আজকালের প্রতিবেদন: ৩৫৬ ধারা নিয়ে রাজ্যপাল যে মন্তব্য করেছেন, তাঁর সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেন, ‘‌রাজ্যপালকে আমরা সম্মান করি। তিনি রাজনৈতিক ভাষণ দিচ্ছেন। তাঁর ভাষণকে আমরা সম্মান করি না। সংবিধানে রাজ্যপাল পদের একটা সীমা আছে। আমারও আছে। তাই এর বেশি কিছু বলব না।  ’‌ ক্ষোভের সঙ্গে মমতা বলেন, ‘‌বাংলায় যা খুশি করব, তা অত সহজ নয়। আমাদের হিট করলে পাল্টা হিট করা হবে। আমরা হাতে চুড়ি পরে বসে নেই, বাংলা ফেলনা নয়, খেলনা নয়.‌.‌.‌, বাংলার আলাদা সংস্কৃতি আছে। এই সংস্কৃতি ও কৃষ্টিকে ধ্বংস করতে চাইছে বিজেপি।’‌ এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের সমস্ত মানুষকে আবেদন জানিয়েছেন মমতা।‌ মৃত্যু নিয়ে রাজ্যপাল যে তথ্য দিয়েছেন, তা ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‌নির্বাচনের পর মোট ১০ জন খুন হয়েছেন। রাজ্যপাল বলেছেন ১২ জন। সব মৃত্যুই দুঃখজনক। খুন আমি সমর্থন করি না। বিজেপি–‌র ২ জন নিজেদের গুলিতে মারা গেছেন কিনা তারও খোঁজখবর করা হচ্ছে।’‌
মমতা বলেন, ‘‌বাংলায় বিজেপি নৈরাজ্যের নীতি নিয়ে এসেছে। গেরুয়া পরলেই সব কিছু হওয়া যায় না। মাথায় ফেট্টি বেঁধে বিজেপি–‌র গুন্ডারা বাংলায় অশান্তি করছে। আমরা কিন্তু কখনই কার্ল মার্কস এবং লেনিনের মূর্তি ভাঙতে যায়নি। বিদ্যাসাগর কলেজে বিজেপি–‌র গুন্ডারা বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙে দিল।’‌ মঙ্গলবার হেয়ার স্কুলের মাঠে বিদ্যাসাগর কলেজে বিদ্যাসাগরের মূর্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া প্রায় সকলেই বিদ্যাসাগরের আবক্ষ মূর্তিতে মালা দেন।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিজেপি–‌কে আক্রমণ করে মমতা বলেন, ‘গুজরাটের মানুষকে আমরা ভালবাসি, কিন্তু ‌বাংলাকে গুজরাট বানানোর চেষ্টা করা হলে, আমরা তা হতে দেব না। এতে যদি জেলে যেতে হয়, তাও যেতে রাজি আছি। ধমকানি, চমকানি আমরা মানি না।’‌ শান্ত বাংলাকে অশান্ত করার যে চেষ্টা করছে বিজেপি, তাতে মিডিয়া ঠিকমতো ভূমিকা পালন করছে না বলে মমতা অভিযোগ করেন। মিডিয়ার কাছ থেকে কোনও সাহায্য পাওয়া যাচ্ছে না বলেও তিনি জানান। মমতা বলেন, ‘‌বাংলা থেকে আমাদের উৎখাত করার চেষ্টা করা হলে জীবন দিয়ে রুখব।’‌ সব হিংসার নেপথ্যে রয়েছে বিজেপি। হিন্দি ভাষা নিয়েও মমতা বলেন, ‘‌হিন্দি ভাষা বাধ্যতামূলক করা হবে কেন?‌ আগস্ট মাসে আমি স্ট্যালিনের আমন্ত্রণে চেন্নাই যাব। করুণানিধির মূর্তি বসবে সেখানে।’‌
মেঘালয়ের রাজ্যপাল তথাগত রায় বাংলার মহিলাদের নিয়ে সম্প্রতি যে মন্তব্য করেছেন, তাতে ক্ষুব্ধ মমতা বলেছেন, ‘‌তিনি বাংলার মহিলাদের অসম্মান করেছেন। অপমান করেছেন।’‌
এদিন মঞ্চে অন্যদের সঙ্গে বসেছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক আবুল বাশার। বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে মমতা বলেন, ‘‌বিজেপি বলে আমি নাকি মুসলিম তোষণ করি বেশি। এই যে বাশারদা মঞ্চে বসে আছেন, আমি কি তাঁকে চলে যেতে বলব।’‌ ধর্ম নিয়ে বিজেপি যে রাজনীতি করছে, তার বিরোধিতা করে মমতা বলেন, ‘‌ভাগাভাগির রাজনীতি এরা শুরু করেছে। এই বাংলায় সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে থাকবে। সব ধর্মের উৎসবে আমি যাব। আমি কী করব, না–‌করব তা কেউ বলে দিতে পারে না।’‌‌ নির্বাচনের ফল বেরনোর পর থেকেই চারিদিকে সন্ত্রাস করছে বিজেপি বলে অভিযোগ করেছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‌কয়েকটা আসন পেয়ে ওরা খুনের রাজনীতি শুরু করেছে। বাংলার মানুষ এর জবাব দেবে।’‌
 ইতিমধ্যে ভোটের ফল নিয়ে দলের বৈঠকে পর্যালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেছেন, ‘‌সিপিএম সব ভোট বিজেপি–‌কে দিয়ে দিল। তাই বিজেপি–‌র আসন বেড়ে গেল। বিজেপি–‌র কাছে সিপিএম বিক্রি হয়ে গেল। এই নির্বাচনে হাজার হাজার কোটি টাকা বিজেপি খরচ করেছে। কোথা থেকে এত টাকা এল, তা নিয়ে খোঁজখবর করা হচ্ছে। ইভিএমে কারচুপি করে ওরা জিতেছে।’‌ মমতা ইভিএমের পরিবর্তে ব্যালট ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন।‌

জনপ্রিয়

Back To Top