বুদ্ধদেব দাস, মেদিনীপুর: ভোটে হারের জন্য বামফ্রন্টকেই দায়ী করলেন মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মানস ভুঁইয়া। তিনি ভোটের প্রচারে একাধিক সভায় বারবার বলেছিলেন বামের ভোট এই রাজ্যে ক্রমেই রামের দিকে চলে যাচ্ছে। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েতের নির্বাচন থেকেই এই প্রবণতা দেখা দিয়েছিল। সবং বিধানসভার উপনির্বাচনে দেখা যায় বিজেপি–র ভোট ২০১৬ সালে ছিল ৫ হাজার। তা বেড়ে হয় ৩৭ হাজার। এবার বামফ্রন্টের ভোট আরও বেশি গেছে বিজেপি–র দিকে। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মেদিনীপুর কেন্দ্রে বাম প্রার্থী ভোট পেয়েছিলেন ৩৯৫১৯৪টি ভোট। মোট ভোটের ৩৪.২৯ শতাংশ। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে লোকসভার নিরিখে এই কেন্দ্রে বাম প্রার্থী ভোট পান ৪১১৬৮৯টি ভোট। মোট ভোটের ৩৬.৭০ শতাংশ। অথচ এবারের লোকসভা ভোটে বাম প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র ৬২৩২২টি ভোট। মোট ভোটের ৪.৪২ শতাংশ। মানসবাবুর ক্ষোভ, ‘‌পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে বামেরা তাদের ভোটটা বিজেপিতে পাঠিয়েছে। মতাদর্শে বামফ্রন্টের সঙ্গে তৃণমূলের মিল নেই। তাই বলে বাম থেকে রামে যাওয়া রাজ্যের ক্ষেত্রে ভয়ঙ্কর সমীকরণ। ‌মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন বামপন্থী নেতারা মমতা ব্যানার্জিকে সমস্যায় ফেলতে চেয়েছিলেন। তাতে সফল হয়েছেন।’‌  তিনি জানান, সূর্যবাবু, বিমানবাবুরা মমতা ব্যানার্জিকে অপদস্থ করতে চেয়েছিলেন। এতেও তাঁরা সফল। এজন্য লজ্জায় বুদ্ধবাবু ভোট দিতে যাননি। শারীরিক অসুস্থতা একটা বাহানামাত্র। 
সবংয়ের ৭ বারের বিধায়ককে বলেন, আমি অবাক। ৪৬ বছর ধরে বামফ্রন্টকে দেখছি। তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। কিন্তু এত দেউলিয়াপনা কখনও দেখিনি। বামেরা খাল কেটে কুমির ডাকলেন। বিজেপি–র দিকে চলে যাওয়া এই ভোট আর তাঁরা ফেরাতে পারবেন না। বাংলা থেকে বামপন্থা কর্পূরের মতো উবে যাবে। একদিন এর জবাব চাইবেন মানুষ। এ বিষয়ে সিপিআইয়ের প্রাক্তন জেলা সম্পাদক ও রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সন্তোষ রানা জানান, মানসবাবুর ওপর মানুষ ভরসা রাখতে পারেনি। ভোটে জনগণই শেষ কথা। সংগঠন সেই জনগণকে সব সময় নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। মানুষ বুঝেছে রাজ্যে তৃণমূলকে সরাতে নির্ণায়ক শক্তি হয়ে উঠেছে বিজেপি। তাই বিজেপি–‌কেই ভোট দিয়েছে।

জনপ্রিয়

Back To Top