সঙ্ঘমিত্রা মুখোপাধ্যায়: পুজোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেমন্ট শহরে। হবে না–ই বা কেন। কুমোরটুলি থেকে দুর্গাপ্রতিমা যে পৌঁছে গেছে ফ্রেমন্ট শহরের হিন্দু মন্দিরে। প্রায় পঞ্চাশ দিন প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে দুর্গাপ্রতিমা পৌঁছেছে লস অ্যাঞ্জেলেসের বন্দরে, সেখান থেকে ওকল্যান্ড হয়ে ফ্রেমন্ট। প্লাইয়ের প্যাকিং বাক্সে ফাইবারের প্রতিমা একেবারে অক্ষত, জানালেন ফ্রেমন্ট শহরের বৈদিক ধর্ম সমাজের সদস্য অভিজিৎ নিয়োগী। পঁাচ বছর পর এবার নতুন প্রতিমা আনা হয়েছে ফ্রেমন্ট হিন্দু মন্দিরে। তাই উৎসাহ–উদ্দীপনা স্বভাবতই বেশি। মন্দির হলেও পুজো হয় বারোয়ারি উদ্যোগে।
প্রতিমা শিল্পী প্রশান্ত পাল জানালেন, গত ফেব্রুয়ারিতে বায়না করেছেন উদ্যোক্তারা। প্রায় তিন মাস লেগেছে সাত ফুটের ওই প্রতিমা তৈরি করতে। প্রবাসের প্রতিমা তৈরি করতে অনেক বেশি যত্ন ও মনোযোগ দিতে হয়। মজবুত করার জন্য প্রয়োজন একটু উচ্চমানের উপকরণ। যেমন, মাথার চুল সাঁটতে হয় ফেভিকল দিয়ে। ব্রোকেড কাপড়, প্লাই, বাটাম সবই উচ্চমানের লাগে, যাতে চার–পাঁচ বছর স্বচ্ছন্দে টিকে যেতে পারে ওই প্রতিমা। বিদেশে বিসর্জনের জায়গা না থাকায়, একই প্রতিমা অঙ্গসজ্জা বদল করেই বারবার পূজিতা হন। ফ্রেমন্ট মন্দিরের দুর্গা প্রতিমার জন্যও পাঠানো হয়েছে দু ধরনের সাজ। একটি সাজে সোনালি জরির সূক্ষ্ম কাজের ওপর চুমকি বসানো, অন্যটি সাদা, ডায়মন্ডের। হীরের দ্যুতির আভায় সাজ হবে নয়নশোভন। পুজো–উদ্যোক্তা দীপক ছাবড়া জানালেন, একচালার প্রতিমার দাম পড়েছে ২,২০০ ডলার। পরিবহণ খরচও ধরা আছে।  এখানে একেবারে পঞ্জিকার নির্ঘণ্ট মিলিয়ে পুজো হয়। দেবীর বোধন, কলাবউ স্নান, সন্ধি পুজো, আরতি, দশমীর পর সিঁদুরখেলা কিছুই বাদ পড়ে না। মহাষ্টমীর দিন সবাই চেষ্টা করেন ছুটি নিতে। এই পুজোর পুরোহিত জয়ন্ত পান্ডা নাসার বিজ্ঞানী। পুজো কমিটির আরেক সদস্য সুমিতা নিয়োগী জানিয়েছেন, ২২ বছর এখানে আছি। এত আনন্দ হয় যে, কলকাতা যাওয়ার প্ল্যান করতে ইচ্ছে করে না। প্রায় পঁচিশ বছরের পুরোনো এই পুজো। পুজোর চারদিন সন্ধ্যায় থাকে নানারকম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। 

জনপ্রিয়

Back To Top