বুদ্ধদেব দাস, মেদিনীপুর: নতুন বছরে শালবনির মানুষের কাছে খুশির খবর। জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়েই চালু হতে চলেছে জিন্দালদের সিমেন্ট কারখানা। ১৫ জানুয়ারি এই কারখানা উদ্বোধন করতে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন সজ্জন জিন্দাল, সিমেন্ট কারখানার ম্যানেজিং ডিরেক্টর পার্থ জিন্দাল–সহ রাজ্যের অন্যান্য মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তারা। জিন্দালদের এই সিমেন্ট কারখানা রাজ্যের শিল্পে একটি মাইলস্টোন। প্রথমে এখানে ২৫০ জনের কর্মসংস্থান হবে। পরে নিয়োগ করা হবে আরও ৬০০ জনকে। ওইদিন সিমেন্ট কারখানা উদ্বোধন করার পর মুখ্যমন্ত্রী গাইঘাটা গ্রামে একটি প্রশাসনিক সভা করবেন। সভা থেকে ২৫০০ জন উপভোক্তার হাতে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সহায়তা প্রদান করবেন। মঙ্গলবার জেলাশাসক জগদীশ প্রসাদ মীনা ও জেলা পুলিস সুপার অলোক রাজোরিয়া, জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তরা সিংহ শালবনিতে জিন্দালদের কারখানা ঘুরে দেখেন। 
২০০৮ সালে শিলান্যাস হয় প্রস্তাবিত ইস্পাত কারখানা। তারপর জমি পড়ে ছিল দীর্ঘদিন। ২০১৫ সালে গোদাপিয়াশালে প্রশাসনিক সভায় যোগ দিতে এসে জিন্দালদের সতর্ক করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, হয় কারখানা করুন না হলে জমি ফেরত দিন। নতুবা কারখানা চালু না হওয়া পর্যন্ত জমিদাতা পরিবারকে প্ৰতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে দিতে হবে। এরপর ওই জমিতে সিমেন্ট কারখানা তৈরির পরিকল্পনা নেয় জিন্দালরা। ২০১৬ সালে সিমেন্ট কারখানা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এখন ১৫০ একর জমিতে তৈরি হয়েছে সিমেন্ট কারখানা। 
এ বছরের ১২ জুলাই এখান থেকে সিমেন্ট বোঝাই একটি গাড়ি যায় তারাপীঠে। এই কারখানা থেকে বছরে ২৪ লক্ষ টন সিমেন্ট উৎপাদন হবে। পরে তা বাড়বে। ২০০৮ সালে শালবনির জমবেদিয়া, আসনাশুলি, চন্দনকাঠ–সহ ২২টি গ্রাম ঘিরে থাকা সরকারি কৃষি খামারের ৩৮৫৫ একর খাসজমি ও ৪৯৯ একর ব্যক্তি মালিকানাধীন রায়ত জমি, অর্থাৎ মোট ৪৩৫৪ একর জমি নেয় জিন্দাল গোষ্ঠী। প্রথমে ঠিক ছিল এখানে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে গড়ে তোলা হবে বছরে ১০ লক্ষ মেট্রিকটন ইস্পাত উৎপাদনের কারখানা।  

ফাইল চিত্র     

জনপ্রিয়

Back To Top