দীপঙ্কর নন্দী: ক্যাব, এনআরসি বাংলায় মানা হবে না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি বলেন, ‘‌প্রথম স্বাধীনতা আন্দোলন আমরা দেখিনি।’‌ এবার ক্যাব, এনআরসি রুখতে তিনি দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের ডাক দিলেন। শুক্রবার মেয়ো রোডে সংহতি দিবস পালন করতে গিয়ে মমতা বলেন, ‘‌আজকের দিনে এটাই আমাদের সংহতি দিবসে শপথ হোক। ‌ক্যাব, এনআরসি পয়সার এপিঠ ওপিঠ। দাঙ্গা নিয়ে আমরা রাজনীতি করি না। রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে আমরা আন্দোলন করি না।’‌ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে মমতা বলেন, ‘‌পাকিস্তান–‌হিন্দুস্থান করিনি আমরা। পাকিস্তান সম্পর্কে আমরা বলতে যাব কেন?‌ হিন্দুস্থান নিয়ে আমরা বলব। সংবিধান, দেশ ও মানুষ বিরোধী আমরা কোনও কাজ করি না।’‌
মমতা এদিন বলেন, ‘‌প্রতিবাদ করতে অনেকেই ভয় পাচ্ছেন। আমি ভয় পাই না।  সকলেই চুপ করে আছেন। আমি মেনে নেব না। এর জন্য যদি আমাকে মৃত্যু সাব্যস্ত করে তাও লড়ে যাব। ক্যাব হচ্ছে মুন্ডু আর এনআরসি হচ্ছে ঘ্যাচাং। ধর্মীয় উগ্রবাদীরা সবকিছু পাবে, অন্য ধর্মের মানুষদের বিপদে ফেলবে। এটা মেনে নেওয়া যায় না।’‌
মমতার অভিযোগ, লোকসভা ও রাজ্যসভায় সংখ্যা ও গায়ের জোরে ক্যাবের বিল পাস করিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‌বুকের পাটা যদি থাকে তাহলে সকলকে নাগরিকত্ব দেওয়া হোক, দিলে আমি ১০০ শতাংশ রাস্তায় নেমে সমর্থন করব। আসামে ১৪ লক্ষ বাঙালিকে নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী কোথাকার?‌ ত্রিপুরাকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে কেন?‌ উত্তর–‌পূর্ব রাজ্যগুলিকে কেন বাদ দেওয়া হচ্ছে?‌ গায়ের জোরে রোজ হুঙ্কার দেবে, আমাদের ওসব সহ্য করতে হবে?’‌‌ মমতা এদিন ক্যাব, এনআরসি সমর্থন না করার জন্য  সব দলের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তিনি এর বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার অনুরোধ জানান। মমতা বলেন, ‘‌হিন্দুস্থান–‌পাকিস্তান বলে এরা নতুন শব্দ বের করেছে। ভেদাভেদের রাজনীতি করছে। রাজবংশীদের কোনও সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তামিলনাড়ুতে তামিলদের কি হবে?‌ ক্যাব, এনআরসি ললিপপ।’‌
মমতার অভিযোগ, দেশে ৪০ শতাংশ বেকারি বেড়েছে। আমরা রাজ্যে ৪০ শতাংশ বেকারের সংখ্যা কমিয়েছি। মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দিচ্ছি। ৫০ হাজার কোটি টাকা দেনা শোধ করতে হবে। বুলবুলের জন্য ২৩ হাজার কোটি টাকা পাব। স্বাস্থ্য বিমার জন্য আমরা ১২৫০ কোটি টাকা খরচ করেছি। কন্যাশ্রীর জন্য ৮ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। কেন্দ্রের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়ছে। অর্থনীতি দেউলিয়া হয়ে গেছে। আরও হবে। এরপর দেশ দেউলিয়া হয়ে যাবে। শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না। অর্থনীতির ইস্যুগুলো গুলিয়ে দেওয়ার জন্য ক্যাব, এনআরসি করা হচ্ছে। ওরা আগে ক্যাব করবে তারপর এনআরসি করবে।’‌ মমতা এদিন বলেন, ‘‌অনেক শিল্পপতি এনআরআই হয়ে যাচ্ছেন।  এই দেশে প্রত্যেকের থাকার অধিকার রয়েছে। এই অধিকার কেড়ে নিতে দেব না।’‌ 
মমতা এদিন বলেন, ‘‌বাংলায় আমরা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিই। বাংলাদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা দেন শেখ হাসিনা। হিন্দু–‌মুসলিম বাংলায় করতে দেব না। সব ধর্মের লোক এখানে বাস করবেন। এনআরসি–‌র জন্য বাংলার বাইরে কাউকে যেতে হবে না। আমার ওপর আপনারা ভরসা রাখুন। আস্থা রাখুন। আমরা সকলে মিলে একসঙ্গে থাকব।’‌ এদিন বক্তব্য পেশ করেন মন্ত্রী শশী পাঁজা, সুব্রত বক্সি, নৃসিংহ প্রসাদ ভাদুড়ি প্রমুখ। বিভিন্ন জেলা থেকে কর্মীরা এসে ভিড় করেন মেয়ো রোডে। মঞ্চে রাখা হয়েছিল বি আর আম্বেদকরের ছবি। বক্তব্য শুরুর আগে মমতা প্রতিকৃতিতে মালা দেন। সভা সঞ্চালনা করেন দলের মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জি। মমতা এদিন সুব্রত বক্সিকে বলেন, ‘‌প্রতিটি ব্লকে সঙ্ঘবদ্ধভাবে ক্যাব, এনআরসি–‌র বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হবে। সেভাবেই দলকে নির্দেশ দিন।

 

সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী। মেয়ো রোডে, শুক্রবার। ছবি: তপন মুখার্জি 

জনপ্রিয়

Back To Top