটে লিড দিয়েছিল। এবারও তা বজায় থাকবে বলে দাবি করেছে তৃণমূল। পঁাশকুড়া (পশ্চিম) ৪৫ হাজার ভোটে লিড দেবে। অপরদিকে ঘাটাল, দাসপুর, পিংলা, সবং, ডেবরা বিধানসভায় তৃণমূল প্রার্থী গড়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার ভোটে লিড পাবে বলে দাবি তৃণমূল নেতৃত্বের।
তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি বলেন, ‘‌মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী মানস ভুঁইয়া ২ লক্ষ ভোটে জিতবেন। আর ঘাটাল কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তারকা দেব ওরফে দীপক অধিকারী ৩ লক্ষ ভোটে জিতবেন। ভোটের ফলাফল বের হলে মিলিয়ে নেবেন।’‌ এদিকে, মেদিনীপুর ও ঘাটাল লোকসভার বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ এবং ভারতী ঘোষও দাবি করেছেন, এই দুই কেন্দ্রে তঁারাই জিতছেন। যদিও দলের জেলা সভাপতি শমিত দাস বলেন, ‘‌কোন প্রার্থী জয়ী হবেন, তা ফলাফল বের না হলে জানা যাবে না।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top