আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ নিজে হাতে যে বন্ধুকে কাজ শিখিয়েছিল, সে–ই কিনা তার উর্ধ্বতনের চেয়ারে বসছে!‌ তার জায়গায় কি না বন্ধুর পদোন্নতি হয়েছে। শুধুমাত্র এই হিংসাতেই নিজের বন্ধুকে খুন করে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করল এক যুবক। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের আলমগঞ্জের একটি চালকলে। মৃতের নাম টুটুল মণ্ডল। অভিযুক্তের নাম বিকাশ চন্দ্র গড়াই। জানা গিয়েছে, দুই বন্ধুরই বাড়ি বীরভূমের সাঁইথিয়ার কাতুরি গ্রামে। চালকল কর্মী নির্মল শ্যাম জানিয়েছেন, বুধবার রাতে টুটুল ও সজল নামে দুই যুবক মিলের গেটের পাশে বসে গল্প করছিলেন। সেই সময় অভিযুক্ত বিকাশ তাঁর মোবাইলে পেটিএমে খুলে দেওয়ার জন্য টুটুলকে ডাকে। কিছুক্ষণ পর সজল রাতের খাবার খাওয়ার জন্য টুটুলকে ডাকতে গিয়ে দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে টুটুলের নিথর দেহ। সঙ্গে সঙ্গেই খবর দেওয়া হয় বর্ধমান থানায়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায়। এরপরই সকালে সটান বর্ধমান থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে বিকাশ। জানা গিয়েছে, দশ বছর ধরে আলমগঞ্জের ওই চালকলে শ্রমিকের কাজ করছে বিকাশ। মাস আটক আগে বিকাশই সেখানে টুটুলকে নিয়ে আসে। টুটুল প্রথমে শ্রমিক হিসাবে কাজে যোগ দিলেও খুব তাড়াতাড়ি তিনি মালিকের পছন্দের লোক হয়ে ওঠেন। শ্রমিকের পরিবর্তে টুটুলকে অন্য কাজে নিয়োগ করতে থাকেন তিনি। টুটুল লেখাপড়া জানতেন। সেইজন্য অনেক সময়ে তাঁকে হিসাবনিকাশ রাখার দায়িত্বও দেওয়া হতে থাকে। এরপর তাঁকে মিলের সুপারভাইজার পদেও নিয়োগ করা হয়। আর এই কারণেই টুটুলের উপর ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল বিকাশের। সেই আক্রোশের জেরেই বিকাশ খুন করে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান পুলিশের।

জনপ্রিয়

Back To Top