‌অমিতকুমার ঘোষ, কৃষ্ণনগর: ১৫ আগস্ট নয়, নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের শিবনিবাসে স্বাধীনতা দিবস পালিত হয় ১৮ আগস্ট। কারণ সারা দেশ ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতার স্বাদ পেলেও নদিয়ার শিবনিবাসের মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছিলেন তিনদিন পর ১৮ আগস্ট। সেই ঘটনার স্মরণে শিবনিবাসে প্রত্যেক বছর আগস্ট মাসের ১৮ তারিখেই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে স্বাধীনতা দিবস পালন করেন স্থানীয়রা। 
১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট দেশ স্বাধীন হয়। সেই সময় নদিয়া জেলায় বিভিন্ন এলাকায় নানা বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল।  বাসিন্দারা বুঝতে পারছিলেন না তঁারা ভারতে আছেন না, পূর্ব পাকিস্তানে! প্রথমে জানা গিয়েছিল, কৃষ্ণনগর–সহ এই জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা যাবে পূর্ব পাকিস্তানে। ফলে কৃষ্ণনগরের অনেকেই ভারতের স্বাধীনতার আনন্দে শরিক হতে কৃষ্ণনগর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ভাগীরথী নদী পেরিয়ে নবদ্বীপে যান। সেখানে ভারতের জাতীয় পতাকা তোলেন। কারণ নবদ্বীপ শহর জেলার সব থেকে পশ্চিমে এবং পূর্ব পাকিস্তান সীমান্ত থেকে সব থেকে দূরে। সেই এলাকা অন্তত ভারতে থাকবে বলেই সকলে অনুমান করেছিলেন। সেই সময় নদিয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ রাতে ঘুমাতে পারেননি। কারণ নদিয়ার বিস্তীর্ণ অংশ পাকিস্তানে চলে যাবে বলে অনেকেই প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন। অনেকে আবার এই এলাকা যাতে ভারতে থাকে, সেইজন্য সুপারিশ শুরু করেছিলেন। তৎকালীন কংগ্রেস নেতারা তো বটেই, এমনকী কৃষ্ণনগরের মহারানি জ্যোতির্ময়ী দেবীও এবিষয়ে দাবি তুলেছিলেন। তঁারা দিল্লির দরবারে এবিষয়ে দাবি জানান। এমনকী, কৃষ্ণনগর শহরের কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তিও এই বিষয়ে তৎপর হন। পরে ১৭ আগস্ট রাতে রেডিও–তে জানা যায়, এই এলাকাটি ভারতেই রয়েছে। সেই অনুযায়ী ১৮ আগস্ট বর্তমান নদিয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। 
কৃষ্ণনগর শহরের পাবলিক লাইব্রেরির মাঠে সেই দিন জাতীয় পতাকা তোলা হয়েছিল। তবে এখন জেলা সদর কৃষ্ণনগর–সহ প্রায় সব জায়গাতেই সারা দেশের সঙ্গে ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়। শুধুমাত্র কৃষ্ণগঞ্জের শিবনিবাসের সেই সময়কার ঘটনা স্মরণে রেখে ১৮ আগস্ট জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়। এটি একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। এই উপলক্ষে এখানে গঠিত হয়েছে ১৮ আগস্ট কমিটি। সেই কমিটির উদ্যোগে রবিবার এখানে জাতীয় পতাকা তোলা হয়। পদযাত্রা–সহ নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি পালন করা হয়। সেখানে চূর্ণী নদীতে জাতীয় পতাকা নিয়ে বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন মহিলারা। পাশাপাশি নৃত্যানুষ্ঠান, জাতীয় সঙ্গীত এবং কথা ও কবিতায় দিনটি স্মরণ করা হয়। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃষ্ণগঞ্জের বিধায়ক আশিসকুমার বিশ্বাস, রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকার–সহ অনেকেই। স্থানীয় বহু মানুষও ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

জনপ্রিয়

Back To Top