আজকালের প্রতিবেদন: ‌‌বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের বক্তব্য উড়িয়ে দিয়ে বৃহস্পতিবার তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, ‘‌দেবশ্রীকে নিয়ে ওঁর সঙ্গে কোনও কথা হয়নি। অপপ্রচার করা হচ্ছে।’‌ যদিও বৃহস্পতিবার দিলীপবাবু তাঁর অবস্থানে অনড় রয়েছেন। মহুয়া জানিয়েছেন, ‘‌১০ মার্চের পর দেবশ্রীর সঙ্গে আমার কোনও কথা হয়নি। দিলীপ ঘোষের সঙ্গে হাই–‌হ্যালো সম্পর্ক। এরই মধ্যে তিনি বিধানসভায় এসেছিলেন, আমিও ছিলাম। তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছিল। ওঁর সঙ্গে লোকসভার সেন্ট্রাল হলে দেখা হত। দেবশ্রীকে নিয়ে তো কোনও কথা হয়নি। বিধানসভায় যেদিন দেখা হল, সেদিন আমায় বললেন, করিমপুর যাচ্ছেন। আমি মজা করে তাঁকে বললাম, ওখানে গিয়ে আমাকে নিয়ে কোনও ঝামেলা তৈরি করবেন না। অযথা বিতর্কে আমি নেই।’‌ এদিন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জি বলেন, ‘‌কেউ কাউকে ফোন করবে, এটা বাইরে বলায় বিষয় নয়। মহুয়ার বিষয়টি সংসদীয় দল দেখবে।’‌
এদিন বোলপুরে‌ সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিজেপি–‌র রাজ্য সভাপতি বলেন, ‘‌মহুয়ার সঙ্গে হালকা স্বরে কথা হচ্ছিল। উনি জানতে চাইলেন, দেবশ্রী বিজেপি–‌তে যোগ দিয়েছেন কিনা?‌ আমি বললাম, না, এখনও দেননি। তখন উনি বলেন, ও তো আপনার সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিল। ও বেচারা খুব হতাশ।’‌ সাংবাদিকদের দিলীপবাবু বলেন, ‘‌আমি মহুয়াকে বলি আমার কাছে ওর ফোন নম্বর নেই। একজনের মোবাইল মারফত পরে কথা হয়। দেবশ্রী জানান,  কোনও এক এনজিও তাঁর কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাঁকে দিল্লির বিজেপি–‌র অফিসে নিয়ে যায়। সেদিনই শোভনদা দিল্লির পার্টি অফিসে ছিলেন। দলে যোগও দেন। এ নিয়ে জলঘোলা হয়েছে। দেখা যাক কী হয়।’‌
এদিন শোভন চ্যাটার্জি এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ‘‌আমি আর বৈশাখী বিজেপি–‌তে যোগ দেওয়ার পরেই আমার মনে হয় একটা ষড়যন্ত্র হচ্ছে। সেটা অরবিন্দ মেননকে জানিয়েছিলাম। দেবশ্রীর ব্যাপারে আপত্তির কথা ওইদিনই বিজেপি নেতাদের লিখিতভাবে জানিয়ে দিই। দিলীপ ঘোষকেও জানিয়ে দিই। ষড়যন্ত্র যে হচ্ছিল, এটা প্রমাণিত হতে চলেছে। কেউ বা কারা যোগসূত্র করে বিষয়টিকে একটি জটিল জায়গায় নিয়ে যেতে চাইছে। এর পেছনে কোনও অভিসন্ধি রয়েছে বলে‌ও জানিয়ে দেওয়া হয়। মহুয়ার ব্যাপারে নেতাদের কিছু জানিয়েছিলাম। তিনি আমার বিচ্ছেদের মামলার ব্রিফ নিয়ে অনেক জায়গায় গিয়েছিলেন। সেটাও বিজেপি নেতারা জানতেন। শুনেছি দেবশ্রী তাঁর সহযোগী ছিলেন। আমার পারিবারিক জটিলতা নিয়ে তাঁরা যোগাযোগ রাখতেন। দিলীপবাবুই তো বলছেন, কেউ একটা ষড়যন্ত্র করছে। সেদিন যাঁরা দিল্লিতে উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের সঙ্গেই দেবশ্রী গিয়েছিলেন। কেউ কেউ বলছেন, জয়প্রকাশ মজুমদারের সঙ্গে তিনি গিয়েছিলেন। আমি জানি না, সত্যি ওঁরা এনজিও–‌র সঙ্গে যুক্ত আছেন কিনা?‌’‌ পাল্টা জয়প্রকাশ বলেছেন, ‘‌শোভনবাবু কোন তথ্যের ওপর বলেছেন জানি না। দেবশ্রী রায়ের সিনেমা দেখা ছাড়া এ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে ফোনে বা সামনে দাঁড়িয়ে কথা আমার জীবদ্দশায় হয়নি। মনে হয়, শোভনবাবুর বিজেপিতে আসা, না–‌আসা, নারদার চিঠি ইত্যাদি নিয়ে কোনও আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভুগছেন। তাঁকে হয়ত কেউ ভুল বোঝাচ্ছে। ওঁরা দিল্লি যাওয়ার পরদিন সকালে আমি যাই। ওঁরা আসার অনেক আগেই আমরা পার্টি অফিসে ছিলাম। ওঁরা আসা থেকে বেরোনো পর্যন্ত ওঁদের সঙ্গেই ছিলাম। শুনলাম ওঁদের পেছন পেছনই দেবশ্রীদেবী ঢুকেছিলেন। আমার সামনেই বৈশাখী শোভন চ্যাটার্জির কাছে অভিযোগ করেন যে দেবশ্রীকে তুমিই ডেকে পাঠিয়েছ, তোমার পুরনো সম্পর্কের জোরে। উনি সেটার প্রতিবাদ করেন ওখানেই।’‌‌
অন্যদিকে, বিধায়ক মনিরুল ইসলামকে লাভপুরের জনসভায় মঞ্চে দেখা যায়নি। রাজ্য সভাপতি থেকে শুরু করে ছোট–‌বড় কোনও নেতাই মনিরুলের নাম উচ্চারণ করেননি। দিলীপবাবুর বক্তব্য, যার যা কেস তাকেই সামলাতে হবে। আদালতে যেতে হবে। বিজেপি কোনওভাবেই এর সঙ্গে যুক্ত হবে না।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top