আজকালের প্রতিবেদন‌‌‌: পশ্চিমবঙ্গের নিজস্ব লোগোর আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। নিজের আঁকা এই লোগো শুক্রবার নবান্নে উদ্বোধন করার পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌রাজ্যবাসীকে নববর্ষের উপহার এই লোগো। রাজ্যের মুকুটে একটা বড় পালক সংযোজিত হল। স্বাধীনতার ৭০ বছর পর রাজ্য তার নিজস্ব লোগো পেল। এতদিন এটা কেউ ভাবেইনি যে রাজ্যের একটা নিজস্বতা থাকা উচিত। অনেক রাজ্যেরই নিজস্ব লোগো রয়েছে।’‌  মুখ্যমন্ত্রীর ভাবনায় বিষয়টি যখন আসে তখনই এই লোগো নিয়ে রাজ্যের সরকার উদ্যোগী হয়। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই লোগো আঁকেন। তারপর সেটি রাজ্য মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়ার পর, কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হয়।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‌লোগোটি স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য অনেকদিন আগে কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হয়েছিল। বুধবার এই লোগো কেন্দ্রের স্বীকৃতি পায়। শুক্রবার থেকেই রাজ্য সরকার এই লোগো ব্যবহার শুরু করেছে। ধীরে ধীরে সব সরকারি নথিপত্রেই এই লোগো ব্যবহার করা হবে। তার জন্য প্রয়োজনীয় গেজেট বিজ্ঞপ্তিও হয়ে গেছে।’‌ মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন এটা রাজ্যের বড় পাওনা। তাই এই লোগোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মুহূর্তটিকে ঐতিহাসিক বলে আখ্যা দিয়েছেন। 
লোগোর অনুমোদন পাওয়ার পর, রাজ্যের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়েও আশাবাদী তিনি। পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন করে ‘‌বাংলা’ করার জন্য প্রায় একই সঙ্গে কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হয়েছিল। লোগো অনুমোদন পেয়ে গেছে, এবার রাজ্যের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবটিও কেন্দ্রীয় অনুমোদন পাবে মনে করছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‌রাজ্যের নাম পরিবর্তনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রের কাছে। এখনও অনুমোদন পাওয়া যায়নি। আলোচনা হয়েছে। অনুমোদন পেলে জানানো হবে।’‌ 
প্রসঙ্গত, গত বছরের শুরুর দিকে পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন করতে চেয়ে কেন্দ্রের কাছে পাঠায় রাজ্য সরকার। রাজ্যের নাম বাংলাতে ‘‌বাংলা’‌, হিন্দিতে ‘‌বঙ্গাল’‌ ও ইংরেজিতে ‘‌বেঙ্গল’‌–‌ এর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। কেন্দ্রের তরফ থেকে জানানো হয় তিন ভাষায় তিন রকম নাম হতে পারে না। একটা নামই পাঠাতে হবে যা তিন ভাষাতে ব্যবহৃত হবে। সেই মতো বিধানসভায় পশ্চিমবঙ্গ নাম বদলে ‘‌বাংলা’‌ রাখার প্রস্তাবটি পাস হওয়ার পর কেন্দ্রের কাছে তা অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। রাজ্য সরকার এর আগে বেশ কয়েকবার কেন্দ্রকে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু কেন্দ্র এখনও পর্যন্ত নিশ্চুপ। মুখ্য সচিব মলয় দে লোগোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের দিনটিকে ‘‌গ্রেট লেটার ডে’‌ হিসেবে চিহ্নিত করতে চান। বলেন, ‘‌সব রাজ্যেরই নিজস্বতা থাকা উচিত। এতদিনে এই রাজ্য তা পেল। এটা আনন্দের বিষয়।’‌ এদিন অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সব সদস্যই উপস্থিত ছিলেন। মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব–‌সহ সব দপ্তরের সচিবরাও ছিলেন।
ই–টেন্ডারে রাজ্য পুরস্কৃত 
সবচেয়ে বেশি ই–‌টেন্ডারিংয়ের জন্য রাজ্যকে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক পুরস্কৃত করেছে। বৃহস্পতিবার, রাজ্য এই পুরস্কার পেয়েছে বলে শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি জানান। তিনি বলেন, ‘‌৩৬ হাজার কোটি টাকার ৫৩ হাজার টেন্ডার, ই–টেন্ডারের মাধ্যমে করা হয়েছে বলে এই পুরস্কার পাওয়া গেছে। কেন্দ্রের অর্থমন্ত্রক ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক যৌথভাবে রাজ্যেকে এই ‘‌বেস্ট অ্যাওয়ার্ড’ দিয়েছে’‌। মুখ্যমন্ত্রী এই পুরস্কারের জন্য সবাইকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‌রাজ্যে এখন এত‌ আর্থ সামাজিক এবং সামাজিক প্রকল্প রয়েছে যা আগে কখনও ভাবা হয়নি। এই প্রকল্পগুলি যদি প্রতিটি মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে সব প্রকল্প সাধারণ মানুষের কাজে আসে।’‌ প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের শুরু থেকেই সরকারিভাবে সব দপ্তরে ই–অফিস চালু করেছে প্রশাসন। আশা করা যায় আর কিছুদিনের মধ্যেই কোনও সরকারি দপ্তরে আর কোনও ফাইল থাকবে না। সব কাজ হবে অনলাইনে।‌‌‌‌

 

রাজ্যের প্রতীক। উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী। নবান্নে, শুক্রবার। ছবি: বিজয় সেনগুপ্ত

জনপ্রিয়

Back To Top