‌আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ করোনা মোকাবিলার জন্য আর্থিক সাহায্যের জন্য আবেদন জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এর আগে ২০০ কোটি টাকার একটি ত্রাণ তহবিল তৈরি করেছিলেন মমতা ব্যানার্জি। কিন্তু আগামী পরিস্থিতিকে মাথায় রেখে সেই তহবিল যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন তিনি। তাই আমজনতা সহ শিল্পপতিদের কাছে সাহায্যের আর্জি জানালেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, এই পরিস্থিতিতে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রের থেকে কোনও সাহায্য পায়নি রাজ্য সরকার। 
বুধবার সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি অতিরিক্ত ত্রাণ তহবিল গঠন করা ছাড়াও লকডাউন পরিস্থিতি নিয়ে কিছু কথা জানালেন। সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বললেন, দরকার পড়লে এক মাসের রেশন বাড়িতে পৌঁছে দেবে সরকার। কিন্তু দোকানে ভিড় করা যাবে না। পুলিশকেও হুঁশিয়ার করে দিলেন তিনি। জরুরি পরিষেবা ও খাবার সরবরাহ করার ক্ষেত্রে কাউকে আটকানো যাবে না। একইভাবে সব্জির গাড়িও আটকানো যাবে না। দোকানে ক্রেতারা কীভাবে দাঁড়াবেন ও বিক্রেতারা কীভাবে জিনিস সরবরাহ করবেন তা এঁকে বুঝিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জরুরি পরিষেবা গুলির সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের জন্য বিশেষ পাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেই পাস দেখালেই পুলিশ তাঁদের ছেড়ে দেবে। এছাড়া দু’‌টি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া কন্ট্রোল রুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১০৭০ ও ০৩৩২২১৪-৩৫২৬ নম্বরে ফোন করে এই কন্ট্রোল রুমে অভিযোগ জানানো যাবে। 
২০০ কোটি টাকার তহবিল থেকেই ৪ লক্ষ বিশেষ পোশাক, ২ লক্ষ সার্জিক্যাল মাস্ক, ২০ হাজার আইআর থার্মোমিটার, ৩০০ ভেন্টিলেটর এবং ৩টি ইসিএও মেশিনের কেনার অর্ডার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই তহবিল যথেষ্ট নয় বলেই মনে করছেন তিনি। তাই তিনি একটি অ্যাকাউন্ট নম্বর দিলেন। নম্বরটি– ৬২৮০০৫৫০১৩৩৯। আইএফএসসি কোড- আইসিআইসি০০০৬২৮০। এমআইসিআর কোড-৭০০২২৯০১০। এছাড়াও রাজ্যের আমলা সঞ্জয় বনশলের মোবাইল নম্বর এবং ইমেল (‌৯০৫১০২২০০০/‌wbsacs@gmail.com)‌ দিয়ে দিয়েছেন, যাতে জিনিসপত্র দিতে হলে তাঁকে যোগাযোগ করতে পারে সবাই। 
এছাড়াও যেই যেই সুবিধার কথা তিনি জানালেন, 
● দু’‌মাসের সামাজিক পেনশন একবারেই দেওয়া হবে। 
● প্রাণধারা প্রকল্পের জল বাড়ি অবধি দিয়ে আসা হবে। 
● প্রয়োজনীয় জিনিস বাড়ির দরজায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য কয়েকটি গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। 
● সরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকার জন্য হাসপাতালের আশেপাশের হোটেল বা বিয়েবাড়ি ভাড়া নেবে সরকার। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন, যাতে তারা সাফাইকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীর খাওয়ার ব্যবস্থা করেন। দরকার পড়লে তারা রাজ্য সরকারের কাছেও হাত পাততে পারে।

জনপ্রিয়

Back To Top