প্রদীপ দে ও প্রভাত সরকার,কান্দি, রঘুনাথগঞ্জ: কংগ্রেস, সিপিএম–কে ভোট দেওয়া মানে ভোট নষ্ট করা। ওদের একটি ভোটও নয়। দ্বিতীয়বার মুর্শিদাবাদে প্রচারে এসে এমনই আবেদন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির। জঙ্গিপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অভিজিৎ মুখার্জিকে ‘‌বসন্তের কোকিল’‌ বলে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌ভোট নিয়ে দিল্লি চলে যায়, ওকে কেন ভোট দেবেন।’‌ ছাড়েননি বহরমপুরের প্রার্থী অধীর চৌধুরিকেও। মুখ্যমন্ত্রীর সতর্কবার্তা:‌ ‘‌আরএসএসের দালালরা টাকা নিয়ে ভোট কিনতে ঘুরছে। খুব সাবধান।’‌
বুধবার মমতা ব্যানার্জি মুর্শিদাবাদে দুটি সভা করেন। প্রথম সভা করেন বহরমপুর কেন্দ্রের প্রার্থী অপূর্ব সরকারের সমর্থনে কান্দিতে। দ্বিতীয় সভা করেন রঘুনাথগঞ্জে, জঙ্গিপুরের প্রার্থী খলিলুর রহমানের সমর্থনে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌একসময় সিপিএমের কাছে তেরঙ্গা ঝান্ডা বিক্রি করেছিল বাংলার কংগ্রেস। প্রতিবাদে তৃণমূল করেছিলাম। কিন্তু আজও কংগ্রেস–সিপিএম এক হয়ে আছে। এদের সঙ্গে জোট বেঁধেছে বিজেপি। ওদের নীতি, আদর্শ নেই দেখে মুর্শিদাবাদ, মালদার কংগ্রেসিরা দল ছেড়ে তৃণমূলে এসেছেন। পঞ্চায়েতে জোট করেছিল। ২০১৬–র বিধানসভায় সিপিএম, কংগ্রেস একসঙ্গে ছিল। আজও বহরমপুরের এমপি সকালে কংগ্রেস, দিনে সিপিএম, রাতে বিজেপি–আরএসএস করে। কতদিন ধরে বহরমপুরে এমপি আছে। একটা কাজ করেছে? করেনি। এখানে থাকেই না। হয় দিল্লি বা কলকাতার বেদিক ভিলেজে। আর মানুষকে ভয় দেখায়, সন্ত্রাস করে। বাড়িতেও এমন করত যে, তার বউ ভয়ে কথা বলতে পারত না। ভদ্রমহিলা মারা গেছেন। তঁার ভাই অরিত দুঃখ করে বলছিল, হলফনামায় প্রথম স্ত্রীর নাম দেয়নি। আমি কারও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বলতে চাই না। কিন্তু যে তার পরিবারকে দেখেনি, স্ত্রীকে দেখেনি, সে করবে জনসেবা?’‌ মমতা বলেন, ‘‌প্রায়ই দেখি, সারদা, নারদ নিয়ে কথা বলে ওরা তৃণমূলকে আক্রমণ করে। সারদা তো শুরু হয়েছিল ১৯৮০ সালে সিপিএমের আমলে। তখন তো কংগ্রেস কিছু বলেনি। ক্ষমতায় এসে তৃণমূল সারদার তদন্ত শুরু করেছিল। কই, তুমি তো সারদা নিয়ে সিপিএমের বিরুদ্ধে কিছু বলোনি। এ সবের জবাব দিতে বহরমপুর, জঙ্গিপুর, মুর্শিদাবাদ তিনটি কেন্দ্রই আমরা জিতব।’‌ 
জঙ্গিপুরের কংগ্রেস প্রার্থী প্রণব–পুত্র অভিজিৎ মুখার্জিকে একহাত নিয়ে মমতা বলেন, ‘‌জঙ্গিপুরে একসময় সিপিএম জয়ী হয়েছিল। কংগ্রেস জয়ী হয়েছিল। বলুন তো, জঙ্গিপুরের জন্যে কী কাজ করেছে? আমার মন্ত্রী জাকির যা কাজ করেছে, তার একভাগও কংগ্রেস সাংসদ করেনি। আপনাদের ভোটে জিতে দিল্লিতে থেকে যাচ্ছে। তার পর তাকে কোনওদিন দেখেছেন?’‌ মানুষ উত্তর দেন, ‘‌না, না।’‌ মমতা বলেন, ‌‘‌আসলে বসন্তের কোকিল। ভোট এলে আসে। পরে চলে যায়। তাই জঙ্গিপুরে আমরা প্রার্থী করেছি স্থানীয় মানুষ খলিলুর রহমানকে। ভোট খলিলুরকে দিন। সবসময় পাশে পাবেন।’ দুটি সভায় মুখ্যমন্ত্রী কংগ্রেস–আরএসএস যোগ নিয়ে বলেন, ‘‌এটা পরিষ্কার, বহরমপুর, জঙ্গিপুরে কংগ্রেসকে জেতাতে আরএসএস, বিজেপি নেমে পড়েছে। সিপিএম তো বহরমপুরে কংগ্রেসের হয়ে প্রচারও করছে।’ জঙ্গিপুরের বড়শিমুলের মাঠে বিড়ি শ্রমিকদের ভিড় উপচে পড়েছিল। বক্তৃতার মাঝে মাঝে মহিলাদের হাততালি। তৃণমূলনেত্রী বলেন, ‘‌দিল্লিতে এবার তৃণমূল ছাড়া সরকার হবে না। মোদি সব রাজ্যেই ধাক্কা খাবেন। ফ্যাসিস্ট সরকার কেউ চায় না। অসমে এনআরসি–র নামে লাখ লাখ হিন্দু, মুসলিমদের নাম বাদ দিল। এই জঙ্গিপুরের বহু মানুষ অসমে ব্যবসা করেন। কংগ্রেস এনআরসি–র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেনি। একমাত্র তৃণমূল প্রতিবাদ করেছিল।’‌
কান্দিতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন প্রার্থী অপূর্ব সরকার, সভাধিপতি মোশারফ হোসেন, অরিত মজুমদার। রঘুনাথগঞ্জে প্রার্থী খলিলুর ছাড়াও ছিলেন মন্ত্রী জাকির হোসেন।‌

জনপ্রিয়

Back To Top