অভিজিৎ চৌধুরি, মালদা: কংগ্রেসের সঙ্গে জোট হলে তৃণমূলের ফল অনেকটাই ভাল হত। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকের পর শুক্রবার এ কথা বলেন উত্তর মালদার তৃণমূল প্রার্থী মৌসম নুর। তিনি জানান, দলের তরফ থেকে কোথাও কোনও খামতি রয়েছে কিনা সেটা আমরা খতিয়ে দেখব। উল্লেখ্য, এবারে মালদা উত্তর লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী খগেন মুর্মু ৮৪ হাজার ২৯৮ ভোটে তৃণমূল প্রার্থী মৌসম নুরকে হারিয়েছেন। বিজেপি প্রার্থী ভোট পেয়েছেন ৫ লক্ষ ৯ হাজার ৫২৪। তৃণমূল প্রার্থী ভোট পেয়েছেন ৪ লক্ষ ২৫ হাজার ২২৬। কংগ্রেস প্রার্থী ইশা খান চৌধুরি ভোট পেয়েছেন ৩ লক্ষ ৫ হাজার ২৭০। সিপিএম প্রার্থী ভোট পেয়েছেন ৫০ হাজার ৪০১। 
শুক্রবার দলীয় কর্মীদের সঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠকের পর মৌসম জানান, মালদা উত্তরে এবারে চতুর্মুখী লড়াই হয়েছে। যেভাবে তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি মহাজোট চেয়েছিলেন, সেভাবে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট হলে ফল অনেকটাই ভাল হত। কিন্তু রাজ্য কংগ্রেসের একাংশের সদিচ্ছার অভাবে হয়তো সেটা হয়নি। অন্যদিকে, জেলা কংগ্রেসের একাংশের বক্তব্য, দলের জেলা সভাপতি পদ থেকে ডালুবাবুকে সরিয়ে দিয়ে সেখানে হরিশ্চন্দ্রপুরের বিধায়ক মোস্তাক আলমকে দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি মালদা উত্তরে ডালুবাবুর ছেলেকে প্রার্থী করা নিয়ে কংগ্রেসের নেতা–‌কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। যার সবটাই সুযোগ নিয়েছে বিজেপি। জেলা কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি কালীসাধন রায় বলেন, ‘‌মৌসমের তৃণমূলে যাওয়াটা দলের কাছে একটা ধাক্কা ছিল। তাঁর দলত্যাগের পরই ভোট ঘোষণা হয়ে যায়। ফলে কংগ্রেস তৈরি ছিল না। ঘর গোছাতে অনেকটা সময় চলে গেছে। সেই সুযোগ নিয়েছে বিজেপি।’‌
সিপিএমের একাংশের বক্তব্য, দলের একটা বড় ভোট বিজেপি–‌তে চলে গেছে। নীচের দিকে এই প্রবণতা আটকানো যায়নি। হবিবপুর, বামনগোলা, গাজোল একসময় সিপিএমের গড় হিসেবেই পরিচিত ছিল। কিন্তু এইসব এলাকায় সিপিএম প্রার্থী বিশ্বনাথ ঘোষ তেমন ভোট পাননি। ফলে তাঁর জামানত জব্দ হয়ে গেছে। 

জনপ্রিয়

Back To Top