‌অমিতকুমার ঘোষ,কৃষ্ণনগর: এগজিট পোলে কৃষ্ণনগর কেন্দ্রে তৃণমূলের মহুয়া মৈত্রকে বিজয়ী বলেছে। অবশ্য তৃণমূল এগজিট পোলে বিশ্বাস করে না। ভোট গণনা নিয়ে মহুয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি শেষ হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি তৃণমূল চালাচ্ছে যথারীতি জনসংযোগ। কারণ তৃণমূলের বিশ্বাস, সারা বছর জনগণের পাশে থাকলে ভোটের বৈতরণী পার হওয়া খুবই সহজ। তাই তঁারা সারা বছরই জনগণের পাশে থেকে নানা কাজ করে থাকেন।
কৃষ্ণনগর কেন্দ্রে ভোট হয়ে গিয়েছে সেই ২৯ এপ্রিল। তারপর থেকে এভাবেই চলছে। এবার এখানে জিতলে পরপর তিনবার জিতে হ্যাটট্রিক করবে তৃণমূল। আগের দু’‌বার জিতেছিলেন তৃণমূলের তাপস পাল। বৃহস্পতিবার সারা দেশের সঙ্গে এখানেও ভোটগণনা। এখন তার প্রস্তুতিও চলছে। গণনা কেন্দ্রে কারা এজেন্ট থাকবেন, সেটা ঠিক করা হয়ে গিয়েছে। সেই এজেন্টদের নিয়েও সভা করেছেন মহুয়া। কৃষ্ণনগর পুরসভার দ্বিজেন্দ্র সভাকক্ষে এই সভা হয়। সেখানে মহুয়া এজেন্টদের বুঝিয়ে দেন কীভাবে কাজ করতে হবে। কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এজেন্টরা এসেছিলেন এইদিন। এগজিট পোল নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে মহুয়া নিজের মতো করে গণনা কেন্দ্রে ঠিকভাবে কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি বলেছেন, ‘‌জেতার ব্যাপারে আমি প্রথম থেকেই আশাবাদী। সে বিষয়ে আমি চিন্তাই করছি না।’‌
কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের জন্যে দলনেত্রী মমতা ব্যানাজি৴ বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছিলেন কৃষ্ণনগর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান অসীম সাহাকে। তিনিও বিভিন্ন বিষয়ে মহুয়াকে সাহায্য করছেন। অসীম সাহা বলেছেন, ‘‌এগজিট পোলে আমরা বিশ্বাস করি না। এগজিট পোলের হিসাব মিলবেও না। আর কৃষ্ণনগর কেন্দ্রের জয়ের বিষয়ে আমরা প্রথম থেকেই নিশ্চিত।’‌ কৃষ্ণনগর কেন্দ্রের একাংশে বিজেপি–র হাওয়া আছে। বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনেও কিছু এলাকায় বিজেপি ভাল ফল করেছিল। তা সত্ত্বেও এখানে তৃণমূল জিতবে বলেই দলের নেতাদের আশা। ভোটের ফল বের হওয়ার পরে যাতে কোথাও কোনও অশান্তি না হয়, সে বিষয়েও সজাগ এখানকার তৃণমূল নেতারা। এবার এখানে জিতলে হ্যাটট্রিক করবে তৃণমূল। এর আগে ২০০৯ ও ২০১৪ সালে এখানে তৃণমূলের তাপস পাল জিতেছিলেন। গতবার অর্থাৎ ২০১৪ সালে তাপস পাল পেয়েছিলেন ৪,৩৮,৭৮৯টি ভোট। আর তঁার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিএমের শান্তনু ঝা পেয়েছিলেন ৩,৬৭,৫৩৪টি ভোট। অর্থাৎ সেবার তৃণমূল জিতেছিল ৭১,২৫৫ ভোটে। অন্যদিকে, বিজেপি–র সত্যব্রত মুখার্জি (জলুবাবু) ৩,২৯,৩৮৭টি ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছিলেন।
এবার পরিস্থিতি কিছুটা পাল্টাছে। বিজেপি প্রার্থী এবার কল্যাণ চৌবে। বিজেপি এবার বেশ কিছু জায়গায় শক্তি বাড়িয়েছে। সেই কারণে এবার অনেকেই মনে করছেন মূল লড়াই হবে তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপি–র। প্রচার চালাকালীন মহুয়া অবশ্য এ বিষয়ে কিছু বলতে চাননি। তবে তিনি তখন বলেছিলেন, সিপিএমের যিনি প্রার্থী হয়েছেন, তিনি খুবই উচ্চশিক্ষিত এবং সুপ্রতিষ্ঠিত। গত প্রায় দুইমাস ধরে মহুয়া কৃষ্ণনগরের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রোডে তঁার নির্বাচনী কার্যালয়ে থেকে নির্বাচন পরিচালনা করেছেন। সেখানে ছিল তঁার বেশ কয়েকজন ব্যক্তিগত সহকারী। এতদিন এটাই ছিল তঁার ওয়ার রুম। এখন সেই ওয়ার রুমে থেকেই গণনার প্রতীক্ষা করছেন মহুয়া। মহুয়ার দিদিমা ইলা পালচৌধুরি একসময়ে কৃষ্ণনগর কেন্দ্রের সাংসদ ছিলেন। সেই কারণে মহুয়া সারা ভারতের যত লোকসভা কেন্দ্র আছে, তার মধ্যে কৃষ্ণনগর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হতেই বেশি উৎসাহী ছিলেন। সেকথা তিনি আগেই জানিয়েছেন। এখন সাংসদ হিসেবে এই কেন্দ্র থেকেই দিল্লি যেতে চাইছেন তিনি।

কৃষ্ণনগরে বৈঠকের পর মহুয়া। ছবি: প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top