সুকমল শীল: মাঝেরহাট ব্রিজের ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। লোকজনের জটলাও অনেক কম ভেঙে পড়া ব্রিজ চত্বরে। অনেক দূর থেকেও শোনা যাচ্ছে গ্যাসকাটার আর জেসিবি ড্রিলের জান্তব আওয়াজ। ছড়িয়ে–ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, লোডার, জেসিবি আর গ্যাস সিলিন্ডার। শনিবারের মধ্যেই ব্রিজের দু’‌পাশের গার্ডার ছাড়া অধিকাংশই ভেঙেচুরে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। পূর্ত দপ্তরের কর্মীরা কাজের তদারকি করছেন।
এদিন মাঝেরহাট স্টেশনের দিকের মাঝখানের অংশ জেসিবি দিয়ে ভাঙা শুরু হয়েছে। খালের জলের গতি বাড়াতে ভেঙেপড়া অংশের মাঝ–বরাবর কেটে ফেলা হয়েছে। আগের থেকে দ্রুতগতিতে বইছে জল। ভাঙা অংশ দ্রুত বোঝাই হচ্ছে ট্রাকে। একের পর এক ট্রাকভর্তি লোহা আর কংক্রিট চলে যাচ্ছে গন্তব্যে। পুরোটাই চলছে পুলিসি ঘেরাটোপে। কর্মীদের ছাড়া কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে গোটা চত্বর। 
তবে মাঝেরহাট স্টেশনের ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মের শেষ প্রান্তে প্রচুর ভিড় জমছে। ট্রেন থেকে নেমে অনেকেই আসছেন ‘‌ভাঙা ব্রিজ’‌ দেখতে। বিপর্যয় মোকাবিলা দলের গাড়ি এখনও রয়েছে। রয়েছেন প্রচুর পুলিসকর্মী। পুলিস ক্যাম্পগুলিও কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত থাকবে। ব্রিজের আশপাশে কাউকে ঘোরাঘুরি করতে দেখলেই জিজ্ঞাসাবাদ করছেন পুলিসকর্মীরা। দুর্ঘটনাগ্রস্ত অংশের পেছনের রাস্তায় ১০ ফুটের বেশি উঁচু গাড়ি ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। নিষেধাজ্ঞার ব্যানার লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। 
দুর্ঘটনাস্থল ও ব্রিজটি খতিয়ে দেখার পর বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন, ব্রিজের ভেঙেপড়া অংশের লাগোয়া অংশও নিরাপদ নয়। পুলিসের তরফে ওই চত্বর ফাঁকা করার বিষয়েও নির্দেশ দেওয়ার কথা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে বসবাসকারীরা এখনও রয়েছেন। চলছে ব্রিজের নিচের চায়ের দোকান। এদিনও পুলিসকর্মী–সহ অনেকেই সেখানে চা খেতে যাচ্ছেন। সেখানকার একটি বড় পাইপের ভেতরে কাপড় টাঙিয়ে সামান্য কিছু জিনিসপত্র নিয়ে সংসার বাপ্পা মণ্ডলের। রয়েছেন স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তান। ঘটনার আকস্মিকতা কেটে গেলেও চোখে–মুখে দুশ্চিন্তা আর ভয়ের ছাপ এখনও স্পষ্ট তাঁর। জানালেন, চোখ বুজলেই আতঙ্কের ছবিটা ভেসে উঠছে। অনেক দিন ধরেই এখানে বাস করছেন। আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। কাগজ, প্লাস্টিক ও পুরোনো জিনিসপত্র কুড়িয়ে দিন গুজরান। তবে এখনও এখান থেকে সরে যাওয়ার জন্য পুলিসের তরফে কিছু বলা হয়নি।  
ব্রিজের যে অংশটা ভেঙে পড়েছে, ঠিক তার পেছনের দিকে একটি ঝুপড়িতে এক মহিলা চায়ের দোকান–কাম–‌ভাতের হোটেল চালান। সেই ঝুপড়িতেই বাস তাঁর। মেট্রো প্রকল্পের কর্মীরা তাঁর দোকানে চা খেতে আসতেন। দুর্ঘটনার দিনও মৃত শ্রমিক গৌতম মণ্ডল সেখানে চা খেয়েছিলেন। দোকানি মহিলা জানালেন, এখনও আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা কাটিয়ে উঠতে পারেননি। পুলিস তাঁকে উঠে যাওয়ার বিষয়ে সেভাবে কিছু বলেনি। উঠে যেতে বললে কোথায় যাবেন তাও জানা নেই তাঁর। ‌‌

 

 

মাঝেরহাট ব্রিজের ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। শনিবার। ছবি: বিজয় সেনগুপ্ত

জনপ্রিয়

Back To Top