দীপঙ্কর নন্দী: লোকসভা ভোটের ফল নিয়ে পর্যালোচনা করতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি শনিবার কালীঘাটের বাড়িতে দলের বৈঠক ডেকেছেন। বৈঠক শুরু হবে বিকেল ৪টেয়। থাকবেন জয়ী ও পরাজিত প্রার্থীরা। এছাড়া বিভিন্ন জেলায় দলের পর্যবেক্ষক, গুরুত্বপূর্ণ নেতাদেরও বৈঠকে আসতে বলা হয়েছে। তৃণমূল পেয়েছে ২২টি আসন, বিজেপি ১৮টি। ২ থেকে বিজেপি–‌র আসন কেন এত বাড়ল, তা নিয়ে কাটাছেঁড়া হবে শনিবারের বৈঠকে। ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের আসন সংখ্যা ১৯ থেকে ৩৪টি হয়। এবার লোকসভা নির্বাচনে কমে  দাঁড়ায় ২২টি। 
বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী টুইট করে জানিয়েছেন, ফল ঘোষণার পরেই দল বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা করবে। সেইমতো শনিবার বৈঠক ডাকা হয়েছে। এত উন্নয়ন সত্ত্বেও আসন সংখ্যা কেন কমে গেল, তা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এই ফল দলের কাছে প্রত্যাশিত ছিল না। এমনও দেখা গেছে, পরপর তিন বারের জেতা প্রার্থী এবারের নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন অথচ প্রথমবার দাঁড়িয়ে কেউ কেউ হেরে গেছেন। কারও আবার জেতার ব্যবধান কিছুটা হলেও কমেছে। তবে ভোটের শতাংশে তৃণমূল বাংলায় সকলের চেয়ে এগিয়ে। কংগ্রেস ২টি আসন পেয়েছে। সিপিএম কোনও আসন পায়নি। 
এদিন বেহালায় ম্যান্টনে দলের মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জি  সাংবাদিক বৈঠক করেন। তিনি জানিয়ে দেন, ‘‌বিজেপি–‌র এই জয় বেশি দিন স্থায়ী হবে না। মোদির মুখ বাংলায় মেলাবেন না, বাংলার মুখ মমতা।’‌ কিছুটা অবাক হয়ে পার্থ বলেন, ‘‌রাজ্য জুড়ে এত উন্নয়ন করেছেন আমাদের মুখ্যমন্ত্রী, তার পরেও মানুষের বিভ্রান্তি?‌’‌ এই ফলের জন্য তিনি সিপিএম–‌কে দায়ী করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‌মুখ্যমন্ত্রী ক্রমাগত বলেছেন, রাম বাম এক। ফল ঘোষণার পর এটাই সত্য প্রমাণিত হল। বামেরা নিজেদের সব ভোট বিজেপি–‌কেই দিয়ে দিল। সিপিএমের গ্যাসে বিজেপি ফুলছে।’‌ 
পরাজয়ের পর সুব্রত মুখার্জি, মানস ভুঁইয়া অভিযোগ করেন, ‘‌নিজেদের প্রার্থীকে ভোট না দিয়ে সিপিএম বিজেপি প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে। কোথাও কোথাও বিজেপি প্রার্থী সিপিএমের ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছে।’‌ পার্থ এদিন বলেন, ‘‌সিপিএমের কর্মীরা বিজেপি–‌কে এগিয়ে দিয়েছে। পরাজিত হওয়া মানে হার নয়।’‌ বনগাঁর তৃণমূলের প্রার্থী মমতাবালা ঠাকুর হারের পর সিপিএমের বিরুদ্ধেই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘‌সিপিএম ঢেলে বিজেপি প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে। আমাদের কিছু করার ছিল না।’‌ কেউ কেউ এ–‌ও বলেছেন, ‘‌শুধু সিপিএম–‌ই নয়, কংগ্রেসও একই কাজ করেছে।’‌ পার্থ বলেন, ‘‌বামেরা বিজেপি–‌র দোসর। বামেরা কিন্তু ঐতিহাসিক ভুল করেছে।’‌ কালীঘাটে বৈঠকের আগে জেলায় জেলায় নির্দেশ পাঠানো হয়েছে যে, ফলাফলের ওপর রিপোর্ট তৈরি করে আনতে হবে। পরাজিত প্রার্থীরাও রিপোর্ট দেবেন মুখ্যমন্ত্রীকে। পর্যালোচনার পর পরবর্তী রণকৌশল ঠিক করা হবে। আগামী বছর কলকাতা পুরসভা নির্বাচন, ২০২১–‌এ বিধানসভা নির্বাচন। তাই এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করতে চায় দল। এদিন পার্থ বলেন, ‘‌নির্বাচনের আগে থেকে সাম্প্রদায়িক হাঙ্গামা শুরু করেছে বিজেপি। ফল ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি ধ্বংসাত্মক রাজনীতি শুরু করেছে। আগুন লাগানো হচ্ছে, ভাঙচুর করা হচ্ছে, আইন নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছে। বাংলার মানুষ এসব বরদাস্ত করবে না। আমরা জনগণের স্বার্থে গোলমাল হতে দেব না। প্রশাসন আছে। যেভাবেই হোক, এই গোলমাল বন্ধ করতে হবে। দাঙ্গাবাজের দল  শান্ত বাংলাকে অশান্ত করতে চাইছে। মমতার বিরুদ্ধে কুৎসা করছে। মিথ্যে খবর ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। কয়েকটি আসনে জিতে যা নয় তাই ভাবছে। এসব চলবে না। বাংলার মানুষের আস্থা মমতার ওপরেই রয়েছে। আমরা তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাব।

জনপ্রিয়

Back To Top